শহীদ রেজাউল করিম রাসেল
আওয়ামী দুঃশাসনের বিগত ১৬ বছরের ফ্যাসিবাদবিরোধী শহীদ
📝 সংক্ষিপ্ত পরিচিতি
চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডের মধ্যম ইয়াকুব নগরে জন্ম নেওয়া রেজাউল করিম রাসেল (২৫) ছিলেন জামায়াতের সহযোগী সদস্য। স্থানীয়ভাবে পরিচিত শান্ত স্বভাবের এই তরুণ কর্মী ৯ ডিসেম্বর ২০১৩ হরতাল কর্মসূচির মিছিলে অংশ নিতে গিয়ে পুলিশের ধাওয়ায় পাহাড়ের দিকে ছুটে ওঠার পর কাছ থেকে গুলিবিদ্ধ হয়ে নিহত হন তিনি। দরিদ্র পরিবারের সন্তান রাসেল দীর্ঘদিন ধরেই অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদে সক্রিয় ছিলেন এবং বন্ধুদের কাছে শহিদি মৃত্যুর আকাঙ্ক্ষার কথা জানাতেন। তার মৃত্যু স্থানীয়ভাবে তীব্র শোক, ক্ষোভ ও সরকারি বর্বরতার অভিযোগকে আরও জোরদার করে।
🩸 শাহাদাতের ঘটনা ও বিস্তারিত বিবরণ
শহীদ রেজাউল করিম রাসেল
চট্টগ্রাম
২৫
শহীদের পরিচিতি
শহীদ রেজাউল করিম রাসেল ছিলেন চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড উপজেলার মধ্যম ইয়াকুব নগরের জাফর আহমদের পুত্র। তিনি ১৯৯৩ সালের ০৩ ডিসেম্বর সীতাকুণ্ডে জন্মগ্রহণ করেন। মাতার নাম মনোয়ারা বেগম। শহীদ রেজাউল করিম রাসেল বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কর্মী। এক ভাই দুই বোনের সংসারে শহীদ রাসেল ছিলেন দ্বিতীয়। তিনি ১০ম শ্রেণি পর্যন্ত পড়ালেখা করেছিলেন। আর্থিক অসচ্চলতার কারণে বেশী লেখাপড়া করতে পারেননি।
যেভাবে তিনি আল্লাহর ডাকে চলে যান
চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড এর জনসাধারণ সরকারের জুলুম-নির্যাতনের বিরুদ্ধে সোচ্চার। সকল অন্যায়ের বিরুদ্ধে তারা রাস্তায় নেমে আসে। জনগণের প্রতিরোধের মুখে প্রশাসন দুর্বল হয়ে পড়ে। বেছে নেয় গুম ও খুনের পথ। সীতাকুণ্ডের আমিনুল ইসলামকে কুমিল্লা থেকে গুম করে অজ্ঞাত স্থানে রেখে ৪দিন নির্মমভাবে নির্যাতনের পর হত্যা করে রাস্তায় ফেলে দেয়। এর প্রতিবাদে জনসাধরণ আরো বিক্ষুব্ধ হয়ে উঠে। শহীদ রেজাউল করিম রাসেলও রাস্তায় নামেন এ জুলুমের প্রতিবাদে। এক পর্যায়ে পুলিশের ধাওয়ায় কয়েকজন কর্মী পাহাড়ে উঠে পড়ে। তখন পুলিশ গুলি চালালে কয়েকজন গুলিবিদ্ধ হয়ে পাহাড় থেকে পড়ে গেলে পুলিশ রেজাউল করিম রাসেলকে বুকে অস্ত্র ঠেকিয়ে গুলি করে হত্যা করে।
শাহাদাতের পূর্বের বিভিন্ন ঘটনা
তিনি সব সময় বন্ধুদের কাছে শহিদী মৃত্যুর কথা বলতেন। আহত হওয়ার পর সবাইকে বলেন ইসলামী আন্দোলনের জন্য রক্ত দেয়ার প্রয়োজন আছে, আন্দোলনের কাজে সবাই সামনে এগিয়ে চলুন।
সামগ্রিক ঘটনার বিবরণ
৯ ডিসেম্বর ২০১৩ সরকারের পরিকল্পিত রাজনৈতিক হত্যাকাণ্ডের ষড়যন্ত্রের প্রতিবাদে দেশব্যাপী সকাল-সন্ধ্যা সর্বাত্মক হরতাল কর্মসূচী চলছিল। উক্ত কর্মসূচীর সমর্থনে সীতাকুণ্ডে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে মিছিলের আয়োজন করে স্থানীয় জামায়াত। উক্ত মিছিলে শামিল ছিলেন শহীদ রেজাউল করিম রাসেলও। এক পর্যায়ে পুলিশের ধাওয়ায় কয়েকজন কর্মী পাহাড়ে উঠে পড়ে। তখন পুলিশ গুলি চালালে কয়েকজন গুলিবিদ্ধ হয়ে পাহাড় থেকে পড়ে গেলে পুলিশ রেজাউল করিম রাসেলকে বুকে অস্ত্র ঠেকিয়ে গুলি করে হত্যা করে। হত্যার পর লাশ ফেলে গেলে শহীদের পরিবারের সহায়তায় স্থানীয় সংগঠন জানাযা ও দাফনের ব্যবস্থা করে। এরপর পুলিশ এসে লাশ গুমের অভিযোগ তুলে কবর থেকে লাশ উত্তোলন করে এবং এ ঘটনায় পুলিশ বাদী হয়ে স্থানীয় নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করে।
স্থানীয়রা বলেন, তিনমাস পরে লাশ তুললেও দেখা যায় লাশটি তখনও অক্ষত আছে।
আপনজনদের কথা
শহীদ রেজাউল করিম রাসেলের মা বলেন, আমার ছেলে এত বড় হয়েছিল। অথচ কোনদিন আমাদের সাথে খারাপ ব্যবহার করেনি। আমার সামনে থেকে ওরা আমার ছেলেকে কেড়ে নিয়ে গেছে। শহীদের পিতা বলেন- আল্লাহ যেন আমার সন্তানের কুরবানীকে কবুল করেন এবং তাকে জান্নাত দান করেন, আমীন। জামায়াত কর্মী ও তৎকালীন সীতাকুণ্ড উপজেলার শিবির সভাপতি জনাব মেছবাহুল আলম রাসেল বলেন-শহীদ রেজাউল করিম রাসেল ছিলেন বিচক্ষণ ও সাহসী, সদালাপী, সব সময় আন্দোলন সংগ্রামে স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ করতেন। দীর্ঘদিন ঘরে ঘুমাতে পারেননি। অত্যন্ত কষ্টে রাত অতিবাহিত করতেন।
শহীদের পরিবার
পেশাগতভাবে শহীদ রাসেল মৌসুমী কৃষি কাজ করতেন এবং অধিকাংশ সময়ই ছিলেন বেকার। তাঁর দুই ভাই দুই বোনের সংসারে সবার বড় নাজমা আক্তার বিবাহিতা এবং এক ছেলে ও এক মেয়ের মা। সংসারে দ্বিতীয় নম্বরে আছেন শহীদ নিজে। তৃতীয় ফজলুল করিম এ বছর এসএসসি পরীক্ষার্থী। চতুর্থ নম্বরে আসমা আক্তার এবার অষ্টম শ্রেণিতে পড়েন।
ভাই-বোনের বিবরণ
১. নাজমা আক্তার, ২৬ বছর, বিবাহিতা।
২. শহীদ রেজাউল করিম রাসেল
৩. ফজলুল করিম নিশান, ১২বছর, ৪র্থ শ্রেণি।
৪. নাজমা আক্তার ইসমা, ৮বছর, ২য় শ্রেণি।
এক নজরে শহীদ রেজাউল করিম রাসেল
নাম: রেজাউল করিম রাসেল
পিতার নাম: জাফর আহমদ
পিতার পেশা: প্রবাসী
মাতার নাম: মনোয়ারা বেগম
মাতার পেশা: গৃহিণী
জন্য তারিখ: ০৩ ডিসেম্বর ১৯৯৩
স্থায়ী ঠিকানা: মধ্যম ইয়াকুব নগর, ১ নং ওয়ার্ড, সীতাকুণ্ড, চট্টগ্রাম।
ভাই-বোন: ২ ভাই, ২ বোন (দ্বিতীয়)
সাংগঠনিক মান: সহযোগী সদস্য, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী
আহত হওয়ার স্থান: ঢাকা চট্টগ্রাম মহাসড়ক, সীতাকুণ্ড
শহীদ হওয়ার স্থান: ঢাকা চট্টগ্রাম মহাসড়ক, সীতাকুন্ড
আঘাতের ধরন: বুকে গুলি করে হত্যা
যাদের আঘাতে শহীদ: বাংলাদেশ পুলিশ
শাহাদাতের তারিখ: ৯ ডিসেম্বর ২০১৩
চট্টগ্রাম
২৫
শহীদের পরিচিতি
শহীদ রেজাউল করিম রাসেল ছিলেন চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড উপজেলার মধ্যম ইয়াকুব নগরের জাফর আহমদের পুত্র। তিনি ১৯৯৩ সালের ০৩ ডিসেম্বর সীতাকুণ্ডে জন্মগ্রহণ করেন। মাতার নাম মনোয়ারা বেগম। শহীদ রেজাউল করিম রাসেল বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কর্মী। এক ভাই দুই বোনের সংসারে শহীদ রাসেল ছিলেন দ্বিতীয়। তিনি ১০ম শ্রেণি পর্যন্ত পড়ালেখা করেছিলেন। আর্থিক অসচ্চলতার কারণে বেশী লেখাপড়া করতে পারেননি।
যেভাবে তিনি আল্লাহর ডাকে চলে যান
চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড এর জনসাধারণ সরকারের জুলুম-নির্যাতনের বিরুদ্ধে সোচ্চার। সকল অন্যায়ের বিরুদ্ধে তারা রাস্তায় নেমে আসে। জনগণের প্রতিরোধের মুখে প্রশাসন দুর্বল হয়ে পড়ে। বেছে নেয় গুম ও খুনের পথ। সীতাকুণ্ডের আমিনুল ইসলামকে কুমিল্লা থেকে গুম করে অজ্ঞাত স্থানে রেখে ৪দিন নির্মমভাবে নির্যাতনের পর হত্যা করে রাস্তায় ফেলে দেয়। এর প্রতিবাদে জনসাধরণ আরো বিক্ষুব্ধ হয়ে উঠে। শহীদ রেজাউল করিম রাসেলও রাস্তায় নামেন এ জুলুমের প্রতিবাদে। এক পর্যায়ে পুলিশের ধাওয়ায় কয়েকজন কর্মী পাহাড়ে উঠে পড়ে। তখন পুলিশ গুলি চালালে কয়েকজন গুলিবিদ্ধ হয়ে পাহাড় থেকে পড়ে গেলে পুলিশ রেজাউল করিম রাসেলকে বুকে অস্ত্র ঠেকিয়ে গুলি করে হত্যা করে।
শাহাদাতের পূর্বের বিভিন্ন ঘটনা
তিনি সব সময় বন্ধুদের কাছে শহিদী মৃত্যুর কথা বলতেন। আহত হওয়ার পর সবাইকে বলেন ইসলামী আন্দোলনের জন্য রক্ত দেয়ার প্রয়োজন আছে, আন্দোলনের কাজে সবাই সামনে এগিয়ে চলুন।
সামগ্রিক ঘটনার বিবরণ
৯ ডিসেম্বর ২০১৩ সরকারের পরিকল্পিত রাজনৈতিক হত্যাকাণ্ডের ষড়যন্ত্রের প্রতিবাদে দেশব্যাপী সকাল-সন্ধ্যা সর্বাত্মক হরতাল কর্মসূচী চলছিল। উক্ত কর্মসূচীর সমর্থনে সীতাকুণ্ডে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে মিছিলের আয়োজন করে স্থানীয় জামায়াত। উক্ত মিছিলে শামিল ছিলেন শহীদ রেজাউল করিম রাসেলও। এক পর্যায়ে পুলিশের ধাওয়ায় কয়েকজন কর্মী পাহাড়ে উঠে পড়ে। তখন পুলিশ গুলি চালালে কয়েকজন গুলিবিদ্ধ হয়ে পাহাড় থেকে পড়ে গেলে পুলিশ রেজাউল করিম রাসেলকে বুকে অস্ত্র ঠেকিয়ে গুলি করে হত্যা করে। হত্যার পর লাশ ফেলে গেলে শহীদের পরিবারের সহায়তায় স্থানীয় সংগঠন জানাযা ও দাফনের ব্যবস্থা করে। এরপর পুলিশ এসে লাশ গুমের অভিযোগ তুলে কবর থেকে লাশ উত্তোলন করে এবং এ ঘটনায় পুলিশ বাদী হয়ে স্থানীয় নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করে।
স্থানীয়রা বলেন, তিনমাস পরে লাশ তুললেও দেখা যায় লাশটি তখনও অক্ষত আছে।
আপনজনদের কথা
শহীদ রেজাউল করিম রাসেলের মা বলেন, আমার ছেলে এত বড় হয়েছিল। অথচ কোনদিন আমাদের সাথে খারাপ ব্যবহার করেনি। আমার সামনে থেকে ওরা আমার ছেলেকে কেড়ে নিয়ে গেছে। শহীদের পিতা বলেন- আল্লাহ যেন আমার সন্তানের কুরবানীকে কবুল করেন এবং তাকে জান্নাত দান করেন, আমীন। জামায়াত কর্মী ও তৎকালীন সীতাকুণ্ড উপজেলার শিবির সভাপতি জনাব মেছবাহুল আলম রাসেল বলেন-শহীদ রেজাউল করিম রাসেল ছিলেন বিচক্ষণ ও সাহসী, সদালাপী, সব সময় আন্দোলন সংগ্রামে স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ করতেন। দীর্ঘদিন ঘরে ঘুমাতে পারেননি। অত্যন্ত কষ্টে রাত অতিবাহিত করতেন।
শহীদের পরিবার
পেশাগতভাবে শহীদ রাসেল মৌসুমী কৃষি কাজ করতেন এবং অধিকাংশ সময়ই ছিলেন বেকার। তাঁর দুই ভাই দুই বোনের সংসারে সবার বড় নাজমা আক্তার বিবাহিতা এবং এক ছেলে ও এক মেয়ের মা। সংসারে দ্বিতীয় নম্বরে আছেন শহীদ নিজে। তৃতীয় ফজলুল করিম এ বছর এসএসসি পরীক্ষার্থী। চতুর্থ নম্বরে আসমা আক্তার এবার অষ্টম শ্রেণিতে পড়েন।
ভাই-বোনের বিবরণ
১. নাজমা আক্তার, ২৬ বছর, বিবাহিতা।
২. শহীদ রেজাউল করিম রাসেল
৩. ফজলুল করিম নিশান, ১২বছর, ৪র্থ শ্রেণি।
৪. নাজমা আক্তার ইসমা, ৮বছর, ২য় শ্রেণি।
এক নজরে শহীদ রেজাউল করিম রাসেল
নাম: রেজাউল করিম রাসেল
পিতার নাম: জাফর আহমদ
পিতার পেশা: প্রবাসী
মাতার নাম: মনোয়ারা বেগম
মাতার পেশা: গৃহিণী
জন্য তারিখ: ০৩ ডিসেম্বর ১৯৯৩
স্থায়ী ঠিকানা: মধ্যম ইয়াকুব নগর, ১ নং ওয়ার্ড, সীতাকুণ্ড, চট্টগ্রাম।
ভাই-বোন: ২ ভাই, ২ বোন (দ্বিতীয়)
সাংগঠনিক মান: সহযোগী সদস্য, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী
আহত হওয়ার স্থান: ঢাকা চট্টগ্রাম মহাসড়ক, সীতাকুণ্ড
শহীদ হওয়ার স্থান: ঢাকা চট্টগ্রাম মহাসড়ক, সীতাকুন্ড
আঘাতের ধরন: বুকে গুলি করে হত্যা
যাদের আঘাতে শহীদ: বাংলাদেশ পুলিশ
শাহাদাতের তারিখ: ৯ ডিসেম্বর ২০১৩
📸 তথ্য ও স্মৃতি সম্বলিত আলোকচিত্র
🔍