শহীদ মো: শফিকুল ইসলাম
আওয়ামী দুঃশাসনের বিগত ১৬ বছরের ফ্যাসিবাদবিরোধী শহীদ
📝 সংক্ষিপ্ত পরিচিতি
বরগুনার পাথরঘাটার দরিদ্র পরিবারে জন্ম নেওয়া মো. শফিকুল ইসলাম চট্টগ্রামে গার্মেন্টসে কাজ করে বাবা-মায়ের মুখে হাসি ফুটানোর স্বপ্ন লালন করতেন। ৫ ফেব্রুয়ারি ২০১৩, আল্লামা সাঈদীর মুক্তির দাবিতে শান্তিপূর্ণ মিছিলে যোগ দিতেই হঠাৎ পুলিশের গুলিতে কপালে বিদ্ধ হয়ে তিনি ঘটনাস্থলেই নিথর হয়ে পড়েন কাউকে এগোতেও দেওয়া হয়নি, চিকিৎসা তো দূরের কথা। ছোটবেলা থেকেই পাঁচ ওয়াক্ত নামাজি, নম্র-স্বভাব ও সবার প্রিয় এই যুবকটি পরিবারের কাছে ছিল একমাত্র আশার আলো। শাহাদাতের আগে বাবাকে বলে যাওয়া তার শেষ অনুভূতি ছিল “বাবা, আমাদের একটা ভাই মারা গেছে।”
তার মৃত্যু পরদিন হাজারো মানুষের বিক্ষোভ ও গায়েবানা জানাজায় পরিণত হয়, যেখানে স্থানীয়রা জানান শফিক ছিল অভাবকে উপেক্ষা করে আদর্শ বাঁচিয়ে রাখা এক তরুণ, যার রক্ত আবারও স্মরণ করিয়ে দেয় অন্যায়ের মূল্য কত নির্মম।
তার মৃত্যু পরদিন হাজারো মানুষের বিক্ষোভ ও গায়েবানা জানাজায় পরিণত হয়, যেখানে স্থানীয়রা জানান শফিক ছিল অভাবকে উপেক্ষা করে আদর্শ বাঁচিয়ে রাখা এক তরুণ, যার রক্ত আবারও স্মরণ করিয়ে দেয় অন্যায়ের মূল্য কত নির্মম।
🩸 শাহাদাতের ঘটনা ও বিস্তারিত বিবরণ
শহীদ মো: শফিকুল ইসলাম
চট্টগ্রাম মহানগরী
8
"নেতৃবৃন্দের জন্য তার অনুভূতির কথা বলতে গিয়ে শহীদের বাবা মো: জালাল হোসেন বলেন: 'শাহাদাতের আগে আল্লামা সাঈদীর ছেলে মারা যাওয়ায় শফিক বলেছে, বাবা আমাদের একটা ভাই মারা গেছেন।"
১. শহীদের পরিচিতি
শহীদ মো: শফিকুল ইসলাম বরগুনা জেলার পাথরঘাটা থানার কাকচিড়া গ্রামে ১৯৮৯ইং সালে জন্মগ্রহণ করেন। পিতা মো: জালাল হোসেন ও মাতা মোছা: মালেকা বেগমের ছয় সন্তানের মধ্যে তিনি অন্যতম। তিনি এসএসসি পাস করেন কাকচিড়া উচ্চমাধ্যমিক স্কুল থেকে। বাবার আশা ছিল তাকে অনেক শিক্ষিত করে তুলবেন। কিন্তু তারা দরিদ্র মানুষ। তাই তার এসএসসি পাস করার পর আর লেখা-পড়া হলো না। তিনি সংসারের খরচ উপার্জন করার জন্য চট্টগ্রাম গার্মেন্টেস এ চাকুরী নেন। তার আশা ছিল চাকুরীর টাকা দিয়ে বাবা-মার মুখে হাসি ফুটাবেন। কিন্তু তার সেই চিন্তা বাস্তবায়ন হলো না। তিনি আল্লাহর ডাকে সাড়া দিয়ে চলে গেলেন সবাইকে ছেড়ে। তিনি এলাকার সবার কাছে ভাল মানুষ হিসেবে পরিচিত ছিলেন।
২. যেভাবে তিনি আল্লাহর ডাকে চলে গেলেন
৫ ফেব্রুয়ারি' ১৩ইং তারিখে আল্লামা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর মুক্তির দাবিতে বিক্ষোভ মিছিলের আয়োজন করা হয়। তিনি উক্ত মিছিলে অংশগ্রহণ করেন। মিছিলের একপর্যায়ে পুলিশ এলোপাতাড়ি গুলি চালায়। হঠাৎ একটি গুলি এসে মো: শফিকুল ইসলাম-এর কপালে ঢুকে পিছন দিক দিয়ে বের হয়। তিনি মারাত্মকভাবে আহত হন। পুলিশ তার নিকট কোন লোক যেতে দেয়নি। তাকে কোন চিকিৎসা দেয়া যায়নি। চিকিৎসার অভাবে তিনি সেখানেই আল্লাহর ডাকে সাড়া দিয়ে চলে যান।
৩. শাহাদাতের পূর্বের বিভিন্ন ঘটনা
৫ ফেব্রুয়ারি' ১৩ সালে তিনি সাঈদীর মুক্তির দাবিতে মিছিলে অংশগ্রহণ করে। পুলিশের গুলি তার কপাল দিয়ে ঢুকে পিছন দিক দিয়ে বের হয়। ঘটনাস্থলেই তিনি শাহাদাত বরণ করেন। তিনি ছোটকাল হতেই পাঁচ ওয়াক্ত নামাজি ছিলেন। তিনি এলাকার সবার সাথে ভাল ব্যবহার করতেন। তাকে সবাই ভালবাসত। তিনি বড়দেরকে সম্মান এবং ছোটদেরকে স্নেহ করতেন।
৪. সামগ্রিক ঘটনার বিবরণ
মো: শফিকুল ইসলামের বাড়ি বরগুনার পাথরঘাটা থানায়। তিনি সাঈদীর মুক্তির দাবিতে যখন মিছিলের কথা শুনলেন, তখনই তিনি মিছিলে যাওয়ার জন্য প্রস্তুত হয়ে গেলেন। তিনি মিছিলে যোগদান করলেন। মিছিল করার একপর্যায়ে পুলিশ মিছিলকে লক্ষ্য করে গুলি করে। পুলিশের গুলি থেকে রক্ষা পেলেন না মো: শফিকুল ইসলাম ভাই। হঠাৎ একটি গুলি এসে তার কপালের ঠিক মাঝ বরাবর দিয়ে ঢুকে পিছন দিক দিয়ে বের হয়। গুলিবিদ্ধ অবস্থায় আহত হয়ে পড়েছিলেন কিন্তু পুলিশ তার কাছে কোন লোককে যেতে না দেয়ায় বিনা চিকিৎসায় শফিকুল ইসলাম শাহাদাত বরণ করেন। পুলিশের এমন নির্মম নির্যাতন আল্লাহ সহ্য করবেন না। পরবর্তী দিনে জাতীয় পত্রিকায় এ সংক্রান্ত রিপোর্ট আসে। ৭ ফেব্রুয়ারি, ২০১৩ দৈনিক সংগ্রাম লিখে;
চট্টগ্রামে ৪ জন জামায়াত-শিবিরের নেতা-কর্মীর বিশাল জানাযায় শামসুল ইসলাম এমপি
ইসলামী সমাজ প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে ৪ শহীদের রক্তের বদলা নেয়া হবে। জামায়াতে ইসলামী ও ছাত্রশিবিরের নিহত ৪ জন নেতা-কর্মীর গায়েবানা জানাযা চট্টগ্রামের প্যারেড মাঠে অনুষ্ঠিত হয়।
চট্টগ্রাম অফিস: বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য চট্টগ্রাম মহানগরী আমীর মাওলানা
মুহাম্মদ শামসুল ইসলাম এমপি বলেন, শহীদের রক্ত বৃথা যেতে দেব না। বৃথা যেতে পারে না। ইসলামী সমাজ প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে ৪ শহীদের রক্তের বদলা নেয়া হবে। জামায়াত-শিবিরের নেতা-কর্মীদের ওপর গুলি চালিয়ে ইসলামী আন্দোলনকে স্তব্ধ করা যাবে না। তিনি পুলিশ প্রশাসনকে সভা-সমাবেশে বাধা না দিয়ে শান্তিপূর্ণ সমাবেশ ও মিছিল করতে সহযোগিতা করার আহবান জানান। তিনি বলেন, শাহাদাত বরণ ইসলামী আন্দোলনের নেতা-কর্মীদের জন্য গৌরবের। বাধা দিয়ে খুন করে ইসলামী আন্দোলন বন্ধ করা যায় না। তিনি সকলকে দ্বীন প্রতিষ্ঠার আন্দোলনে জান ও মাল দিয়ে ঝাঁপিয়ে পড়ার জন্য উদাত্ত আহবান জনান। বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী চট্টগ্রাম মহানগরীর উদ্যোগে ৪ জন জামায়াত-শিবিরের নেতা-কর্মীদের বিশাল নামাযে জানাযা পূর্ব সমাবেশে সভাপতির বক্তব্যে তিনি উপরোক্ত কথা বলেন। জানাযায় হাজার হাজার মানুষ অংশ নেয়। জানাযায় ইমামতি করেন চট্টগ্রাম মহানগরী আমীর মাওলানা মুহাম্মদ শামসুল ইসলাম এমপি। জানাযাকে ঘিরে পুলিশ প্রশাসন কড়া নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেয় বলেও জানা গেছে।
৫. শহীদের আপনজনদের কথা
শহীদের বাবা: শাহাদাতের আগে আল্লামা সাঈদীর ছেলে মারা যাওয়ায় শফিক বলেছে, বাবা আমাদের একটা ভাই মারা গেছেন।
শহীদের মা: শফিক বলেছে মা আন্দোলনের কাজে যাচ্ছি। দেশের অবস্থা খারাপ, আল্লাহর পথে মরতে পারলে ভাল।
চাচাত ভাই: শফীক একটা আদর্শ মানুষ ছিল। অভাবের কারণে দেশ ছাড়তে হয়েছে।
৬. ব্যক্তিগত প্রোফাইল
নাম: শহীদ মো: শফিকুল ইসলাম (১১৬)। পেশা: গার্মেন্টে চাকরি।
জন্ম তারিখ ও বয়স: ০৫.০৬.১৯৮৯ইং, বয়স ২৫ বছর। আহত হওয়ার তারিখ: ০৫.০২.১৩।
শাহাদাতের তারিখ: ০৫.০২.১৩, বিকাল ৫টা। স্থান: ঘটনাস্থলেই শাহাদাত বরণ করেন। দাফন করা হয়: কাকচিড়া মাদ্রাসার গোরস্থানে।
স্থায়ী ঠিকানা: গ্রাম- কাকচিড়া, ইউনিয়ন, ডাকঘর- কাকচিড়া, থানা- পাথরঘাটা, জেলা- বরগুনা।
পিতা: মো: জালাল হোসেন, বয়স প্রায় ৮৬ বছর। ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী ও ডাব বিক্রেতা।
মাতা: মোছা: মালেকা বেগম, বয়স প্রায় ৬৩ বছর, গৃহিণী।
বাড়ি-ঘর ও সম্পদের অবস্থা: বাড়ির চারপাশে কাঠের বেড়া ও উপরে টিন শেড। চাষাবাদের কোন জমিন নেই। উপার্জন করার কেউ নেই। ৫ শতাংশ জমির উপর বাড়ি তাদের।
ভাই- বোনের বিবরণ: মোসা: হনুফা বেগম- বিবাহিত, গৃহিণী। মোসা: তাহমিনা- বিবাহিত, গৃহিণী। শহীদুল ইসলাম- পানের দোকানদার। ফরিদা বেগম- বিবাহিত, গৃহিণী। রেখা আক্তার-বিবাহিত, গৃহিণী। মো: শফিকুল ইসলাম-শহীদ।
চট্টগ্রাম মহানগরী
8
"নেতৃবৃন্দের জন্য তার অনুভূতির কথা বলতে গিয়ে শহীদের বাবা মো: জালাল হোসেন বলেন: 'শাহাদাতের আগে আল্লামা সাঈদীর ছেলে মারা যাওয়ায় শফিক বলেছে, বাবা আমাদের একটা ভাই মারা গেছেন।"
১. শহীদের পরিচিতি
শহীদ মো: শফিকুল ইসলাম বরগুনা জেলার পাথরঘাটা থানার কাকচিড়া গ্রামে ১৯৮৯ইং সালে জন্মগ্রহণ করেন। পিতা মো: জালাল হোসেন ও মাতা মোছা: মালেকা বেগমের ছয় সন্তানের মধ্যে তিনি অন্যতম। তিনি এসএসসি পাস করেন কাকচিড়া উচ্চমাধ্যমিক স্কুল থেকে। বাবার আশা ছিল তাকে অনেক শিক্ষিত করে তুলবেন। কিন্তু তারা দরিদ্র মানুষ। তাই তার এসএসসি পাস করার পর আর লেখা-পড়া হলো না। তিনি সংসারের খরচ উপার্জন করার জন্য চট্টগ্রাম গার্মেন্টেস এ চাকুরী নেন। তার আশা ছিল চাকুরীর টাকা দিয়ে বাবা-মার মুখে হাসি ফুটাবেন। কিন্তু তার সেই চিন্তা বাস্তবায়ন হলো না। তিনি আল্লাহর ডাকে সাড়া দিয়ে চলে গেলেন সবাইকে ছেড়ে। তিনি এলাকার সবার কাছে ভাল মানুষ হিসেবে পরিচিত ছিলেন।
২. যেভাবে তিনি আল্লাহর ডাকে চলে গেলেন
৫ ফেব্রুয়ারি' ১৩ইং তারিখে আল্লামা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর মুক্তির দাবিতে বিক্ষোভ মিছিলের আয়োজন করা হয়। তিনি উক্ত মিছিলে অংশগ্রহণ করেন। মিছিলের একপর্যায়ে পুলিশ এলোপাতাড়ি গুলি চালায়। হঠাৎ একটি গুলি এসে মো: শফিকুল ইসলাম-এর কপালে ঢুকে পিছন দিক দিয়ে বের হয়। তিনি মারাত্মকভাবে আহত হন। পুলিশ তার নিকট কোন লোক যেতে দেয়নি। তাকে কোন চিকিৎসা দেয়া যায়নি। চিকিৎসার অভাবে তিনি সেখানেই আল্লাহর ডাকে সাড়া দিয়ে চলে যান।
৩. শাহাদাতের পূর্বের বিভিন্ন ঘটনা
৫ ফেব্রুয়ারি' ১৩ সালে তিনি সাঈদীর মুক্তির দাবিতে মিছিলে অংশগ্রহণ করে। পুলিশের গুলি তার কপাল দিয়ে ঢুকে পিছন দিক দিয়ে বের হয়। ঘটনাস্থলেই তিনি শাহাদাত বরণ করেন। তিনি ছোটকাল হতেই পাঁচ ওয়াক্ত নামাজি ছিলেন। তিনি এলাকার সবার সাথে ভাল ব্যবহার করতেন। তাকে সবাই ভালবাসত। তিনি বড়দেরকে সম্মান এবং ছোটদেরকে স্নেহ করতেন।
৪. সামগ্রিক ঘটনার বিবরণ
মো: শফিকুল ইসলামের বাড়ি বরগুনার পাথরঘাটা থানায়। তিনি সাঈদীর মুক্তির দাবিতে যখন মিছিলের কথা শুনলেন, তখনই তিনি মিছিলে যাওয়ার জন্য প্রস্তুত হয়ে গেলেন। তিনি মিছিলে যোগদান করলেন। মিছিল করার একপর্যায়ে পুলিশ মিছিলকে লক্ষ্য করে গুলি করে। পুলিশের গুলি থেকে রক্ষা পেলেন না মো: শফিকুল ইসলাম ভাই। হঠাৎ একটি গুলি এসে তার কপালের ঠিক মাঝ বরাবর দিয়ে ঢুকে পিছন দিক দিয়ে বের হয়। গুলিবিদ্ধ অবস্থায় আহত হয়ে পড়েছিলেন কিন্তু পুলিশ তার কাছে কোন লোককে যেতে না দেয়ায় বিনা চিকিৎসায় শফিকুল ইসলাম শাহাদাত বরণ করেন। পুলিশের এমন নির্মম নির্যাতন আল্লাহ সহ্য করবেন না। পরবর্তী দিনে জাতীয় পত্রিকায় এ সংক্রান্ত রিপোর্ট আসে। ৭ ফেব্রুয়ারি, ২০১৩ দৈনিক সংগ্রাম লিখে;
চট্টগ্রামে ৪ জন জামায়াত-শিবিরের নেতা-কর্মীর বিশাল জানাযায় শামসুল ইসলাম এমপি
ইসলামী সমাজ প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে ৪ শহীদের রক্তের বদলা নেয়া হবে। জামায়াতে ইসলামী ও ছাত্রশিবিরের নিহত ৪ জন নেতা-কর্মীর গায়েবানা জানাযা চট্টগ্রামের প্যারেড মাঠে অনুষ্ঠিত হয়।
চট্টগ্রাম অফিস: বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য চট্টগ্রাম মহানগরী আমীর মাওলানা
মুহাম্মদ শামসুল ইসলাম এমপি বলেন, শহীদের রক্ত বৃথা যেতে দেব না। বৃথা যেতে পারে না। ইসলামী সমাজ প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে ৪ শহীদের রক্তের বদলা নেয়া হবে। জামায়াত-শিবিরের নেতা-কর্মীদের ওপর গুলি চালিয়ে ইসলামী আন্দোলনকে স্তব্ধ করা যাবে না। তিনি পুলিশ প্রশাসনকে সভা-সমাবেশে বাধা না দিয়ে শান্তিপূর্ণ সমাবেশ ও মিছিল করতে সহযোগিতা করার আহবান জানান। তিনি বলেন, শাহাদাত বরণ ইসলামী আন্দোলনের নেতা-কর্মীদের জন্য গৌরবের। বাধা দিয়ে খুন করে ইসলামী আন্দোলন বন্ধ করা যায় না। তিনি সকলকে দ্বীন প্রতিষ্ঠার আন্দোলনে জান ও মাল দিয়ে ঝাঁপিয়ে পড়ার জন্য উদাত্ত আহবান জনান। বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী চট্টগ্রাম মহানগরীর উদ্যোগে ৪ জন জামায়াত-শিবিরের নেতা-কর্মীদের বিশাল নামাযে জানাযা পূর্ব সমাবেশে সভাপতির বক্তব্যে তিনি উপরোক্ত কথা বলেন। জানাযায় হাজার হাজার মানুষ অংশ নেয়। জানাযায় ইমামতি করেন চট্টগ্রাম মহানগরী আমীর মাওলানা মুহাম্মদ শামসুল ইসলাম এমপি। জানাযাকে ঘিরে পুলিশ প্রশাসন কড়া নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেয় বলেও জানা গেছে।
৫. শহীদের আপনজনদের কথা
শহীদের বাবা: শাহাদাতের আগে আল্লামা সাঈদীর ছেলে মারা যাওয়ায় শফিক বলেছে, বাবা আমাদের একটা ভাই মারা গেছেন।
শহীদের মা: শফিক বলেছে মা আন্দোলনের কাজে যাচ্ছি। দেশের অবস্থা খারাপ, আল্লাহর পথে মরতে পারলে ভাল।
চাচাত ভাই: শফীক একটা আদর্শ মানুষ ছিল। অভাবের কারণে দেশ ছাড়তে হয়েছে।
৬. ব্যক্তিগত প্রোফাইল
নাম: শহীদ মো: শফিকুল ইসলাম (১১৬)। পেশা: গার্মেন্টে চাকরি।
জন্ম তারিখ ও বয়স: ০৫.০৬.১৯৮৯ইং, বয়স ২৫ বছর। আহত হওয়ার তারিখ: ০৫.০২.১৩।
শাহাদাতের তারিখ: ০৫.০২.১৩, বিকাল ৫টা। স্থান: ঘটনাস্থলেই শাহাদাত বরণ করেন। দাফন করা হয়: কাকচিড়া মাদ্রাসার গোরস্থানে।
স্থায়ী ঠিকানা: গ্রাম- কাকচিড়া, ইউনিয়ন, ডাকঘর- কাকচিড়া, থানা- পাথরঘাটা, জেলা- বরগুনা।
পিতা: মো: জালাল হোসেন, বয়স প্রায় ৮৬ বছর। ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী ও ডাব বিক্রেতা।
মাতা: মোছা: মালেকা বেগম, বয়স প্রায় ৬৩ বছর, গৃহিণী।
বাড়ি-ঘর ও সম্পদের অবস্থা: বাড়ির চারপাশে কাঠের বেড়া ও উপরে টিন শেড। চাষাবাদের কোন জমিন নেই। উপার্জন করার কেউ নেই। ৫ শতাংশ জমির উপর বাড়ি তাদের।
ভাই- বোনের বিবরণ: মোসা: হনুফা বেগম- বিবাহিত, গৃহিণী। মোসা: তাহমিনা- বিবাহিত, গৃহিণী। শহীদুল ইসলাম- পানের দোকানদার। ফরিদা বেগম- বিবাহিত, গৃহিণী। রেখা আক্তার-বিবাহিত, গৃহিণী। মো: শফিকুল ইসলাম-শহীদ।
📸 তথ্য ও স্মৃতি সম্বলিত আলোকচিত্র
🔍
🔍