হোম / আওয়ামী দুঃশাসনে শহীদ / শহীদ মামুন হোসাইন
শহীদ মামুন হোসাইন

শহীদ মামুন হোসাইন

আওয়ামী দুঃশাসনের বিগত ১৬ বছরের ফ্যাসিবাদবিরোধী শহীদ

📝 সংক্ষিপ্ত পরিচিতি

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের মৃত্তিকা বিজ্ঞান বিভাগের চতুর্থ বর্ষের ছাত্র ও শাহ আমানত হলের সেক্রেটারি মামুন হোসাইন ছিলেন নোয়াখালীর রামপুর গ্রামের শান্ত, মেধাবী ও স্বপ্নবাজ এক তরুণ। ছোটবেলা থেকে বৃত্তিপ্রাপ্ত এই ছাত্রের লক্ষ্য ছিল বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক হওয়া। ১২ জানুয়ারি ২০১৪ ক্যাম্পাসে সহিংসতা ছড়িয়ে পড়লে নিরস্ত্র শিক্ষার্থীদের রক্ষা করতে এগিয়ে যান তিনি।
আক্রমণকারীরা সেদিন হলে ঢুকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে শিক্ষার্থীদের নির্বিচারে কোপাতে থাকে, গুরুতর আহত সহকর্মীকে বাঁচাতে গিয়ে সিঁড়িতে আটকা পড়েন মামুন। মৃত্যুর সঙ্গে লড়ে শ্বাস নিতে থাকা সেই মুহূর্তও সহ্য করতে না পেরে হামলাকারীরা শেষ ছুরিকাঘাতে তার জীবন কেড়ে নেয়।
চট্টগ্রাম মেডিকেলে নেওয়ার পর তাকে মৃত ঘোষণা করা হয় একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয়পড়ুয়া ছেলেকে হারিয়ে শোকে নিস্তব্ধ হয়ে যায় পরিবার। সহপাঠীরা বলেন, মামুন ছিলেন তাহাজ্জুদপাঠী, সৎ ও নীতিবান এক তরুণ যিনি সদস্য হওয়ার দিনই ঘোষণা করেছিলেন, “আজ আমি নিয়েছি দায়িত্বের শপথ আর শহীদের শপথ।

🩸 শাহাদাতের ঘটনা ও বিস্তারিত বিবরণ

শহীদ মামুন হোসাইন
চট্টগ্রাম মহানগরী
৬

শহীদের পরিচিতি
শহীদ মামুন হোসাইন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের মৃত্তিকা বিজ্ঞান বিভাগের চতুর্থ বর্ষের ছাত্র ছিলেন। তাঁর গ্রামের বাড়ি নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জ থানাধীন রামপুর গ্রামে। পিতা মোহাম্মদ রফি উদ্দীন ও মাতা মাকসুদা বেগমের পাঁচ সন্তানের মধ্যে তৃতীয় সন্তান তিনি। তিনি বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের শাহ আমানত হলের সেক্রেটারির দায়িত্ব পালন করতেন।

যেভাবে তিনি আল্লাহর ডাকে চলে যান
১২ জানুয়ারি ২০১৪ বৃহস্পতিবার হল দখলের উদ্দেশ্যে হলে আক্রমণ করে ছাত্রলীগ। হল রেইডের নামে। অবৈধভাবে গ্রেফতার করা হয় হলের আবাসিক শিক্ষার্থী ২১ শিবির নেতা-কর্মীকে। তাদের অপরাধ তারা শিবির করে। একদিকে ২১ জন শিবির নেতাকর্মী গ্রেফতার অন্যদিকে হলে অবস্থানরত অন্যদেরকে ছত্রভঙ্গ করা হয় পুলিশি হয়রানির মাধ্যমে। চবি প্রশাসন ও পুলিশের সহযোগিতায় তৈরি হওয়া সুযোগ হাত ছাড়া করেনি ছাত্রলীগ। পিস্তল, রিভলভার আর দেশীয় অস্ত্র-শস্ত্র নিয়ে প্রশাসনের সহযোগিতায় আক্রমণ করে নিরস্ত্র বিচ্ছিন্ন বিক্ষিপ্ত অবস্থায় থাকা শিবির কর্মীদের উপর। বাতিলকে প্রতিরোধ করতে মাথায় গুলিবিদ্ধ হয়ে আহত হন আইন অনুষদের সেক্রেটারি। হাতে ও মুখে গুলিবিদ্ধ হন শিবির বিজ্ঞান অনুষদ শাখার অফিস সম্পাদক মুজাহিদুল ইসলাম। হাতে চাপাতির আঘাতে গুরুতর জখম হন বিশ্ববিদ্যালয় শাখার শিক্ষা সম্পাদক মোমিনুল ইসলাম। দোতলার রেলিং থেকে পড়ে যাওয়া শাহ আমানত হল শাখার সাথী রাহাতকে একা পেয়ে এলোপাতাড়ি কোপানো হয় মাথাসহ পুরো শরীরজুড়ে। শেষ পর্যন্ত মৃত ভেবে ফেলে রেখে যায় তাকে। এদিকে জনশক্তিদের রক্ষা করতে গিয়ে বাতিলের হাতে আটকা পড়েন শাহ আমানত হল শাখার সেক্রেটারি মামুন হোসাইন ও জীব বিজ্ঞান অনুষদ শাখার সভাপতি সাইদুল ইসলাম রকি। চাপাতি আর রামদা দিয়ে কোপানো হয় দু'জনেরই মাথাসহ সর্বাঙ্গে।
যখন মামুন আর রকি বাতিলের আঘাতে বিধ্বস্ত হয়ে লুটিয়ে পড়েছিল সিঁড়িতে। প্রায় জ্ঞানশূন্য রকিকে মৃত। ভেবেই রেখে যায় তারা। তখনও মামুন বেঁচে থাকার চেষ্টায় নড়াচড়া করছিলেন। চেষ্টা করছিলেন শ্বাস গ্রহণের। আর এটাই সহ্য হলো না হায়েনাদের। গলায় ছুরি বসিয়ে জবাই করে মৃত্যু নিশ্চিত করে বাতিলের দল।

সামগ্রিক ঘটনার বিবরণ
১২ জানুয়ারি ২০১৪ বৃহস্পতিবার অন্যান্য দিনের মতই যথাসময়ে শাটল ট্রেন পৌঁছে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে। শিক্ষার্থীদের পায়ের আওয়াজে চঞ্চল হয়ে উঠেছে ক্যাম্পাস। ক্লাস, পরীক্ষা শুরু হয়েছে প্রতিটি অনুষদে।
সকালে শীতের প্রকোপ কাটিয়ে সূর্যের কিরণে উষ্ণ হয়ে উঠেছে প্রতিটি ক্ষণ। সময় তখন দুপুর একটা। ক্লাস শেষ করে শিক্ষার্থীরা ছুটছে স্ব স্ব গন্তব্যে। কেউ হলে, কেউবা কটেজে। এই দিকে আগের দিন দলীয় কর্মী আহত হওয়ার প্রতিবাদে পূর্ব ঘোষিত প্রতিবাদ মিছিল বের করে ছাত্রলীগ। বিশ্ববিদ্যালয়ের স্টেশন থেকে শুরু করে ২নং গেইটের দিকে যায় মিছিলটি। স্বাভাবিকভাবে অন্য সকল কর্মসূচী কাটা পাহাড় আর শহীদ মিনার এলাকায় হলেও আজকের বৈপরীত্যের কারণ বুঝতে বাকি থাকলো না কারো। সশস্ত্র প্রস্তুতি নিয়ে চলা মিছিলটি অগ্রসর হয় কেন্দ্রীয় মাঠের দিকে। মাঠের পাশে অবস্থিত কলোনী থেকে আরও অস্ত্র সংগ্রহ করে দশ মিনিটের মধ্যে চলে আসে সোহরাওয়ার্দী হলের সামনে। হলকে লক্ষ্য করে ছোঁড়া হয় গুলি। আশালীন ভাষায় স্লোগান উঠে- একটা দুইটা শিবির ধর, ধইরা ধইরা জবাই কর। সামনে এগিয়ে মিছিলটি চলে আসে শাহ আমানত হলের সামনে। সশস্ত্র অবস্থায় দ্রুত গতিতে প্রবেশ করে হল ফটকের ভেতর। আক্রমণ শুরু করে শাহ আমানত হলে। শিবির কর্মীদের নারায়ে তাকবীর, আল্লাহু আকবার স্লোগানের শব্দে পিছু হটে অস্ত্রধারী ছাত্রলীগ, অবস্থান নেয় হলের মূল ফটকের সামনেই। বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় প্র শাসনের প্রক্টরিয়াল বডি এবং পুলিশ প্রশাসনের সামনেই চলে সশস্ত্র মহড়া আর অশালীন বাক্যালাপ। শিবিরের দায়িত্বশীলদের একাধিকবার অনুরোধেও নিশ্চুপ সময় ক্ষেপণ করা ছাড়া কিছুই করেনি চবি প্রশাসন। হলের আবাসিক ছাত্রদের নিরাপত্তা বিধানের পরিবর্তে ছাত্রলীগের অবৈধ আবদারে সাড়া দিয়ে হল রেইড দেয়ার সিদ্ধান্ত নেয় প্রশাসন। জাতির দর্পন গণমাধ্যম কর্মীরা পুলিশের সাথে হলে প্রবেশ করতে চাইলে তাদেরকেও দেয়া হয় বাধা।
হল দখলের পরিকল্পনা বাস্তবায়নে আর দেরী নয়। হল রেইডের নামে অবৈধভাবে গ্রেফতার করা হয় হলের আবাসিক শিক্ষার্থী ২১ শিবির নেতা-কর্মীকে। তাদের অপরাধ তারা শিবির করে। একদিকে ২১ জন শিবির নেতাকর্মী গ্রেফতার অন্যদিকে হলে অবস্থানরত অন্যদেরকে ছত্রভঙ্গ করা হয় পুলিশি হয়রানির মাধ্যমে। চবি প্রশাসন ও পুলিশের সহযোগিতায় তৈরি হওয়া সুযোগ হাত ছাড়া করেনি ছাত্রলীগ। পিস্তল, রিভলভার আর দেশীয় অস্ত্র-শস্ত্র নিয়ে প্রশাসনের সহযোগিতায় আক্রমণ করে নিরস্ত্র বিচ্ছিন্ন বিক্ষিপ্ত অবস্থায় থাকা শিবির কর্মীদের উপর।
অস্ত্রে সজ্জিত বাতিলের মোকাবেলায় নারায়ে তাকবীর শ্লোগান আর ইট পাথর দিয়েই প্রতিরোধ গড়ে তোলে মুজাহিদদের দল। বাতিলকে প্রতিরোধ করতে মাথায় গুলিবিদ্ধ হয়ে আহত হন আইন অনুষদের সেক্রেটারী। হাতে ও মুখে গুলিবিদ্ধ হন শিবির বিজ্ঞান অনুষদ শাখার অফিস সম্পাদক মুজাহিদুল ইসলাম। হাতে চাপাতির আঘাতে গুরুতর জখম হন বিশ্ববিদ্যালয় শাখার শিক্ষা সম্পাদক মোমিনুল ইসলাম। দোতলার রেলিং থেকে পড়ে যাওয়া শাহ আমানত হল শাখার সাথী রাহাতকে একা পেয়ে এলোপাতাড়ি কোপানো হয় মাথাসহ পুরো শরীরজুড়ে। শেষ পর্যন্ত মৃত ভেবে ফেলে রেখে যায় তাকে।
এদিকে জনশক্তিদের রক্ষা করতে গিয়ে বাতিলের হাতে আটকা পড়েন শাহ আমানত হল শাখার সেক্রেটারি মামুন হোসাইন ও জীব বিজ্ঞান অনুষদ শাখার সভাপতি সাইদুল ইসলাম রকি। চাপাতি আর রামদা দিয়ে কোপানো হয় দু'জনেরই মাথাসহ সর্বাঙ্গে।
যখন মামুন আর রকি বাতিলের আঘাতে বিধ্বস্ত হয়ে লুটিয়ে পড়েছিল সিড়িতে। তখন প্রায় জ্ঞানশূন্য রকিকে মৃত ভেবেই রেখে যায় তারা। আর মামুন বেঁচে থাকার চেষ্টায় নাড়াচড়া করছিলেন তখনও। চেষ্টা করছিলেন শ্বাস গ্রহণের। আর এটাই সহ্য হলো না হায়েনাদের। গলায় ছুরি বসিয়ে জবাই করে মৃত্যু নিশ্চিত করে বাতিলের দল।
প্রশাসনের বাধা অতিক্রম করে বিশ্ববিদ্যালয়ের সাংগঠনিক সম্পাদক রাজিফুল হাসান বাপ্পীর নেতৃত্বে একদল মুজাহিদ হলের দেয়াল টপকে ভেতরে প্রবেশ করলেন। গুরুতর আহত রকি, রাহাতসহ শহীদ মামুনের লাশ নিয়ে যাওয়া হয় চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে। সেখানে আনুষ্ঠানিকভাবে মামুনকে মৃত ঘোষণা করেন ডাক্তার।

আপনজনদের কথা
পরিবারের একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় পড়ুয়া ছেলেকে হারিয়ে শোকে বিভোর শহীদের পিতা-মাতা। শহীদ মামুন হোসাইন ছিলেন শান্ত-শিষ্ট আর মিষ্টভাষী। সে এতটাই উদার ছিল যে ছোট বড় কেউ তাকে অভিযুক্ত করতে পারেননি কোনদিন।
বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সাবেক সভাপতি মোঃ জাহিদুল ইসলাম বলেন-রাত জেগে নিয়মিত তাহাজ্জুদ আদায় করা মামুন ভাইয়ের আমল আখলাক আর খুলুছিয়াতের পরিধি ছিল অসীম। তাঁর নিয়তের পরিশুদ্ধতা এতটাই ছিল যে, যেদিন তিনি সদস্য শপথ নেন, তাঁর দুলাভাইকে ফোন করে বলেছিলেন, আজ আমি দুটো শপথ করলাম, একটি সদস্য হিসেবে অন্যাটি শহীদ হওয়ার। আল্লাহ তায়ালা তাঁর সেদিনের দুটো শপথই কবুল করেছিলেন।
বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় শাখার আরেক সাবেক সভাপতি আবদুল্লাহ আল গালিব বলেন- সাত মাস উনার রুমমেট হিসেবে থাকার সৌভাগ্য হয়েছিল আমার। প্রতিদিন সকালে উনার তেলাওয়াত শুনতাম নিজেরটা বন্ধ করে। খুব দরদ দিয়ে, ধীরে ধীরে অনেকটা অধ্যাপক মফিজুর রহমান ভাইয়ের মত করে তেলাওয়াত করতেন তিনি। রমজান মাসে আমরা কয়েকজন এক সাথে আয়োজন করে ইফতার করতাম, মাস শেষে তিনি হিসাব করে আমাকে ৭টাকা ৫০ পয়সা ফেরৎ দিয়েছিলেন। আমি বলেছিলাম- 'ভাই, এত কড়া হওয়ার দরকার আছে? আমরা আমরাইতো!" তিনি মুচকি হাসলেন।
তিনি আরো বলেন- পুলিশ যখন হলে ঢুকছিল তখনই মামুন ভাইয়ের সাথে শেষ কথা হয় আমার। তিনি কল দিয়ে বলেছিলেন- ভাই, পুলিশ ঢুকতেছে আপনারা সেইভ হন। কল কেটে দেয়ার আগেই দেখি পুলিশ সিঁড়ি দিয়ে উঠে আসতেছে। আমি, হেলাল ভাই ও রানা ভাই পুলিশের সাথে কথা বলতে এগিয়ে গেলাম। কিন্তু পুলিশ আমাদের কোন কথা না শুনেই এরেস্ট করলো।
ইসলামী ছাত্রশিবিরের চ.বি শাখার সাবেক অর্থ সম্পাদক মোঃ জাহাঙ্গীর আলম রানা বলেন- ২০১৩ সালের অক্টোবর মাস। ভর্তি পরীক্ষার সময়ের কথা। গ ইউনিটের আবাসনের দায়িত্ব ছিল শাহজালাল হল ও বিবিএ ফ্যাকাল্টি শাখার উপর। আমি চিন্তায় পড়ে গেলাম। একদিকে শীতকাল, অন্যদিকে নিজেদের হল না থাকা। এত বিপুল পরিমাণ পরীক্ষার্থীর আবাসন কিভাবে ব্যবস্থা করবো। এই চিন্তায় অস্থির হয়ে পড়লাম। মামুন ভাই সমাধান দিলেন। আমাকে সাথে নিয়ে সব রুমে গিয়ে সাধারণ ছাত্রদের কাছে থাকা অতিরিক্ত কাঁথা, বালিশ, লেগ জোগাড় করলেন। কেউ একটু অনিচ্ছা প্রকাশ করলে একটা হাসি দিয়ে বলতেন- ভাই ছেলেগুলো সারা রাত শীতে কষ্ট পাবে।"
লেখক ও সাংবাদিক জহিরুল ইসলাম জুয়েল বলেন- মামুনের সাথে আমার পরিচয় সেই কৈশোর থেকে। একই প্রতিষ্ঠানে লেখাপড়া এবং একসাথে দায়িত্বপালন করা আবার ঢাকা কলেজে গিয়েও একসাথে উঠাবসা। সর্বশেষ বিশ্ববিদ্যালয়ে এসেও একসাথে পেয়েছি বলে খুব কাছ থেকে দেখার সৌভাগ্য হয়েছে। তাই মামুনের শহীদি তামান্না, একনিষ্ঠ আনুগত্য ও বিভিন্ন গুণ আমাকে ঈর্ষান্বিত করে তুলে।
মামুনের শহীদ হওয়ার বাসনা ছোট কাল থেকেই লক্ষ্যণীয়। রংমালা শাখার (স্পীয় অঞ্চল) সাধারণ সম্পাদক থাকা কালীন একটি প্রোগ্রামে এক শিল্পীর "হিজল বনে পালিয়ে গেছে পাখি" গানটির ব্যাখ্যায় বলেছিল- এ পাখি হলো ইসলামী আন্দোলনের শহীদ, যারা আল্লাহর দ্বীন বাস্তবায়নে শহীদ হয়ে জান্নাতের বাগানে পালিয়ে গেছে। আল্লাহ যেন আমাকেও সেই শহিদী জীবন দান করেন।"
শাহ আমানত হলের সাবেক সেক্রেটারি এবং একই ঘটনায় আহত হয়ে এখনও হাত পঙ্গু সাইদুল ইসলাম রকি সেদিনের ঘটনার স্মৃতি চারণ করে বলেন- হলে অবস্থানরত ছাত্ররা যখন পুলিশি হয়রানি এড়াতে ব্যস্ত ঠিক তখনই তাদের গুলি ককটেল আর অস্ত্রের ঝনঝনানিতে পুরো আমানত হল এলাকা যেন এক ভয়াবহ যুদ্ধক্ষেত্রে পরিণত হয়েছিল। এক পর্যায়ে বুঝতে পারি মাথায় গুরুতর আঘাত পেয়েছি। কোনোভাবেই আর নড়াচড়া করতে পারছিলাম না। ধীরে ধীরে জ্ঞান হারাচ্ছিলাম। হায়েনারা ততক্ষণে মৃত ভেবে আমাকে ফেলে রেখে চলে যায়।
অনেক কষ্টে মাথাটা উপরে তুলে দেখি সামনেই প্রিয় মামুন ভাই রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে আছেন, আর আমার দিকে তাকিয়ে ঠিক যেমন করে ঘুমন্ত মানুষকে ঘুম থেকে জাগায় তেমনভাবে রকি ভাই। রকি ভাই! বলে ডাকছেন। ওই এক মুহূর্তের জন্য মামুন ভাই হয়তো ভেবেছিলেন আমি মারা গেছি বা যাচ্ছি। দ্বিতীয়বার জ্ঞান হারানোর আগে বুঝতে পারি মাথার উপরে তারা চিল্লাচ্ছে। স্পষ্ট শুনতে পেলাম ওদের একজন আমাকে ইঙ্গিত করে বলছিলো- এইটা শেষ, এইটা শেষ, ঐটারে ধর।" তাদের নৃশংসতা পরে জানলাম। চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক আইটি সম্পাদক জনাব মোঃ মারুফুজ্জামান বলেন- লেনদেনের ব্যাপারে তিনি ছিলেন কাঁচের মতো স্বচ্ছ এবং পাওনাদারদের কাছ থেকে পাওনা আদায়ের ক্ষেত্রে তাঁর মধ্যে কোন কঠোরতা দেখিনি। যার চরিত্রে কখনো কপটতা পরিলক্ষিত হয়নি, এমনকি বিরোধীদেরকেও নিজের ভাইয়ের মতো আপ্যায়ন করতে দেখেছি, তাদের মুখেও শুনতাম তার কোমল হৃদয়ের গল্প।


এক নজরে শহীদ মামুন হোসাইন
নাম: মামুন হোসাইন
পিতার নাম: মোহাম্মদ রফি উদ্দীন
পিতার পেশা: ব্যবসা
মাতার নাম: মাকসুদা বেগম
মাতার পেশা: গৃহিণী
স্থায়ী ঠিকনা: গ্রাম: রামপুর, পো: মাওলানা বাজার, থানা: কোম্পানিগঞ্জ, নেয়াখালী
ভাইবোন: ৪ ভাই ১ বোন। ভাই-বোনদের মধ্যে ৩য়)
জন্মতারিখ: ১ জানুয়ারি ১৯৯০
সাংগঠনিক মান: সদস্য
দায়িত্ব: সেক্রেটারি, শাহ আমানত হল, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়
সর্বশেষ লেখাপড়া: মৃত্তিকা বিজ্ঞান, চতুর্থ বর্ষ
সর্বশেষ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান: চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়
শিক্ষায় বিশেষ কৃতিত্ব: ৫ম ও ৮ম শ্রেণিতে বৃত্তি, দাখিল- গোল্ডেন জিপিএ ৫ অনার্স ১ম শ্রেণিতে চতুর্থ
জীবনের লক্ষ্য: বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক হওয়া
শহীদ হওয়ার স্থান: শাহ আমানত হল, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়
আঘাতের ধরণ: জবাই করে হত্যা
যাদের আঘাতে শহীদ: বাংলাদেশ ছাত্রলীগ
শহীদ হওয়ার তারিখ: ১২ জানুয়ারি ২০১৪

📸 তথ্য ও স্মৃতি সম্বলিত আলোকচিত্র

Memory Image
🔍
Memory Image
🔍
Memory Image
🔍
Memory Image
🔍
Memory Image
🔍
Memory Image
🔍
Memory Image
🔍
Memory Image
🔍
Memory Image
🔍