হোম / আওয়ামী দুঃশাসনে শহীদ / শহীদ মোঃ নুরুল হক
শহীদ মোঃ নুরুল হক

শহীদ মোঃ নুরুল হক

আওয়ামী দুঃশাসনের বিগত ১৬ বছরের ফ্যাসিবাদবিরোধী শহীদ

📝 সংক্ষিপ্ত পরিচিতি

শহীদ মোঃ নুরুল হক (১৯৭৮–২০১৩) কক্সবাজার সদরের ধর্মছড়ী গ্রামের একজন পরিশ্রমী সন্তান।
জীবিকার প্রয়োজনে ছোট ব্যবসা ছেড়ে তিনি কক্সবাজারে চিংড়ি প্রজেক্টে চাকরি করতেন এবং পরিবারকে আগলে রাখতেন।
১৫ ফেব্রুয়ারি ২০১৩, জুমার নামাজ শেষে হাশেমিয়া মাদ্রাসা মসজিদের সামনে শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদে পুলিশের গুলিতে তিনি তাৎক্ষণিকভাবে শাহাদাত বরণ করেন।
দুই অবুঝ সন্তান ও তরুণ স্ত্রীকে রেখে যাওয়া নুরুল হকের জীবন ছিল সংগ্রাম, দায়িত্ববোধ ও নীরব ত্যাগের প্রতিচ্ছবি।
কক্সবাজারের মানুষ আজও তাকে স্মরণ করে এক সাহসী ও ঈমানদার শহীদ হিসেবে।

🩸 শাহাদাতের ঘটনা ও বিস্তারিত বিবরণ

শহীদ মোঃ নুরুল হক
কক্সবাজার
৩
"মাত্র ২৮ বছরেই বৈধব্যের তকমা পেলেন সাবিনা আক্তার। তার দায়িত্বে দুই অবুঝ এতিম শিশু শাহীন আর নুরশাদ মনি।... তিনি শঙ্কিত এই দুর্গম পথে তিনি কতদূর এগুতে পারবেন। ওদিকে স্বপ্নে তিনি সান্তনা পাচ্ছেন, দেখেছেন তার স্বামী শহীদ নুরুল হক বলছেন, 'আমি যে রকম মৃত্যু চেয়েছিলাম; আল্লাহ আমাকে সে রকম মৃত্যুই দিয়েছেন। চমৎকার বেশভূষায় দাঁড়িয়ে তিনি বলেছেন, 'তিনি ভাল আছেন।"
১. শহীদের পরিচিতি
শহীদ মোঃ নুরুল হক কক্সবাজার সদরের ধর্মছড়ী গ্রামে ১৯৭৮ সালে জন্মগ্রহণ করেন। পিতা মোঃ নুরুল আলম ও মাতা মৃত নুর আয়েশার সাত সন্তানের মধ্যে দ্বিতীয় সন্তান শহীদ মো: নুরুল হক। পাঁচ ভাই দুই বোনের সংসারে দরিদ্র পিতা-মাতা কোন রকম সন্তানের মুখে দুটো খাবার তুলে দিতে ব্যস্ত ছিলেন। পারেননি কোন পড়ালেখার ব্যবস্থা করতে। ২ সন্তানের পিতা শহীদ নুরুল হক ছোট দোকানে ব্যবসা করতেন। পুজির অভাবে ব্যবসা ভাল করতে না পারার কারণে ব্যবসা ছেড়ে দিয়ে কক্সবাজারে চিংড়ি প্রজেক্টে চাকুরী করতেন।
২. যেভাবে তিনি আল্লাহর ডাকে চলে গেলেন।
ঘটনাস্থল কক্সবাজার হাশেমিয়া মাদ্রাসা মসজিদ এর সামনে। ঐদিন ছিল জুমাবার। মাওলানা সাঈদী। সাহেবের মুক্তির দাবিতে বাদ জুমা মিছিল হওয়ার ঘোষণা ছিল। অন্যান্যের ন্যায় তিনিও মসজিদে নামাজ পড়তে যান। নামাজ শেষ হওয়ার আগেই পুলিশ ও বিজিবি মসজিদ ঘিরে ফেলে। মুসল্লিরা মসজিদ থেকে বের হলে পুলিশ সাথে সাথেই গুলি করে। তিনি বুকে গুলিবিদ্ধ হন। গুলি বুকের বাম পাশে লেগে পিছন দিক দিয়ে বেরিয়ে যায় এবং তিনি সাথে সাথে শহীদ হন। তখনও চতুর্দিক থেকে মিছিল হাশেমিয়া মাদ্রাসা মসজিদের দিকে আসছিল এবং আশপাশের এলাকার প্রায় ১০ হাজার লোক সে মিছিলে সম্পৃক্ত হয়। ১৫। ফেব্রুয়ারি' ১৩ বাদ জুমা বেলা ২টায় তিনি শহীদ হবার পর পুলিশ টেনেহিঁচড়ে ভ্যানে করে কক্সবাজার সদর হাসপাতালে নিয়ে যায় পোস্টমর্টেম করার পর ১৬.০২.১৩ তারিখে বিকাল ৩টার দিকে পুলিশ লাশ বাড়িতে নিয়ে আসে। পুলিশ দ্রুত দাফন করতে বাধ্য করে। বাড়ির পাশে লবণের মাঠে জানাজার ব্যবস্থা করা হয় এবং হাজার লোক জানাজায় অংশগ্রহণ করে। জানাজা শেষে গ্রামের মসজিদের কবরস্থানে দাফন করা হয়।
৩. সামগ্রিক ঘটনার বিবরণ
ঘটনাস্থল কক্সবাজার হাশেমিয়া মাদ্রাসা মসজিদ এর সামনে। ঐদিন ছিল জুমাবার। মাওলানা সাঈদী সাহেবের মুক্তির দাবিতে বাদ জুমা মিছিল হওয়ার ঘোষণা ছিল। অন্যান্যের ন্যায় তিনিও মসজিদে নামাজ পড়তে যান। নামাজ শেষ হওয়ার আগেই পুলিশ ও বিজিবি মসজিদ ঘিরে ফেলে। মুসল্লিরা মসজিদ থেকে বের হলে পুলিশ সাথে সাথেই গুলি করে। তিনি বুকে গুলিবিদ্ধ হন। গুলি বুকের বাম পাশে লেগে পিছন দিক দিয়ে বেরিয়ে যায় এবং তিনি সাথে সাথে শহীদ হন। তখনও চতুর্দিক থেকে মিছিল হাশেমিয়া মাদ্রাসা মসজিদের দিকে আসছিল এবং আশপাশের এলাকার প্রায় ১০ হাজার লোক সে মিছিলে সম্পৃক্ত হয়।
৪. শহীদের আপনজনদের কথা
শহীদের গর্বিত পিতা: শহীদের বয়োবৃদ্ধ গর্বিত পিতা নুরুল আলম তার কলিজার টুকরোকে হারিয়ে মর্মাহত। আল্লাহর কাছে জান্নাত লাভের জন্য দোয়া করেন। তিনি বলেন, আমার ছেলে কোন অপরাধ করেনি। কোন রকমে সে সংসার চালানোর জন্য কষ্ট করতো। আমাকে সহযোগিতা করতো। আমার কলিজার টুকরো ছেলেকে হারাবো সে কল্পনাও করতে পারিনি। আল্লাহ তাকে কবুল করুন।
শহীদের স্ত্রী: মাত্র ২৮ বছরেই বৈধব্যের তকমা পেলেন সাবিনা আক্তার। তার দায়িত্বে দুই অবুঝ এতিম শিশু শাহীন আর দূরশাদ মনি। শহীদের এ দুটি ছোট ছেলে-মেয়ে পড়াশোনা চালানোর জন্য শহীদের স্ত্রী আগ্রহী। কিন্তু তিনি শঙ্কিত এই দুর্গম পথে তিনি কতদূর এগুতে পারবেন। ওদিকে স্বপ্নে তিনি সান্তনা পাচ্ছেন, দেখেছেন তার স্বামী শহীদ নুরুল হক বলছেন, 'আমি যে রকম মৃত্যু চেয়েছিলাম। আল্লাহ আমাকে সে রকম মৃত্যুই দিয়েছেন। চমৎকার বেশভূষায় দাঁড়িয়ে তিনি বলেছেন, তিনি ভাল আছেন।
শহীদের ভাই: শহীদের ছোট ভাই বলেছেন আমরা গর্বিত এজন্য যে আমরা এখন শহীদের ভাই। মহান আল্লাহর রাস্তায় শহীদ হওয়ায় আমাদের কোন আফসোস নেই। আমরা আল্লাহর কাছে দোয়া করি যেন তাকে আল্লাহ শহীদ হিসেবে কবুল করেন। বর্তমানে ছোট দোকান শহীদের ছোট ভাই দেখাশুনা করেন তা থেকে যা আয় হয় তাই দিয়ে তাদের সংসার চলছে।
৫. ব্যক্তিগত প্রোফাইল
নাম: শহীদ মোঃ নুরুল হক (০৭২)। পেশা। কক্সবাজারে চিংড়ি প্রজেক্টে চাকুরী করতেন।
জন্য তারিখ ও বয়স: ১৯৭৮ সান, ৩৫ বছর।
= আহত হওয়ার তারিখ: ১৫ ফেব্রুয়ারি ২০১৩।
আহতের ধরন ও পরবর্তী অবস্থা। পিঠে লেগে বুকের মাঝখান দিয়ে বেরিয়ে যায়। আহত হবার সাথে সাথে শহীদ হন।
শাহাদাতের তারিখ: ১৫ ফেব্রুয়ারি'১৩, স্থান: কক্সবাজার হাশেমিয়া মাদ্রাসা মসজিদ এর সামনে। দাফন করা হয়: গ্রামের মসজিদের কবরস্থানে দাফন করা হয়।
= স্থায়ী ঠিকানা: গ্রাম: ধর্মছড়ী, ডাকঘর। নাপিতখালী থানা। কক্সবাজার, জেলা। কক্সবাজার।
পিতা: মো: নুরুল আলম, ৬৫ বছর, লবণ চাষ।
মাতা: মরহুমা নুর আয়েশা, মৃত্যুকালে ৪৫ বছর।
বাড়ি-ঘর ও সম্পদের অবস্থা: অন্যের জমির উপর মাটির দেয়াল দিয়ে একটি ছোট খুপরি ঘর। নিজেদের কোন কৃষি জমি নেই। চিংড়ি প্রজেক্টের চাকুরী থেকে ৫/৬ হাজার টাকা আয় হত, তা দিয়ে সংসার চলত।
স্ত্রী ও সন্তানদের বিবরণ: স্ত্রী: সাবিনা আক্তার, বয়স-২৮ বছর। ১ম ছেলে: মোঃ শাহীন, ১ম শ্রেণী, ধর্মছড়া নুরানী বিদ্যানিকেতন। ১ম মেয়ে: মোছা: নুরশাদ মনি, নার্সারি।
ভাই-বোনের বিবরণ: ছকিনা বেগম, গৃহিণী, বিবাহিতা। মোঃ নুরুল হক (শহীদ), ছোট চাকুরী। নুরুল আমীন, লবণচাষি। আরথা বেগম। নুরুল আজিম, কারখানার শ্রমিক। নুরুল আফছার, মুদি দোকানদার। নুরুল করিম, এসএসসি পরীক্ষার্থী।

📸 তথ্য ও স্মৃতি সম্বলিত আলোকচিত্র

Memory Image
🔍
Memory Image
🔍
Memory Image
🔍
Memory Image
🔍
Memory Image
🔍
Memory Image
🔍