শহীদ মোঃ আহমদ সালেহ
আওয়ামী দুঃশাসনের বিগত ১৬ বছরের ফ্যাসিবাদবিরোধী শহীদ
📝 সংক্ষিপ্ত পরিচিতি
শহীদ মোঃ আহমদ সালেহ (১৯৭০–২০১৩) কক্সবাজারে কর্মরত এক পরিশ্রমী মুদির দোকানকর্মী ও তিন সন্তানের স্নেহশীল পিতা। দারিদ্র্যের মাঝেও তিনি সততা, নীরব ধার্মিকতা ও মানুষের প্রতি কোমল আচরণে এলাকায় পরিচিত ছিলেন একজন সাধাসিধে মানুষ হিসেবে।
১৫ ফেব্রুয়ারি ২০১৩, কক্সবাজারের হাশেমিয়া মাদ্রাসা মসজিদ এলাকায় জুমার নামাজ শেষে পুলিশের গুলিতে বুক বিদীর্ণ হয়ে তিনি ঘটনাস্থলেই শাহাদাত বরণ করেন। তার শাহাদাত শুধু একটি জীবনহানিই নয় অবুঝ শিশুদের প্রশ্ন, স্ত্রীর নীরব আর্তি ও বৃদ্ধ পিতার নির্বাক কান্নায় রূপ নেয় এক গভীর সামাজিক বেদনায়।
ত্যাগ, বিশ্বাস ও নির্যাতনের বিরুদ্ধে নীরব প্রতিবাদের প্রতীক হয়ে শহীদ আহমদ সালেহ আজও কক্সবাজারের মানুষের স্মৃতিতে অম্লান।
🩸 শাহাদাতের ঘটনা ও বিস্তারিত বিবরণ
শহীদ মোঃ আহমদ সালেহ
কক্সবাজার
৫
শিশুরা বলে, "আমার আব্বু কই?", ওরা কেন আমার আব্বুকে মারল?, "কে আমাদের খাতা পেন্সিল কিনে দিবে?" তখন তাদের সান্তনা জানানোর মতো ভাষা সম্ভবত পৃথিবীর মানুষ এখনো আবিষ্কার করতে পারেনি। অন্যদিকে শোকে স্তব্ধ স্ত্রীর... চোখ দুটি খুঁজে ফেরে পৃথিবীর সবচাইতে আপন করে নেয়া মনের মানুষটিকে, যে আর কখনোও এসে বলবেনা, "রান্না হয়েছে? ভাত বেড়ে দাও।" স্ত্রী স্বপ্নে দেখেছেন, স্বামী তার সুন্দর একটি বিছানায় বসে আছেন। বড় ছেলে রেদোয়ান দেখেছে, বাবা এসেছেন, সে বাবাকে বললো, 'কখন আসবেন? বাবা বললেন, 'এখন না, জান্নাতে তোমাদের সাথে দেখা হবে।"
১. শহীদের পরিচিতি
শহীদ মো: আহমদ সালেহ চট্টগ্রাম জেলার সাতকানিয়া উপজেলার ফজুরপাড়া গ্রামে ১৯৭০ সালে জন্মগ্রহণ করেন। পিতা মোঃ হামিদ আলী ও মাতা মরহুমা আমিনা খাতুনের তিন সন্তানের মধ্যে প্রথম ও একমাত্র ছেলে সন্তান। এক ভাই দুই বোনের সংসারে দরিদ্র পিতা-মাতা কোন রকমে সন্তানের অন্ন-কাপড়ের ব্যবস্থা করেছিলেন। পারেননি লেখাপড়ার ভাল কোন ব্যবস্থা করতে। শারীরিকভাবে সামর্থ্যবান হওয়ার পর থেকে অন্যের মুদির দোকানে কাজ করাই ছিল পেশা। মৃত্যুর আগেও তিনি কক্সবাজার মসজিদ মার্কেটে মুদির দোকানে চাকুরী করতেন। ৩ সন্তানের পিতা শহীদ আহমদ সালেহ দীর্ঘদিন থেকে মুদির দোকানে দোকান মজুর হিসেবে চাকুরী করে সংসার চালাতেন।
২. যেভাবে তিনি আল্লাহর ডাকে চলে গেলেন
১৫ ফেব্রুয়ারি ২০১৩ তারিখে মাওলানা সাঈদী মুক্তি পরিষদের উদ্যোগে বাদ জুমা মিছিলের ঘোষণা ছিল। অন্যান্য মুসল্লির ন্যায় তিনিও হাশেমিয়া মাদ্রাসা মসজিদে জুমার নামাজ আদায় করার জন্য যান। নামাজ শেষ হতে না হতে পুলিশ সমগ্র মসজিদ এলাকা ঘিরে ফেলে এবং মুসল্লিরা মসজিদ থেকে বের হলে সাথে সাথে পুলিশ গুলি করে। শহীদ আহমদ সালেহ ভাইয়ের বুকের বাম পাশে গুলি লেগে পেছন দিয়ে বেরিয়ে যায় এবং ঘটনাস্থলেই তিনি শহীদ হন। তার মৃত্যুর পর পুলিশ লাশ নিয়ে যায় এবং পোস্টমর্টেমের পর ১৬ ফেব্রুয়ারি, ২০১৩ তারিখে দুপুরে লাশ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করে। আসরের নামাজের পর তার লাশ তার গ্রামের বাড়ি সাতকানিয়ায় পৌঁছে এবং জানাজা শেষে তাকে পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয়।
৩. সামগ্রিক ঘটনার বিবরণ
১৫ ফেব্রুয়ারি ২০১৩ তারিখে মাওলানা সাঈদী মুক্তি পরিষদের উদ্যোগে বাদ জুমা মিছিলের ঘোষণা ছিল। অন্যান্য মুসল্লির ন্যায় তিনিও হাশেমিয়া মাদ্রাসা মসজিদে জুমার নামাজ আদায় করার জন্য যান। নামাজ শেষ হতে না হতে পুলিশ সমগ্র মসজিদ এলাকা ঘিরে ফেলে এবং মুসল্লিরা মসজিদ থেকে বের হলে সাথে সাথে পুলিশ গুলি করে। শহীদ আহমদ সালেহ-এর বুকের বাম পাশে গুলি লেগে পেছন দিয়ে বেরিয়ে যায় এবং ঘটনাস্থলেই তিনি শহীদ হন।
৪. শহীদের আপনজনদের কথা
শহীদের বাবার কথা: তার শহীদে তার বৃদ্ধ বাবা প্রায় নির্বাক। তিনি শুধু এতটুকু বলেন, আমার আহমদ সালেহ কই। কেন তাকে পুলিশ গুলি করে মেরে ফেলল? কী অপরাধ তার? এছাড়া তিনি কিছু বলতে পারেন না।
শহীদের সন্তান ও স্ত্রীর কথা: আহমদ সালেহ-র অবুঝ তিন সন্তানের বেদনার্ত কণ্ঠের রোনাজারি প্রতিটি পাষাণ হৃদয়কেও আলোড়িত করবে। বাবা হারানের শোকে তাদের চিৎকারে আকাশ বাতাস ভারী হয়ে ওঠে। যখন এই শিশুরা বলে, "আমার আব্বু কই?", "ওরা কেন আমার আব্বুকে মারল?", "কে আমাদের খাতা পেন্সিল কিনে দিবে?" তখন তাদের সান্ত্বনা জানানোর মতো ভাষা সম্ভবত পৃথিবীর মানুষ এখনো আবিষ্কার করতে পারেনি। অন্যদিকে শোকে স্তব্ধ স্ত্রীর অশ্রুধারা সবসময় গড়িয়ে পড়ে কপোল বেয়ে। দূর দিগন্তের পানে তার চোখ দুটি খুঁজে ফেরে পৃথিবীর সবচাইতে আপন করে নেয়া মনের মানুষটিকে, যে আর কখনোও এস বলবে না, "রান্না হয়েছে? ভাত বেড়ে দাও।"
স্ত্রী স্বপ্নে দেখেছেন, স্বামী তার সুন্দর একটি বিছানায় বসে আছেন। বড় ছেলে রেদোয়ান দেখেছে, বাবা এসেছেন, সে বাবাকে বললো, 'কখন আসবেন? বাবা বললেন, 'এখন না, জান্নাতে তোমাদের সাথে দেখা হবে। প্রতিবেশী মো: ইলিয়াস বলেন, তিনি এলাকায় সাধু হিসেবে পরিচিত ছিলেন। তার শাহাদাতে এলাকায় শোকের ছায়া নেমে আসে। তিনি খুব কষ্ট করে চলতেন কিন্তু কখনও তিনি মানুষকে বুঝতে দিতেন না। তিনি এলাকার কোন মানুষকে কোনদিন কষ্ট দিয়েছেন কেউ বলতে পারবে না।
৫. পত্রপত্রিকার বিবরণ
সালেহ আহমদের শাহাদাতের বিষয়টি পত্রিকাসমূহে ব্যাপকভাবে প্রচারিত হয়। ১৬ ফেব্রুয়ারি, ২০১৩ দৈনিক সংগ্রাম লিখে। "কক্সবাজারে পুলিশের গুলিতে নিহত সাতকানিয়ার সালেহ আহমদের পিতা শেষ বিচারের বিচারক আল্লাহর কাছেই পুত্র হত্যার বিচার চাই।"
কক্সবাজারে পুলিশের গুলিতে নিহত মোঃ ছালেহ আহমদ (ইনসেটে) ও তার ৩ ছেলে-মেয়ে-সংগ্রাম
সাতকানিয়া সংবাদদাতা: কক্সবাজারে পুলিশের গুলিতে নিহত হয়েছেন জামায়াত কর্মী মোহাম্মদ ছালেহ আহমদ। গতকাল শুক্রবার বিকালে সাতকানিয়ার ফজুরপাড়াস্থ বাড়িতে গিয়ে নিহতের ভাতিজা ব্যবসায়ী মাহমুদুল হকের সাথে আলাপকালে তিনি কান্নাজড়িত কন্ঠে বলেন, আমার চাচার সাথে গত শনিবারে আমার দেখা হয়েছিল। তখন তিনি বলেছিলেন দেশের অবস্থা ভাল নয়, সাঈদী সাহেবসহ বড় বড় আলেমদের গ্রেফতার করে নির্যাতন করা হচ্ছে। আমার ইচ্ছা যদি ফজুরপাড়া থেকে কেউ শহীদ হয় তাহলে আল্লাহ যেন আমাকেই কবুল করেন। আল্লাহ তাকে কবুল করেছে কথাগুলো বলে অঝোরে কাঁদছিলেন মাহমুদুল হক। নিহতের পিতা বৃদ্ধ হামিদ আলী বলেন, পুত্রের দেয়া শেষ গোসলে পুত্রের কাঁধে ভর করেই কবরে যেতে চেয়েছিলাম। কিন্তু তা আর হবে না। জীবনের শেষ প্রান্তে এসে ছেলের লাশই আমার কাঁধে নিতে হচ্ছে। গতকাল শুক্রবার বিকেল সাড়ে ৫টার সময় নিজ বাড়িতে এ
১৯৬
কথাগুলো বলার সময় বার বার মূর্ছা যাচ্ছিলেন তিনি। হামিদ আলী বলেন, আমার ছেলে আল্লাহর পথে শহীদ হয়েছেন। জালিম সরকারের কাছে ছেলে হত্যার বিচার চাইব না শেষ বিচারের বিচারক আল্লাহর কাছেই পুত্র হত্যার বিচার চাই।
সূত্রে প্রকাশ, হামিদ আলীর পুত্র মোহাম্মদ সালেহ দীর্ঘদিন থেকেই কক্সবাজার শহরে একটি স্টেশনারির দোকানে চাকরি করে আসছিলেন। জামায়াত ইসলামীর সক্রিয় কর্মী হলেও কোনদিনই কারো সাথে ঝগড়া করেনি। শান্তশিষ্ট ব্যক্তি হিসেবেই অধিক পরিচিত তিনি। তার মৃত্যুর খবর নিজ গ্রাম ফজুরপাড়ায় ছড়িয়ে পড়লে শোকের মাতম শুরু হয় পুরো গ্রামে। বিক্ষুব্ধ হয়ে ওঠে গ্রামবাসী। তারা বিকেল চারটার সময় চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কের হাসমত আলী সিকদারের দোকান এলাকায় সড়কে গাছের গুঁড়িতে আগুন দিয়ে অবরোধ সৃষ্টি করে। এতে সড়কের উভয় পার্শ্বেই শত শত যানবাহন আটকা পড়ে। মাহমুদুল হক জানান, নিহত মোহাম্মদ সালেহ আহমদরা চার ভাই তিন বোন। ভাইদের মধ্যে সালেহ আহমদই বড়। সালেহ আহমদের স্ত্রী, ২ ছেলে ও এক কন্যা সন্তান রয়েছে। বড় ছেলে স্থানীয় বিদ্যালয়ের ৭ম শ্রেণীর ছাত্র মোহাম্মদ রিদুয়ান বলে, বাবা রোববারে বাড়ি থেকে কক্সবাজারে গেছে। আসার সময় আমাদের জন্য স্কুল ব্যাগ ও জুতা আনার কথা ছিল। সালেহ আহমদের বাড়ির উঠানে মানুষের ভিড় দেখে ছোট বোন বেবী আক্তার বিলাপ করে কাঁদতে কাঁদতে বলছিলেন, সবাই আছে কিন্তু আমার ভাই কই, আমার ভাই কবে আসবে। স্থানীয় জামায়াত নেতা মাওলানা নুর মোহাম্মদ সাংবাদিকদের জানান, কক্সবাজারে পুলিশের গুলিতে নিহত মোহাম্মদ সালেহ জামায়াতে ইসলামীর সক্রিয় কর্মী ছিলেন। তিনি এলাকায় একজন জনপ্রিয় ব্যক্তি হিসেবেই পরিচিত। আমরা এ হত্যার বিচার চাই।
১৭ ফেব্রুয়ারি, ২০১৩ দৈনিক সংগ্রাম লিখে;
শহীদ সালেহ আহমদের সাতকানিয়ায় বিশাল জানাযা অনুষ্ঠিত
শুক্রবার কক্সবাজার শহরে মাওলানা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদী মুক্তি পরিষদের উদ্যোগে মাওলানা সাঈদীসহ জামায়াতের শীর্ষ নেতৃবৃন্দের মুক্তির দাবিতে অনুষ্ঠিত বিক্ষোভ মিছিলে পুলিশের বেপরোয়া গুলিবর্ষণে নিহত ৪ জনের মধ্যে শহীদ সালেহ আহমদের বাড়ি সাতকানিয়ার ছদাহা গ্রামে। গতকাল কক্সবাজার থেকে তার লাশ আনার পর নিজ গ্রামের বাড়িতে নামাযে জানাযা অনুষ্ঠিত হয়। জানাযায় উপস্থিত ছিলেন, জামায়াতের কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য মাওলানা মুমিনুল হক চৌধুরী, দক্ষিণ জেলা জামায়াতের আমীর জাফর সাদেক, সাবেক সংসদ সদস্য জননেতা আলহাজ্জ শাহজাহান চৌধুরী, বান্দরবান জামায়াতের আমীর মাওলানা আবদুস ছালাম, সাতকানিয়া জামায়াতের আমীর মাওলানা আবুল ফয়েজ, নায়েবে আমীর ডা. নূরুল হক, সেক্রেটারি মাওলানা মোজাফ্ফর আহমদ, চট্টগ্রাম মহানগরী দক্ষিণ ছাত্রশিবিরের সভাপতি মুহাম্মদ মহী উদ্দিন, চট্টগ্রাম মহানগরী উত্তরের সেক্রেটারি মুহাম্মদ নূরুল আমীন, ছাত্রনেতা নূরুল হক, জামায়াত দক্ষিণ জেলার অফিস সেক্রেটারি মুহাম্মদ জাকারিয়া, বিএনপি নেতা এডভোকেট আবু তাহের, মাওলানা আবদুর রশিদ আলকাদেরী, পদুয়া ইউনিয়নের আমীর মাওলানা আবুল কালাম, এস.এম ওয়াজেদ আলীসহ জামায়াত-শিবিরের হাজার হাজার নেতা-কর্মী ও এলাকাবাসী। শনিবার বাদ আসর শোকাহত জনতার উদ্দেশে জানাযা পূর্ব প্রতিবাদ সমাবেশে নেতৃবৃন্দ বক্তৃতায় বলেন, বর্তমান জালিম শাহী সরকার গুলি মেরে, হত্যা করে, আহত করে এবং নির্যাতন চালিয়ে ইসলামপ্রিয় তাওহীদী জনতাকে কখনো ইসলামী সমাজ প্রতিষ্ঠার আন্দোলন থেকে বিরত রাখতে পারবে না। আজ সরকার বুঝতে পেরেছে তাদের পায়ের তলায় মাটি নেই ফলে জনগণের সেবক পুলিশ বাহিনীকে ঠ্যাংগানো বাহিনীতে পরিণত করেছে এবং নিজেদের স্বার্থ চরিতার্থ করার জন্য এদেশের সাধারণ জনগণের ওপর তাদেরকে লেলিয়ে দিয়েছে। সরকার জনগণের সাথে রক্তের হোলি খেলায় মেতে উঠেছে। দেশবাসী আওয়ামী সরকারের এ হিংস্রতা ও নৃশংসতার জবাব অচিরেই প্রদান করবে এবং তাদের অন্যায় ও কুকর্মের বিচার জনগণই করবে। কোনভাবে তাদেরকে ক্ষমা করবে না এদেশের জনগণ। নেতৃবৃন্দ আরো বলেন, মাওলানা সাঈদীসহ জামায়াতের শীর্ষ নেতৃবৃন্দকে মৃত্যুদন্ড দেয়ার সকল ষড়যন্ত্র দেশবাসীকে সাথে নিয়ে প্রতিহত করা হবে এবং এদেশে ইসলামী সমাজ প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে শহীদ সালেহ আহমদের হত্যার বদলা নেয়া হবে।
৬. ব্যক্তিগত প্রোফাইল
নাম: শহীদ মো: আহমদ সালেহ (০৭৪)।
পেশা: মুদির দোকানে চাকুরী করতেন।
জন্ম তারিখ ও বয়স: ১৯৭০, ৪৩ বছর।
আহত হওয়ার তারিখ: ১৫ ফেব্রুয়ারি '১৩।
আহতের ধরন ও পরবর্তী অবস্থা: বুকের বামে গুলি লেগে পেছন দিয়ে বেরিয়ে যায়। ঘটনাস্থলেই শহীদ হন।
শাহাদাতের তারিখ: ১৫ ফেব্রুয়ারি '১৩,
স্থান: হাশেমিয়া মাদ্রাসা মসজিদ সংলগ্ন এলাকা। দাফন করা হয়: পরিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয়।
স্থায়ী ঠিকানা: গ্রাম: ফজুরপাড়া, ডাকঘর: ছদাহা, থানা: সাতকানিয়া, জেলা: চট্টগ্রাম।
পিতা: মোঃ হামিদ আলী। ৭৫ বছর বয়স্ক। দিনমজুরি। এখন অক্ষম। সন্তান সংসার চালাতো।
মাতা: মৃত আমিনা খাতুন।
সন্তানদের ছোট রেখেই তিনি মারা যান।
বাড়ি-ঘর ও সম্পদের অবস্থা: ১টি মাটির ঘর, ছনের চাল। ১৪ হাত/ ১৫ হাত লম্বা। নিজের কোন আবাদীজমি নেই। বর্তমানে অন্যের সহযোগিতায় পরিবার চলছে।
স্ত্রী ও সন্তানদের বিবরণ: স্ত্রী-সাজেদা বেগম, ৩৫ বছর।
মো: রেদোয়ান, ৮ম শ্রেণি, মাদ্রাসা ছাত্র। এহসান হাবীব, ৬ষ্ঠ শ্রেণি। উম্মে সালমা, ৩ বছর।
ভাই-বোনের বিবরণ: শহীদ আহমদ সালেহ, ৪২ বছর, দোকান কর্মচারী ছিলেন। রশিদা বেগম, বিবাহিতা। খুরশিদা বেগম, বিবাহিতা। অল্প বয়েসে তাদের মা মারা যাওয়ায় বাবা আবার বিয়ে করেন। সে ঘরে আছে ৩ ভাই ১ বোন।
কক্সবাজার
৫
শিশুরা বলে, "আমার আব্বু কই?", ওরা কেন আমার আব্বুকে মারল?, "কে আমাদের খাতা পেন্সিল কিনে দিবে?" তখন তাদের সান্তনা জানানোর মতো ভাষা সম্ভবত পৃথিবীর মানুষ এখনো আবিষ্কার করতে পারেনি। অন্যদিকে শোকে স্তব্ধ স্ত্রীর... চোখ দুটি খুঁজে ফেরে পৃথিবীর সবচাইতে আপন করে নেয়া মনের মানুষটিকে, যে আর কখনোও এসে বলবেনা, "রান্না হয়েছে? ভাত বেড়ে দাও।" স্ত্রী স্বপ্নে দেখেছেন, স্বামী তার সুন্দর একটি বিছানায় বসে আছেন। বড় ছেলে রেদোয়ান দেখেছে, বাবা এসেছেন, সে বাবাকে বললো, 'কখন আসবেন? বাবা বললেন, 'এখন না, জান্নাতে তোমাদের সাথে দেখা হবে।"
১. শহীদের পরিচিতি
শহীদ মো: আহমদ সালেহ চট্টগ্রাম জেলার সাতকানিয়া উপজেলার ফজুরপাড়া গ্রামে ১৯৭০ সালে জন্মগ্রহণ করেন। পিতা মোঃ হামিদ আলী ও মাতা মরহুমা আমিনা খাতুনের তিন সন্তানের মধ্যে প্রথম ও একমাত্র ছেলে সন্তান। এক ভাই দুই বোনের সংসারে দরিদ্র পিতা-মাতা কোন রকমে সন্তানের অন্ন-কাপড়ের ব্যবস্থা করেছিলেন। পারেননি লেখাপড়ার ভাল কোন ব্যবস্থা করতে। শারীরিকভাবে সামর্থ্যবান হওয়ার পর থেকে অন্যের মুদির দোকানে কাজ করাই ছিল পেশা। মৃত্যুর আগেও তিনি কক্সবাজার মসজিদ মার্কেটে মুদির দোকানে চাকুরী করতেন। ৩ সন্তানের পিতা শহীদ আহমদ সালেহ দীর্ঘদিন থেকে মুদির দোকানে দোকান মজুর হিসেবে চাকুরী করে সংসার চালাতেন।
২. যেভাবে তিনি আল্লাহর ডাকে চলে গেলেন
১৫ ফেব্রুয়ারি ২০১৩ তারিখে মাওলানা সাঈদী মুক্তি পরিষদের উদ্যোগে বাদ জুমা মিছিলের ঘোষণা ছিল। অন্যান্য মুসল্লির ন্যায় তিনিও হাশেমিয়া মাদ্রাসা মসজিদে জুমার নামাজ আদায় করার জন্য যান। নামাজ শেষ হতে না হতে পুলিশ সমগ্র মসজিদ এলাকা ঘিরে ফেলে এবং মুসল্লিরা মসজিদ থেকে বের হলে সাথে সাথে পুলিশ গুলি করে। শহীদ আহমদ সালেহ ভাইয়ের বুকের বাম পাশে গুলি লেগে পেছন দিয়ে বেরিয়ে যায় এবং ঘটনাস্থলেই তিনি শহীদ হন। তার মৃত্যুর পর পুলিশ লাশ নিয়ে যায় এবং পোস্টমর্টেমের পর ১৬ ফেব্রুয়ারি, ২০১৩ তারিখে দুপুরে লাশ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করে। আসরের নামাজের পর তার লাশ তার গ্রামের বাড়ি সাতকানিয়ায় পৌঁছে এবং জানাজা শেষে তাকে পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয়।
৩. সামগ্রিক ঘটনার বিবরণ
১৫ ফেব্রুয়ারি ২০১৩ তারিখে মাওলানা সাঈদী মুক্তি পরিষদের উদ্যোগে বাদ জুমা মিছিলের ঘোষণা ছিল। অন্যান্য মুসল্লির ন্যায় তিনিও হাশেমিয়া মাদ্রাসা মসজিদে জুমার নামাজ আদায় করার জন্য যান। নামাজ শেষ হতে না হতে পুলিশ সমগ্র মসজিদ এলাকা ঘিরে ফেলে এবং মুসল্লিরা মসজিদ থেকে বের হলে সাথে সাথে পুলিশ গুলি করে। শহীদ আহমদ সালেহ-এর বুকের বাম পাশে গুলি লেগে পেছন দিয়ে বেরিয়ে যায় এবং ঘটনাস্থলেই তিনি শহীদ হন।
৪. শহীদের আপনজনদের কথা
শহীদের বাবার কথা: তার শহীদে তার বৃদ্ধ বাবা প্রায় নির্বাক। তিনি শুধু এতটুকু বলেন, আমার আহমদ সালেহ কই। কেন তাকে পুলিশ গুলি করে মেরে ফেলল? কী অপরাধ তার? এছাড়া তিনি কিছু বলতে পারেন না।
শহীদের সন্তান ও স্ত্রীর কথা: আহমদ সালেহ-র অবুঝ তিন সন্তানের বেদনার্ত কণ্ঠের রোনাজারি প্রতিটি পাষাণ হৃদয়কেও আলোড়িত করবে। বাবা হারানের শোকে তাদের চিৎকারে আকাশ বাতাস ভারী হয়ে ওঠে। যখন এই শিশুরা বলে, "আমার আব্বু কই?", "ওরা কেন আমার আব্বুকে মারল?", "কে আমাদের খাতা পেন্সিল কিনে দিবে?" তখন তাদের সান্ত্বনা জানানোর মতো ভাষা সম্ভবত পৃথিবীর মানুষ এখনো আবিষ্কার করতে পারেনি। অন্যদিকে শোকে স্তব্ধ স্ত্রীর অশ্রুধারা সবসময় গড়িয়ে পড়ে কপোল বেয়ে। দূর দিগন্তের পানে তার চোখ দুটি খুঁজে ফেরে পৃথিবীর সবচাইতে আপন করে নেয়া মনের মানুষটিকে, যে আর কখনোও এস বলবে না, "রান্না হয়েছে? ভাত বেড়ে দাও।"
স্ত্রী স্বপ্নে দেখেছেন, স্বামী তার সুন্দর একটি বিছানায় বসে আছেন। বড় ছেলে রেদোয়ান দেখেছে, বাবা এসেছেন, সে বাবাকে বললো, 'কখন আসবেন? বাবা বললেন, 'এখন না, জান্নাতে তোমাদের সাথে দেখা হবে। প্রতিবেশী মো: ইলিয়াস বলেন, তিনি এলাকায় সাধু হিসেবে পরিচিত ছিলেন। তার শাহাদাতে এলাকায় শোকের ছায়া নেমে আসে। তিনি খুব কষ্ট করে চলতেন কিন্তু কখনও তিনি মানুষকে বুঝতে দিতেন না। তিনি এলাকার কোন মানুষকে কোনদিন কষ্ট দিয়েছেন কেউ বলতে পারবে না।
৫. পত্রপত্রিকার বিবরণ
সালেহ আহমদের শাহাদাতের বিষয়টি পত্রিকাসমূহে ব্যাপকভাবে প্রচারিত হয়। ১৬ ফেব্রুয়ারি, ২০১৩ দৈনিক সংগ্রাম লিখে। "কক্সবাজারে পুলিশের গুলিতে নিহত সাতকানিয়ার সালেহ আহমদের পিতা শেষ বিচারের বিচারক আল্লাহর কাছেই পুত্র হত্যার বিচার চাই।"
কক্সবাজারে পুলিশের গুলিতে নিহত মোঃ ছালেহ আহমদ (ইনসেটে) ও তার ৩ ছেলে-মেয়ে-সংগ্রাম
সাতকানিয়া সংবাদদাতা: কক্সবাজারে পুলিশের গুলিতে নিহত হয়েছেন জামায়াত কর্মী মোহাম্মদ ছালেহ আহমদ। গতকাল শুক্রবার বিকালে সাতকানিয়ার ফজুরপাড়াস্থ বাড়িতে গিয়ে নিহতের ভাতিজা ব্যবসায়ী মাহমুদুল হকের সাথে আলাপকালে তিনি কান্নাজড়িত কন্ঠে বলেন, আমার চাচার সাথে গত শনিবারে আমার দেখা হয়েছিল। তখন তিনি বলেছিলেন দেশের অবস্থা ভাল নয়, সাঈদী সাহেবসহ বড় বড় আলেমদের গ্রেফতার করে নির্যাতন করা হচ্ছে। আমার ইচ্ছা যদি ফজুরপাড়া থেকে কেউ শহীদ হয় তাহলে আল্লাহ যেন আমাকেই কবুল করেন। আল্লাহ তাকে কবুল করেছে কথাগুলো বলে অঝোরে কাঁদছিলেন মাহমুদুল হক। নিহতের পিতা বৃদ্ধ হামিদ আলী বলেন, পুত্রের দেয়া শেষ গোসলে পুত্রের কাঁধে ভর করেই কবরে যেতে চেয়েছিলাম। কিন্তু তা আর হবে না। জীবনের শেষ প্রান্তে এসে ছেলের লাশই আমার কাঁধে নিতে হচ্ছে। গতকাল শুক্রবার বিকেল সাড়ে ৫টার সময় নিজ বাড়িতে এ
১৯৬
কথাগুলো বলার সময় বার বার মূর্ছা যাচ্ছিলেন তিনি। হামিদ আলী বলেন, আমার ছেলে আল্লাহর পথে শহীদ হয়েছেন। জালিম সরকারের কাছে ছেলে হত্যার বিচার চাইব না শেষ বিচারের বিচারক আল্লাহর কাছেই পুত্র হত্যার বিচার চাই।
সূত্রে প্রকাশ, হামিদ আলীর পুত্র মোহাম্মদ সালেহ দীর্ঘদিন থেকেই কক্সবাজার শহরে একটি স্টেশনারির দোকানে চাকরি করে আসছিলেন। জামায়াত ইসলামীর সক্রিয় কর্মী হলেও কোনদিনই কারো সাথে ঝগড়া করেনি। শান্তশিষ্ট ব্যক্তি হিসেবেই অধিক পরিচিত তিনি। তার মৃত্যুর খবর নিজ গ্রাম ফজুরপাড়ায় ছড়িয়ে পড়লে শোকের মাতম শুরু হয় পুরো গ্রামে। বিক্ষুব্ধ হয়ে ওঠে গ্রামবাসী। তারা বিকেল চারটার সময় চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কের হাসমত আলী সিকদারের দোকান এলাকায় সড়কে গাছের গুঁড়িতে আগুন দিয়ে অবরোধ সৃষ্টি করে। এতে সড়কের উভয় পার্শ্বেই শত শত যানবাহন আটকা পড়ে। মাহমুদুল হক জানান, নিহত মোহাম্মদ সালেহ আহমদরা চার ভাই তিন বোন। ভাইদের মধ্যে সালেহ আহমদই বড়। সালেহ আহমদের স্ত্রী, ২ ছেলে ও এক কন্যা সন্তান রয়েছে। বড় ছেলে স্থানীয় বিদ্যালয়ের ৭ম শ্রেণীর ছাত্র মোহাম্মদ রিদুয়ান বলে, বাবা রোববারে বাড়ি থেকে কক্সবাজারে গেছে। আসার সময় আমাদের জন্য স্কুল ব্যাগ ও জুতা আনার কথা ছিল। সালেহ আহমদের বাড়ির উঠানে মানুষের ভিড় দেখে ছোট বোন বেবী আক্তার বিলাপ করে কাঁদতে কাঁদতে বলছিলেন, সবাই আছে কিন্তু আমার ভাই কই, আমার ভাই কবে আসবে। স্থানীয় জামায়াত নেতা মাওলানা নুর মোহাম্মদ সাংবাদিকদের জানান, কক্সবাজারে পুলিশের গুলিতে নিহত মোহাম্মদ সালেহ জামায়াতে ইসলামীর সক্রিয় কর্মী ছিলেন। তিনি এলাকায় একজন জনপ্রিয় ব্যক্তি হিসেবেই পরিচিত। আমরা এ হত্যার বিচার চাই।
১৭ ফেব্রুয়ারি, ২০১৩ দৈনিক সংগ্রাম লিখে;
শহীদ সালেহ আহমদের সাতকানিয়ায় বিশাল জানাযা অনুষ্ঠিত
শুক্রবার কক্সবাজার শহরে মাওলানা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদী মুক্তি পরিষদের উদ্যোগে মাওলানা সাঈদীসহ জামায়াতের শীর্ষ নেতৃবৃন্দের মুক্তির দাবিতে অনুষ্ঠিত বিক্ষোভ মিছিলে পুলিশের বেপরোয়া গুলিবর্ষণে নিহত ৪ জনের মধ্যে শহীদ সালেহ আহমদের বাড়ি সাতকানিয়ার ছদাহা গ্রামে। গতকাল কক্সবাজার থেকে তার লাশ আনার পর নিজ গ্রামের বাড়িতে নামাযে জানাযা অনুষ্ঠিত হয়। জানাযায় উপস্থিত ছিলেন, জামায়াতের কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য মাওলানা মুমিনুল হক চৌধুরী, দক্ষিণ জেলা জামায়াতের আমীর জাফর সাদেক, সাবেক সংসদ সদস্য জননেতা আলহাজ্জ শাহজাহান চৌধুরী, বান্দরবান জামায়াতের আমীর মাওলানা আবদুস ছালাম, সাতকানিয়া জামায়াতের আমীর মাওলানা আবুল ফয়েজ, নায়েবে আমীর ডা. নূরুল হক, সেক্রেটারি মাওলানা মোজাফ্ফর আহমদ, চট্টগ্রাম মহানগরী দক্ষিণ ছাত্রশিবিরের সভাপতি মুহাম্মদ মহী উদ্দিন, চট্টগ্রাম মহানগরী উত্তরের সেক্রেটারি মুহাম্মদ নূরুল আমীন, ছাত্রনেতা নূরুল হক, জামায়াত দক্ষিণ জেলার অফিস সেক্রেটারি মুহাম্মদ জাকারিয়া, বিএনপি নেতা এডভোকেট আবু তাহের, মাওলানা আবদুর রশিদ আলকাদেরী, পদুয়া ইউনিয়নের আমীর মাওলানা আবুল কালাম, এস.এম ওয়াজেদ আলীসহ জামায়াত-শিবিরের হাজার হাজার নেতা-কর্মী ও এলাকাবাসী। শনিবার বাদ আসর শোকাহত জনতার উদ্দেশে জানাযা পূর্ব প্রতিবাদ সমাবেশে নেতৃবৃন্দ বক্তৃতায় বলেন, বর্তমান জালিম শাহী সরকার গুলি মেরে, হত্যা করে, আহত করে এবং নির্যাতন চালিয়ে ইসলামপ্রিয় তাওহীদী জনতাকে কখনো ইসলামী সমাজ প্রতিষ্ঠার আন্দোলন থেকে বিরত রাখতে পারবে না। আজ সরকার বুঝতে পেরেছে তাদের পায়ের তলায় মাটি নেই ফলে জনগণের সেবক পুলিশ বাহিনীকে ঠ্যাংগানো বাহিনীতে পরিণত করেছে এবং নিজেদের স্বার্থ চরিতার্থ করার জন্য এদেশের সাধারণ জনগণের ওপর তাদেরকে লেলিয়ে দিয়েছে। সরকার জনগণের সাথে রক্তের হোলি খেলায় মেতে উঠেছে। দেশবাসী আওয়ামী সরকারের এ হিংস্রতা ও নৃশংসতার জবাব অচিরেই প্রদান করবে এবং তাদের অন্যায় ও কুকর্মের বিচার জনগণই করবে। কোনভাবে তাদেরকে ক্ষমা করবে না এদেশের জনগণ। নেতৃবৃন্দ আরো বলেন, মাওলানা সাঈদীসহ জামায়াতের শীর্ষ নেতৃবৃন্দকে মৃত্যুদন্ড দেয়ার সকল ষড়যন্ত্র দেশবাসীকে সাথে নিয়ে প্রতিহত করা হবে এবং এদেশে ইসলামী সমাজ প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে শহীদ সালেহ আহমদের হত্যার বদলা নেয়া হবে।
৬. ব্যক্তিগত প্রোফাইল
নাম: শহীদ মো: আহমদ সালেহ (০৭৪)।
পেশা: মুদির দোকানে চাকুরী করতেন।
জন্ম তারিখ ও বয়স: ১৯৭০, ৪৩ বছর।
আহত হওয়ার তারিখ: ১৫ ফেব্রুয়ারি '১৩।
আহতের ধরন ও পরবর্তী অবস্থা: বুকের বামে গুলি লেগে পেছন দিয়ে বেরিয়ে যায়। ঘটনাস্থলেই শহীদ হন।
শাহাদাতের তারিখ: ১৫ ফেব্রুয়ারি '১৩,
স্থান: হাশেমিয়া মাদ্রাসা মসজিদ সংলগ্ন এলাকা। দাফন করা হয়: পরিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয়।
স্থায়ী ঠিকানা: গ্রাম: ফজুরপাড়া, ডাকঘর: ছদাহা, থানা: সাতকানিয়া, জেলা: চট্টগ্রাম।
পিতা: মোঃ হামিদ আলী। ৭৫ বছর বয়স্ক। দিনমজুরি। এখন অক্ষম। সন্তান সংসার চালাতো।
মাতা: মৃত আমিনা খাতুন।
সন্তানদের ছোট রেখেই তিনি মারা যান।
বাড়ি-ঘর ও সম্পদের অবস্থা: ১টি মাটির ঘর, ছনের চাল। ১৪ হাত/ ১৫ হাত লম্বা। নিজের কোন আবাদীজমি নেই। বর্তমানে অন্যের সহযোগিতায় পরিবার চলছে।
স্ত্রী ও সন্তানদের বিবরণ: স্ত্রী-সাজেদা বেগম, ৩৫ বছর।
মো: রেদোয়ান, ৮ম শ্রেণি, মাদ্রাসা ছাত্র। এহসান হাবীব, ৬ষ্ঠ শ্রেণি। উম্মে সালমা, ৩ বছর।
ভাই-বোনের বিবরণ: শহীদ আহমদ সালেহ, ৪২ বছর, দোকান কর্মচারী ছিলেন। রশিদা বেগম, বিবাহিতা। খুরশিদা বেগম, বিবাহিতা। অল্প বয়েসে তাদের মা মারা যাওয়ায় বাবা আবার বিয়ে করেন। সে ঘরে আছে ৩ ভাই ১ বোন।
📸 তথ্য ও স্মৃতি সম্বলিত আলোকচিত্র
🔍
🔍
🔍
🔍