শহীদ হামিদুল হক
আওয়ামী দুঃশাসনের বিগত ১৬ বছরের ফ্যাসিবাদবিরোধী শহীদ
📝 সংক্ষিপ্ত পরিচিতি
শহীদ হামিদুল হক (১৯৭২–২০১৩) কক্সবাজার সদরের খরুলিয়া মাস্টারপাড়া এলাকার এক পরিশ্রমী সবজি পাইকার ও ধর্মপরায়ণ মানুষ ছিলেন। স্বল্পশিক্ষিত হলেও নিয়মিত নামাজ, মানবকল্যাণ ও ইসলামী আন্দোলনের প্রতি নিষ্ঠাই ছিল তার জীবনের মূল পরিচয়।
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর একজন নিবেদিত কর্মী হিসেবে অন্যায়ের প্রতিবাদে তিনি রাজপথে সক্রিয় ছিলেন।
১৩ আগস্ট ২০১৩, জামায়াতের ডাকা হরতালের সমর্থনে মিছিলে অংশ নিয়ে চট্টগ্রাম–কক্সবাজার মহাসড়কে জীপের ধাক্কায় আহত হয়ে হাসপাতালে নেওয়ার পথে তিনি শাহাদাত বরণ করেন। নয় সন্তানের জনক হামিদুল হকের শাহাদাত কক্সবাজারে ত্যাগ, বিশ্বাস ও প্রতিবাদী চেতনার এক নীরব কিন্তু গভীর স্মারক হয়ে আছে।
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর একজন নিবেদিত কর্মী হিসেবে অন্যায়ের প্রতিবাদে তিনি রাজপথে সক্রিয় ছিলেন।
১৩ আগস্ট ২০১৩, জামায়াতের ডাকা হরতালের সমর্থনে মিছিলে অংশ নিয়ে চট্টগ্রাম–কক্সবাজার মহাসড়কে জীপের ধাক্কায় আহত হয়ে হাসপাতালে নেওয়ার পথে তিনি শাহাদাত বরণ করেন। নয় সন্তানের জনক হামিদুল হকের শাহাদাত কক্সবাজারে ত্যাগ, বিশ্বাস ও প্রতিবাদী চেতনার এক নীরব কিন্তু গভীর স্মারক হয়ে আছে।
🩸 শাহাদাতের ঘটনা ও বিস্তারিত বিবরণ
শহীদ হামিদুল হক
কক্সবাজার
৬
শহীদের পরিচিতি
শহীদ হামিদুল হক কক্সবাজার সদরের নয় নম্বর ওয়ার্ড খরুলিয়া মাস্টারপাড়া এলাকার মরহুম আবুল খায়ের ও সবুরা খাতুনের তৃতীয় সন্তান। ১৯৭২ সালের ৪ সেপ্টেম্বর তিনি জন্মগ্রহণ করেন। পাঁচ ভাই এক বোনের সংসারে হামিদুল হক পেশায় তরি-তরকারির পাইকারী ব্যবসা করতেন। তিনি বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর একজন নিবেদিত কর্মী ছিলেন। শহীদ হামিদুল হক পিতামাতার ৩য় সন্তান ছিলেন। পিতামাতা অনেক আগেই পৃথিবী ছেড়ে চলে যান। পারিবারিক জীবনে পিতা চাষাবাদ করে সংসার চালাতেন। শহীদ হামিদুল হক তেমন পড়ালেখা করেননি। পিতার কাজে সাহায করতেন। বৈবাহিক জীবনে এসে একইভাবে মানুষের জমি চাষাবাদ করে কোন রকম সংসার চালাতেন। শিক্ষিত না হলেও তিনি ছিলেন নিয়মিত নামাজি। ইসলামের জন্য যে কোন কাজে ঝাঁপিয়ে পড়তেন। তিনি বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী এর সহযোগী সমর্থক ছিলেন।
যেভাবে তিনি আল্লাহর ডাকে চলে গেলেন
মহাজোটের নামে আওয়ামী সরকার ক্ষমতায় এসেই দেশের ইসলামী ও তৌহিদী জনতার উপর চরম জুলুম নির্যাতন শুরু করে। এরই ধারাবাহিকতায় সংবিধানে আল্লাহ সকল ক্ষমতার উৎস এ কথা থাকার অভিযোগে বাংলাদেশের বৃহত্তম ইসলামী দল বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নিবন্ধন বাতিল করে দেয় সরকার। এই অবিচারের প্রতিবাদে ১৩ ও ১৪ আগস্ট ২০১৩ সকাল-সন্ধা হরতালের ডাক দেয় জামায়াত। ১৩ আগষ্ট হরতালের সমর্থনে মিছিলে অংশগ্রহণ করে শাহাদাৎ বরণ করেন। তার সাথে আরও দুইজন আহত হয়।
ঘটনার সামগ্রিক বিবরণ
রাজনৈতিক দল হিসেবে নির্বাচন কমিশন থেকে জামায়াতে ইসলামীর নিবন্ধন বাতিলে আদালতের রায়ের প্রতিবাদে দেয়া হরতালে রাজপথে কঠোর অবস্থানে ছিল পিকেটার-পুলিশ। সরকারি দলের ক্যাডার বাহিনীও সশস্ত্র মহড়া দেয়। হরতালবিরোধী মিছিল বের করে সরকার সমর্থক শাহবাগি ব্লগাররা। আওয়ামী লীগ, ছাত্রলীগ, যুবলীগ, স্বেচ্ছাসেবক লীগও রাজধানীতে পৃথক পৃথক হরতালবিরোধী মিছিল বের করে। ২০১৩ সালে পবিত্র ঈদুল ফিতরের মাত্র চারদিন পরে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর ডাকা ৪৮ ঘন্টার হরতালের প্রথম দিন চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কের চেয়ারম্যান পাড়ায় হরতালের সমর্থনে মিছিলে অংশগ্রহণ করে জীপের ধাক্কায় আহত হয়ে সদর হাসপাতালে নেয়ার পথে শাহাদাত বরণ করেন শহীদ হামিদুল হক।
শহীদের আপনজনদের কথা
শহীদের বড় ভাই জনাব নূরুল ইসলাম বলেন, আমার ছোট ভাই শহীদ হামিদুল হক প্রতিনিয়ত নামাজে দোয়া পড়তেন। বিভিন্ন ওয়াজ মাহফিলে অংশগ্রহণ করতেন। তার আচার-আচরণ খুবই ভাল ছিল। সব সময় মানুষের কল্যাণের জন্য চেষ্টা করতেন।
শহীদের পরিবার
পাঁচ কন্যা ও চার পুত্র নিয়ে শহীদ হামিদুল হকের পরিবার সামাল দিচ্ছেন স্ত্রী জান্নাত আরা বেগম। তাঁর বয়স বিয়াল্লিশ বছর। পেশায় গৃহিণী। সন্তানদের মধ্যে সবার বড় মেয়ে আমিনাহর বয়স উনিশ বছর। ষষ্ঠ শ্রেণি পর্যন্ত পড়ালেখার পর ঘরে বসে আছেন। দ্বিতীয় সন্তান মোমেনাহর বয়স আঠারো বছর। তিনিও পড়েছেন ষষ্ঠ শ্রেণি পর্যন্ত। তৃতীয় সন্তান আব্দুল্লাহ আল মামুনের বয়স সতেরো বছর। পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত পড়াশুনার পর এখন সুপারির ব্যবসা করে সংসারের হাল ধরেছেন। চতুর্থ সন্তান ফাতেমা আক্তারের বয়স ষোল বছর। ফাতেমা পড়ালেখা করছেন। এ বছর এইচএসসিতে পড়ছেন। পরিবারের পঞ্চম সন্তান আরাফাতের বয়স চৌদ্দ বছর। পড়ছেন সপ্তম শ্রেণিতে। সপ্তম সন্তান তের বছর বয়সী মোঃ হান্নান শাহ হাফেজী পড়ছেন। অষ্টম সন্তান কুলসুমা আক্তারের বয়স দশ বছর, চতুর্থ শ্রেণিতে পড়ে। নবম সন্তান মাইমুনা আক্তারের বয়স আট বছর, দ্বিতীয় শ্রেণিতে পড়ে।
শহীদ হামিদুল হকের ভাই-বোনদের মধ্যে সবার বড় বোন মমতাজ বেগম তার আট সন্তান নিয়ে স্বামীর সংসারে আছেন। পরিবারের দ্বিতীয় সন্তান শহীদ হামিদুল হকের ভাই নুরুল ইসলাম ভূমি অফিসার। আটান্ন বছর বয়সে চার সন্তান নিয়ে তিনিও থাকেন আলাদা সংসারে। শহীদি পরিবারে হামিদুল হক তৃতীয়। চতুর্থ আমানুল হক কৃষি কাজ করেন। তিনিও তিন সন্তান নিয়ে আলাদা থাকেন। চল্লিশ বছর বয়সী নুরুল হক এই পরিবারের পঞ্চম সন্তান। পেশায় ওয়ার্কশপ ব্যবসায়ী। তিনিও চার সন্তান নিয়ে আলাদা থাকেন। ঘষ্ঠ সন্তান নুরুল আফসার সৌদি প্রবাসী। সাইত্রিশ বছর বয়সে তিন সন্তান নিয়ে তারও সংসার আলাদা।
এক নজরে শহীদ হামিদুল হক
নাম : হামিদুল হক
পিতার নাম: মরহুম আবুল খায়ের
মাতা: মরহুমা সবুরা খাতুন
জন্ম তারিখ: ৪ সেপ্টেম্বর ১৯৭২
স্ত্রীর নাম: জান্নাত আরা বেগম
স্ত্রীর পেশা: গৃহিণী
স্ত্রীর বয়স: ৪২ বছর
সন্তান: ৫ মেয়ে ৪ ছেলে
ঠিকানা: হোল্ডিং নং- ২১, ওয়ার্ড- ৯, খরুলিয়া মাস্টারপাড়া, কক্সবাজার সদর।
সাংগঠনিক মান: জামায়াত কর্মী
শাহাদাতের তারিখ: ১৩ আগস্ট ২০১৩
কক্সবাজার
৬
শহীদের পরিচিতি
শহীদ হামিদুল হক কক্সবাজার সদরের নয় নম্বর ওয়ার্ড খরুলিয়া মাস্টারপাড়া এলাকার মরহুম আবুল খায়ের ও সবুরা খাতুনের তৃতীয় সন্তান। ১৯৭২ সালের ৪ সেপ্টেম্বর তিনি জন্মগ্রহণ করেন। পাঁচ ভাই এক বোনের সংসারে হামিদুল হক পেশায় তরি-তরকারির পাইকারী ব্যবসা করতেন। তিনি বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর একজন নিবেদিত কর্মী ছিলেন। শহীদ হামিদুল হক পিতামাতার ৩য় সন্তান ছিলেন। পিতামাতা অনেক আগেই পৃথিবী ছেড়ে চলে যান। পারিবারিক জীবনে পিতা চাষাবাদ করে সংসার চালাতেন। শহীদ হামিদুল হক তেমন পড়ালেখা করেননি। পিতার কাজে সাহায করতেন। বৈবাহিক জীবনে এসে একইভাবে মানুষের জমি চাষাবাদ করে কোন রকম সংসার চালাতেন। শিক্ষিত না হলেও তিনি ছিলেন নিয়মিত নামাজি। ইসলামের জন্য যে কোন কাজে ঝাঁপিয়ে পড়তেন। তিনি বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী এর সহযোগী সমর্থক ছিলেন।
যেভাবে তিনি আল্লাহর ডাকে চলে গেলেন
মহাজোটের নামে আওয়ামী সরকার ক্ষমতায় এসেই দেশের ইসলামী ও তৌহিদী জনতার উপর চরম জুলুম নির্যাতন শুরু করে। এরই ধারাবাহিকতায় সংবিধানে আল্লাহ সকল ক্ষমতার উৎস এ কথা থাকার অভিযোগে বাংলাদেশের বৃহত্তম ইসলামী দল বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নিবন্ধন বাতিল করে দেয় সরকার। এই অবিচারের প্রতিবাদে ১৩ ও ১৪ আগস্ট ২০১৩ সকাল-সন্ধা হরতালের ডাক দেয় জামায়াত। ১৩ আগষ্ট হরতালের সমর্থনে মিছিলে অংশগ্রহণ করে শাহাদাৎ বরণ করেন। তার সাথে আরও দুইজন আহত হয়।
ঘটনার সামগ্রিক বিবরণ
রাজনৈতিক দল হিসেবে নির্বাচন কমিশন থেকে জামায়াতে ইসলামীর নিবন্ধন বাতিলে আদালতের রায়ের প্রতিবাদে দেয়া হরতালে রাজপথে কঠোর অবস্থানে ছিল পিকেটার-পুলিশ। সরকারি দলের ক্যাডার বাহিনীও সশস্ত্র মহড়া দেয়। হরতালবিরোধী মিছিল বের করে সরকার সমর্থক শাহবাগি ব্লগাররা। আওয়ামী লীগ, ছাত্রলীগ, যুবলীগ, স্বেচ্ছাসেবক লীগও রাজধানীতে পৃথক পৃথক হরতালবিরোধী মিছিল বের করে। ২০১৩ সালে পবিত্র ঈদুল ফিতরের মাত্র চারদিন পরে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর ডাকা ৪৮ ঘন্টার হরতালের প্রথম দিন চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কের চেয়ারম্যান পাড়ায় হরতালের সমর্থনে মিছিলে অংশগ্রহণ করে জীপের ধাক্কায় আহত হয়ে সদর হাসপাতালে নেয়ার পথে শাহাদাত বরণ করেন শহীদ হামিদুল হক।
শহীদের আপনজনদের কথা
শহীদের বড় ভাই জনাব নূরুল ইসলাম বলেন, আমার ছোট ভাই শহীদ হামিদুল হক প্রতিনিয়ত নামাজে দোয়া পড়তেন। বিভিন্ন ওয়াজ মাহফিলে অংশগ্রহণ করতেন। তার আচার-আচরণ খুবই ভাল ছিল। সব সময় মানুষের কল্যাণের জন্য চেষ্টা করতেন।
শহীদের পরিবার
পাঁচ কন্যা ও চার পুত্র নিয়ে শহীদ হামিদুল হকের পরিবার সামাল দিচ্ছেন স্ত্রী জান্নাত আরা বেগম। তাঁর বয়স বিয়াল্লিশ বছর। পেশায় গৃহিণী। সন্তানদের মধ্যে সবার বড় মেয়ে আমিনাহর বয়স উনিশ বছর। ষষ্ঠ শ্রেণি পর্যন্ত পড়ালেখার পর ঘরে বসে আছেন। দ্বিতীয় সন্তান মোমেনাহর বয়স আঠারো বছর। তিনিও পড়েছেন ষষ্ঠ শ্রেণি পর্যন্ত। তৃতীয় সন্তান আব্দুল্লাহ আল মামুনের বয়স সতেরো বছর। পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত পড়াশুনার পর এখন সুপারির ব্যবসা করে সংসারের হাল ধরেছেন। চতুর্থ সন্তান ফাতেমা আক্তারের বয়স ষোল বছর। ফাতেমা পড়ালেখা করছেন। এ বছর এইচএসসিতে পড়ছেন। পরিবারের পঞ্চম সন্তান আরাফাতের বয়স চৌদ্দ বছর। পড়ছেন সপ্তম শ্রেণিতে। সপ্তম সন্তান তের বছর বয়সী মোঃ হান্নান শাহ হাফেজী পড়ছেন। অষ্টম সন্তান কুলসুমা আক্তারের বয়স দশ বছর, চতুর্থ শ্রেণিতে পড়ে। নবম সন্তান মাইমুনা আক্তারের বয়স আট বছর, দ্বিতীয় শ্রেণিতে পড়ে।
শহীদ হামিদুল হকের ভাই-বোনদের মধ্যে সবার বড় বোন মমতাজ বেগম তার আট সন্তান নিয়ে স্বামীর সংসারে আছেন। পরিবারের দ্বিতীয় সন্তান শহীদ হামিদুল হকের ভাই নুরুল ইসলাম ভূমি অফিসার। আটান্ন বছর বয়সে চার সন্তান নিয়ে তিনিও থাকেন আলাদা সংসারে। শহীদি পরিবারে হামিদুল হক তৃতীয়। চতুর্থ আমানুল হক কৃষি কাজ করেন। তিনিও তিন সন্তান নিয়ে আলাদা থাকেন। চল্লিশ বছর বয়সী নুরুল হক এই পরিবারের পঞ্চম সন্তান। পেশায় ওয়ার্কশপ ব্যবসায়ী। তিনিও চার সন্তান নিয়ে আলাদা থাকেন। ঘষ্ঠ সন্তান নুরুল আফসার সৌদি প্রবাসী। সাইত্রিশ বছর বয়সে তিন সন্তান নিয়ে তারও সংসার আলাদা।
এক নজরে শহীদ হামিদুল হক
নাম : হামিদুল হক
পিতার নাম: মরহুম আবুল খায়ের
মাতা: মরহুমা সবুরা খাতুন
জন্ম তারিখ: ৪ সেপ্টেম্বর ১৯৭২
স্ত্রীর নাম: জান্নাত আরা বেগম
স্ত্রীর পেশা: গৃহিণী
স্ত্রীর বয়স: ৪২ বছর
সন্তান: ৫ মেয়ে ৪ ছেলে
ঠিকানা: হোল্ডিং নং- ২১, ওয়ার্ড- ৯, খরুলিয়া মাস্টারপাড়া, কক্সবাজার সদর।
সাংগঠনিক মান: জামায়াত কর্মী
শাহাদাতের তারিখ: ১৩ আগস্ট ২০১৩
📸 তথ্য ও স্মৃতি সম্বলিত আলোকচিত্র
🔍
🔍
🔍
🔍
🔍
🔍