হোম / আওয়ামী দুঃশাসনে শহীদ / শহীদ আবু বকর সিদ্দিক
শহীদ আবু বকর সিদ্দিক

শহীদ আবু বকর সিদ্দিক

আওয়ামী দুঃশাসনের বিগত ১৬ বছরের ফ্যাসিবাদবিরোধী শহীদ

📝 সংক্ষিপ্ত পরিচিতি

২৯ অক্টোবর ২০১৩

🩸 শাহাদাতের ঘটনা ও বিস্তারিত বিবরণ

শহীদ আবু বকর সিদ্দিক ১৯৫৮ সালের ২৮ মার্চ কক্সবাজার জেলার কুতুবদিয়া উপজেলার উত্তর ধুরুং গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি পিতা-মাতার বড় সন্তান ছিলেন এবং অত্যন্ত অমায়িক ও পরোপকারী হিসেবে পরিচিত ছিলেন। তিনি কক্সবাজারের কুতুবদিয়া উপজেলার মৃত ইসমাইল হোসেনের পুত্র। তাঁর মায়ের নাম ছহিলা খাতুন। চার ভাই ও চার বোনের মধ্যে তিনি ছিলেন ষষ্ঠ। শাহাদাতের সময় তাঁর বয়স ছিল ৭০ বছর (নোট: তথ্যে বয়সের কিছু অমিল আছে)। তিনি স্ত্রী হাজেরা বেগম ও চার সন্তান রেখে যান। তাঁর স্থায়ী ঠিকানা: ফাইজানী পাড়া, ৫ নং ওয়ার্ড, উত্তর ধুরুং, কুতুবদিয়া, কক্সবাজার।

ঘটনার প্রেক্ষাপট ও শাহাদাত বরণ
২০১৩ সালের ২৯ অক্টোবর ১৮ দলীয় জোটের ডাকা দেশব্যাপী হরতালের শেষ দিনে ধুরুং বাজারে একটি সমাবেশ আয়োজন করা হয়। আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন মুফাসসিরে কুরআন আল্লামা দেলোয়ার হোসেন সাঈদীর রায়ের প্রতিবাদে এলাকায় তখন চাপা ক্ষোভ বিরাজ করছিল।

বিকেল আনুমানিক ৫টার দিকে ধুরুং বাজারে হরতাল উত্তর সমাবেশের জন্য শত-শত লোক জমায়েত হয়। স্থানীয়দের বর্ণনা অনুযায়ী, সমাবেশ চলাকালীন পুলিশ ও বিজিবি সদস্যরা মণ্ডপের আশেপাশে অবস্থান নেয়। এক পর্যায়ে পুলিশ সমাবেশের মাইক খুলে নিয়ে তাদের গাড়িতে তুলে নেয়, যা উপস্থিত জনতাকে বিক্ষুব্ধ করে তোলে। সংঘর্ষ শুরু হলে পুলিশ ও বিজিবি সদস্যরা সরাসরি গুলি বর্ষণ করে। এতে পেটে গুলিবিদ্ধ হয়ে ঘটনাস্থলেই শাহাদাত বরণ করেন আবু বকর সিদ্দিক। একই ঘটনায় ইসমাইল পারভেজ ও আব্দুল আজিজ নামে আরও দুজন শহীদ হন এবং শতাধিক আহত হন।

পরিবার ও স্বজনদের স্মৃতিচারণ
শহীদ আবু বকর সিদ্দিক একজন ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী এবং মৌসুমী পেশাজীবী ছিলেন। কখনও তিনি কৃষি কাজ করতেন, আবার কখনও ফেরি করে ডিম বা তরি-তরকারি বিক্রি করতেন। অত্যন্ত সাদাসিধা জীবনের অধিকারী এই মানুষটি দ্বীনি আন্দোলনের প্রতি অত্যন্ত অনুরাগী ছিলেন। তাঁর স্ত্রী হাজেরা বেগম জানান, "আমার স্বামী অত্যন্ত শান্তিপ্রিয় মানুষ ছিলেন। তিনি প্রায়ই বলতেন, সাঈদী হুজুরের কিছু হলে আমি জান দিয়ে দেব।

আবু বকর সিদ্দিকের সাত সন্তানের মধ্যে বড় ছেলে মো. শরীফ (৫০), দ্বিতীয় সন্তান আমিন শরীফ (৪৫) যিনি পঙ্গু, তৃতীয় সন্তান আবদুর রহিম (৩০), চতুর্থ মোতাহারা বেগম, পঞ্চম ইয়াসমিন (২৫), ষষ্ঠ আব্দুল করিম (২০) এবং সপ্তম সন্তান মোকাদ্দেস (১৮)। অভাবের সংসার হলেও তারা সুখে শান্তিতে বসবাস করতেন।

গণমাধ্যমে কুতুবদিয়ার ঘটনা
এই মর্মান্তিক ঘটনাটি জাতীয় ও আঞ্চলিক গণমাধ্যমে গুরুত্বের সাথে প্রচারিত হয়। ২০১৫ সালের ২১ জুন 'দৈনিক আমার দেশ' পত্রিকার সাংবাদিকরা তাঁর বাড়িতে গেলে এলাকাবাসী এই হত্যাকাণ্ডের সুষ্ঠু বিচার দাবি করেন। প্রতিবেশীরা জানান, বৃদ্ধ আবু বকর সিদ্দিকের কোনো সক্রিয় দলীয় পদবি না থাকলেও তিনি ইসলামী মূল্যবোধের প্রতি শ্রদ্ধাশীল ছিলেন।

এক নজরে শহীদ আবু বকর সিদ্দিক
• নাম: আবু বকর সিদ্দিক
• পিতার নাম: মৃত ইসমাইল হোসেন
• মাতার নাম: ছহিলা খাতুন (পেশা: গৃহিণী)
• স্ত্রীর নাম: হাজেরা বেগম (বয়স ৪৫ বছর)
• স্থায়ী ঠিকানা: ফাইজানী পাড়া, ৫ নং ওয়ার্ড, ১নং উত্তর ধুরুং, কুতুবদিয়া, কক্সবাজার।
• সাংগঠনিক মান: বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সমর্থক
• সর্বশেষ পড়ালেখা: ৫ম শ্রেণি
• শহীদ হওয়ার স্থান: ধুরুং বাজার
• আঘাতের ধরন: গুলি
• যাদের আঘাতে শহীদ: পুলিশ
• শাহাদাতের তারিখ: ২৯ অক্টোবর ২০১৩

📸 তথ্য ও স্মৃতি সম্বলিত আলোকচিত্র

Memory Image
🔍
Memory Image
🔍
Memory Image
🔍
Memory Image
🔍
Memory Image
🔍
Memory Image
🔍