হোম / আওয়ামী দুঃশাসনে শহীদ / শহীদ মাওলানা মোঃ বেলাল হুসাইন
শহীদ মাওলানা মোঃ বেলাল হুসাইন

শহীদ মাওলানা মোঃ বেলাল হুসাইন

আওয়ামী দুঃশাসনের বিগত ১৬ বছরের ফ্যাসিবাদবিরোধী শহীদ

📝 সংক্ষিপ্ত পরিচিতি

শরীয়তপুরের মহেশকান্দি গ্রামের নিবেদিতপ্রাণ আলেম বেলাল হুসাইন ছিলেন ন্যায়, দায়িত্ববোধ ও দীনপ্রেমে গড়ে ওঠা এক প্রভাবশালী চরিত্র।
ইমামতি, শিক্ষা ও সমাজসেবায় তাঁর নেতৃত্ব ছিল শান্ত-সমাহিত অথচ দৃঢ় যেখানে মানুষের কল্যাণই ছিল তাঁর একমাত্র লক্ষ্য।
নিজের নীতিকে আঁকড়ে ধরে অন্যায়ের প্রতিবাদে দাঁড়ানোর সাহস তিনি নিজের জীবনাচরণেই প্রমাণ করেছিলেন।
হরতালের সকালে ঘটনাস্থলে যে পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়, সেই অস্থির মুহূর্তেই তাঁর শেষ সংগ্রাম রচিত হয় জীবনের পরিসমাপ্তিতে।
তাঁর ত্যাগ, মানবিকতা ও নেতৃত্ব আজো স্মরণ করায় সত্যের পথে অবিচল থাকা মানুষ কখনো বিলীন হয় না, বরং হয়ে ওঠে নীরব প্রেরণার দীপশিখা।

🩸 শাহাদাতের ঘটনা ও বিস্তারিত বিবরণ

শহীদ মাওলানা মোঃ বেলাল হুসাইন
ঢাকা-8
শহীদের পরিচিতি
শহীদ মাওলানা মোঃ বেলাল হুসাইন ১৯৬৩ সালে শরিয়তপুর জেলার ভেদরগঞ্জ থানার মহেশকান্দি গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। পিতামাতার ৯ সন্তানের মধ্যে তিনি ১ম। তিনি মাদরাসা থেকে কামিল পাশ করে ক্ষুদ্র ব্যবসা ও ইবনে সীনা মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল মসজিদের ইমাম হিসাবে কর্মরত ছিলেন।
যেভাবে তিনি আল্লাহর ডাকে চলে যান
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমীর প্রখ্যাত আলেমে দীন মাওলানা মতিউর রহমান নিজামীকে দশ ট্রাক অস্ত্র মামলায় জড়িয়ে ষড়যন্ত্রমূলকভাবে কোর্ট আওয়ামী সরকারের নির্দেশনায় মৃত্যুদণ্ডের রায় দেয়। এই রায়ের প্রতিবাদে দেশের ধর্মপ্রাণ সাধারণ জনতা বিক্ষোভে ফেটে পড়ে। জামায়াত ৩ ফেব্রুয়ারি ২০১৪ তারিখ দেশব্যাপী সকাল-সন্ধা হরতাল আহ্বান করে। রাজপথে নেমে আসে তৌহিদী জনতা। হরতালের দিন সকাল ৮.৩০ টায় মিরপুরের কালসীতে জামায়াত প্রতিবাদ মিছিল বের করলে আওয়ামী সন্ত্রাসীরা ও পুলিশ একযোগে মিছিলের উপর গুলিবর্ষণ করে, ফলে মাথায় গুলিবিদ্ধ হয়ে ঘটনাস্থলেই শাহাদাত বরণ করেন শহীদ বেলাল হুসাইন।
শাহাদাতের পূর্বের ঘটনা:
শাহাদাতের আগে শহীদ বেলাল হুসাইন ২.০২.২০১৪ রাত ২ টায় ঘুম থেকে উঠে তাহাজ্জুদ আদায় করে দোয়া করেন- হে আল্লাহ শহীদ মোল্লা ভাইর মত আমাকেও শহীদ হিসেবে কবুল করেন। তিনি মসজিদে খতুবা দেয়ার সময় ও নামাজ পড়ানোর সময় কেঁদে-কেঁদে তেলাওয়াত করতেন। শাহাদাতের পূর্বে পিতা স্বপ্ন দেখেন সবার মধ্যে দাঁড়িয়ে আছেন, কিন্তু তিনি সবার চেয়ে উঁচু। তার বন্ধু ও সাথীরা বলেন আমরা বেলাল ভাইর থেকে কোন কষ্ট পায়নি।
সামগ্রিক ঘটনার বিবরণ
২০০৪ সালের ১ এপ্রিল মধ্যরাতে কর্ণফুলী নদীর সরকারি সার কারখানা চিটাগাং ইউরিয়া ফার্টিলাইজার লিমিটেডের (সিইউএফএল) জেটি সংলগ্ন ঘাটে কাঠের ট্রলার থেকে অস্ত্র নামানোর সময় পুলিশ দশ ট্রাক অস্ত্র আটক করে। আওয়ামী সরকার ক্ষমতায় এসে ষড়যন্ত্রমূলকভাবে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমীর প্রখ্যাত আলেমে দীন মাওলানা মতিউর রহমান নিজামীকে এই দশ ট্রাক অস্ত্র মামলায় ষড়যন্ত্রমূলক জড়িত করে। দীর্ঘ নাটকীয়তা শেষে ৩০.০১.২০১৪ তারিখ সরকারী নির্দেশনায় কোর্ট আমীরে জামায়াতের মৃত্যুদণ্ডের রায় দেয়। এই রায়ের প্রতিবাদে রাজপথে নেমে আসে জনতা। প্রতিবাদ-বিক্ষেভে উত্তাল হয়ে ওঠে দেশ। ০৩.০২.২০১৪ তারিখ দেশব্যাপী সকাল-সন্ধা হরতাল আহ্বান করে জামায়াত। হরতালের দিন সকাল ৮.৩০ টায় মিরপুর ১১ নং এর কালসীতে জামায়াত প্রতিবাদ মিছিল বের করলে আওয়ামী সন্ত্রাসীরা ও সশস্ত্র পুলিশ একযোগে মিছিলের উপর হামলা চালায় গুলিবর্ষণ করে, ফলে মাথায় গুলিবিদ্ধ হয়ে ঘটনা স্থলেই শাহাদাত বরণ করেন শহীদ মাওলানা বেলাল হুসাইন। পুলিশ শহীদ বেলাল হুসাইনের লাশ টেনে গাড়িতে উঠিয়ে থানায় নিয়ে যায় এবং প্রচার করে গাড়ী চাপায় মারা গেছে। ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পোষ্টমর্টেম শেষে রাত ৮ টায় পুলিশ পরিবারের কাছে লাশ হস্তান্তর করে। পুলিশী বাধার কারণে ঢাকায় জানাজা দিতে না পারায় লাশ গ্রামের বাড়িতে নিয়ে যাওয়া হয়। রাত ২ টায় লাশ গ্রামে পৌঁছায়। ০৪.০২.২০১৪ তারিখ সকাল ৯ টায় জানাজা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে শহীদ বেলাল হুসাইনকে চিরনিদ্রায় শায়িত করা হয়।
সাংগঠনিক মান
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী এর রুকন এবং মিরপুর দারুস সালাম থানা আমীর হিসাবে দায়িত্ব পালন করছিলেন।
আপনজনদের কথা
পিতা: আমার বড় ছেলে আল্লাহর পথে শহীদ হয়েছে। আমার অন্য ছেলে ও নাতিদেরকেও আমি আল্লাহর পথে দীনের জন্য সোপর্দ করেছি।
শহীদের স্ত্রী: ইসলামী আন্দোলনের জন্যই আমার স্বামীকে হত্যা করা হয়েছে। শহীদের স্ত্রী হিসেবে আমি
গর্বিত।
শহীদের বড় ছেলে: আমার পিতা আল্লাহর পথে শহীদ হয়েছেন, আমরা শহীদের সন্তান হিসেবে গর্বিত এবং আমরা আল্লাহর পথে অটল ও অবিচল থাকবো ইনশাআল্লাহ।
শহীদের ভাই: আমার ভাইকে যারা অন্যায়ভাবে হত্যা করেছে আল্লাহ যেন তাদের বিচার করেন।
শহীদের আন্দোলনের সাথীরা। শহীদ বেলাল ভাইকে আল্লাহ শাহাদাতের সর্বোচ্চ মর্যাদা দান করুন। তার রেখে যাওয়া কাজকে আমরা এগিয়ে নিয়ে যাবো ইনশাআল্লাহ।
জামায়াতের বিবৃতি
জামায়াতে ইসলামীর শান্তিপূর্ণ মিছিলে পুলিশের গুলিতে থানা জামায়াতের আমীর বেলাল হোসাইন নিহত হওয়ার নৃশংস ঘটনার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদে ৩ ফেব্রুয়ারি ২০১৪, সোমবার, মীরপুরে জামায়াতে ইসলামীর শান্তিপূর্ণ মিছিলে পুলিশের গুলিতে দারুসসালাম থানা জামায়াতের আমীর জনাব বেলাল হোসাইন নিহত হওয়ার নৃশংস ঘটনার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর তৎকালীন ভারপ্রাপ্ত আমীর জনাব মকবুল আহমাদ ৩ ফেব্রুয়ারি নিম্নোক্ত বিবৃতি প্রদান করেছেন ৪-
"আজ বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর পূর্ব ঘোষিত দেশব্যাপী শান্তিপূর্ণ মিছিলে দেশের বিভিন্ন স্থানে পুলিশ ব্যাপক গুলিবর্ষণ করে। ঢাকা মহানগরীর মিরপুরে জামায়াতের শান্তিপূর্ণ মিছিলে পুলিশ গুলি চালিয়ে দারুস্সালাম থানা জামায়াতের আমীর জনাব বেলাল হোসাইনকে অত্যন্ত নির্মমভাবে হত্যা করে। চট্টগ্রাম, ফেনী, রংপুর, মৌলভীবাজার, নোয়াখালীসহ দেশে বিভিন্ন স্থানে জামায়াতের শান্তিপূর্ণ মিছিলে পুলিশ হামলা চালিয়ে শতাধিক নেতাকর্মীকে আহত করে ও দেড় শতাধিক নেতাকর্মীকে গ্রেফতার করে।
এ সরকার জনগণের ভোটে নির্বাচিত নয়। সরকার গণতন্ত্রকে গলাটিপে হত্যা করেছে। গণবিচ্ছিন্ন এ সরকার জনগণকে ভয় পায়। তাই জনতার শান্তিপূর্ণ আন্দোলনকে তারা বরদাশত করতে পারছে না। মিছিল, সমাবেশ করা প্রত্যেক নাগরিকের গণতান্ত্রিক ও সাংবিধানিক অধিকার। মিছিলে গুলিবর্ষণ ও গণগ্রেফতার আওয়ামীলীগের এক রুটিন ওয়ার্কে পরিণত হয়েছে। সরকার নিজেই দেশের বিভিন্ন স্থানে সন্ত্রাস সৃষ্টি করছে। আওয়ামী লীগের ছাত্র সংগঠনের সন্ত্রাসী তাণ্ডবে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় অনির্দিষ্ট কালের জন্য বন্ধ হয়ে গিয়েছে। দেশে চলছে, গণহত্যা, গুম, গণগ্রেফতার, গণনির্যাতন। আমি সরকারকে এই মুহূর্তে মানুষ হত্যা ও গুলি চালানো বন্ধ করার আহ্বান জানাচ্ছি।
জনাব বেলাল হোসাইনের শাহাদাত কবুল করার জন্য আমি মহান আল্লাহর কাছে দোয়া করছি এবং তার শোকসন্তপ্ত পরিবার-পরিজনদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানিয়ে দোয়া করছি আল্লাহ তাদের এ শোক সহ্য করার তাওফিক দান করুন।
আমি সরকারের সকল অগণতান্ত্রিক, ফ্যাসিবাদী ও মানবতাবিরোধী কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে সোচ্চার হওয়ার জন্য দেশের আপামর গণতন্ত্রকামী মানুষের প্রতি উদাত্ত আহ্বান জানাচ্ছি।"
সন্তানদের বিবরণঃ
১. হাফেজ মুহাম্মদ ঈসা ইবনে বেলাল, বয়স- ১৮ বছর, ছাত্র, দাখিল পরিক্ষার্থী-২০১৪।
২. আয়েশা বিনতে বেলাল, বয়স- ১৫ বছর, ছাত্রী, দাখিল পরিক্ষার্থী-২০১৪।
৩. আহমদ মুসা ইবনে বেলাল ১৩ বছর, ছাত্র, ৯ম শ্রেণি।
৪. হাম্মাদ সাদী ইবনে বেলাল ৭ বছর, ১ম শ্রেণি।
ভাই-বোনের বিবরণঃ
১. মোঃ আবুল হোসেন, ৪৫ বছর, কৃষি।
২. গোলাম হোসেন বাবুল, ৪৩ বছর, চাকুরী, সিকিউরিটি গার্ড।
৩. কুলসুম খাতুন, ৪০ বছর, বিবাহিতা।
৪. সাজেদা খাতুন, ৩৫ বছর, বিবাহিতা।
৫. মাজেদা খাতুন, ৩২ বছর, বিবাহিতা।
৬. তাহমিনা খাতুন লাভলী, ২৯ বছর, বিবাহিতা।
৭. তুহিনী খাতুন, ২৫ বছর, বিবাহিতা।
৮. তিন্নি খাতুন, ২০
৯. নাইম ইসলাম, ১৫ বছর, ছাত্র, ১০ম শ্রেণ।
এক নজরে শহীদ মোঃ বেলাল হুসাইন

নাম: শহীদ মাওলানা মোঃ বেলাল হুসাইন
পিতা: মোঃ গিয়াস উদ্দিন, বয়স- ৭৫, পেশা- কৃষি
মাতা: মৃত মোসাঃ আয়েশা খাতুন।
জন্য তারিখ: ১৯৬৩
স্ত্রীর নাম: মোছাঃ ফরিদা বেগম (স্ত্রী), ৩৮ বছর, গৃহিনী।
ঠিকানা: গ্রাম- মহেশকান্দি, ডাকঘর- ভেদরগঞ্জ থানা- ভেদরগঞ্জ, জেলা- শরিয়তপুর
সাংগঠনিক মান: রুকন, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী
সাংগঠনিক দায়িত্ব: আমীর, দারুস সালাম থানা, ঢাকা
আহত হওয়ার তারিখ: ০৩.০২.২০১৪, সকাল ৮.৩০ টা।
আহতের ধরন ও পরবর্তী অবস্থাঃ মাথায় গুলিবিদ্ধ হয়ে ঘটনাস্থলেই শাহাদাত বরণ করেন।
শাহাদাতের তারিখ ও সময়: ০৩.০২.২০১৪, সকাল ৮.৩০ টা।

📸 তথ্য ও স্মৃতি সম্বলিত আলোকচিত্র

Memory Image
🔍
Memory Image
🔍
Memory Image
🔍
Memory Image
🔍
Memory Image
🔍
Memory Image
🔍
Memory Image
🔍
Memory Image
🔍
Memory Image
🔍
Memory Image
🔍
Memory Image
🔍
Memory Image
🔍
Memory Image
🔍
Memory Image
🔍
Memory Image
🔍