শহীদ মো: ইব্রাহিম খলিল
আওয়ামী দুঃশাসনের বিগত ১৬ বছরের ফ্যাসিবাদবিরোধী শহীদ
📝 সংক্ষিপ্ত পরিচিতি
পিছন দিয়ে মাথার ভিতরে পুলিশের গুলি ঢুকে যায় এবং হাসপাতালে নেয়ার পথে শাহাদাৎ বরণ করেন।
🩸 শাহাদাতের ঘটনা ও বিস্তারিত বিবরণ
শহীদ মো: ইব্রাহিম খলিল
চৌদ্দগ্রাম, কুমিল্লা
মা বলেন, ‘আমার ছেলে কোন দিন কোন অন্যায় করেনি। খুব ভাল ছিল সে। ..., এলাকার মুরব্বিরা বলেন: ইব্রাহিম ছিল অত্যন্ত ভাল ছেলে। সমাজ বা পাড়ার সকলের সাথে ভাল আচরণ করতো। বড়দের শ্রদ্ধা করতো, সালাম দিয়ে কথা বলতো। যে কোন সময় আমাদের কেউ তাকে ডাকলে সে সঙ্গে সঙ্গে ছুটে আসতো। ইব্রাহিমের মতো ভাল ছেলে হয় না।
১. শহীদের পরিচিতি
শহীদ মো: ইব্রাহিম খলিল কুমিল্লা জেলার চৌদ্দগ্রাম উপজেলার আমজাদের বাজার সংলগ্ন আনন্দপুর গ্রামে ১৯৯১ইং সালে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি ছিলেন পিতা মোহাম্মদ আবুল কাশেম ও মাতা রহিমা বেগমের চার সন্তানের মধ্যে প্রথম সন্তান। ২ ভাই ২ বোনের মধ্যে তিনিই বড়। মা-বাবার অভাবী সংসারে তিনিই ছিলেন আয়ের একমাত্র উৎস। ছোট ভাই মো: জিয়াউল হক শ্রমিক হিসেবে টুকিটাকি কাজ করে। ছোট বোন খালেদা আক্তার বিবাহিতা, অপর বোন খাদিজা আক্তার ৫ম শ্রেণীতে পড়ে। বাবা মো: আবুল কাশেম (৬৫) দিনমজুরের কাজ করেন। কিন্তু বার্ধক্যের কারণে ভালভাবে কাজ করতে পারেন না। মা মোছা: রহিমা বেগম (৫৫) গৃহিণী। শহীদ মো: ইব্রাহিম অত্যন্ত বিনয়ী, নম্র ও ভদ্র ছিলেন। মা-বাবার সেবায় সর্বদা নিয়োজিত থাকতেন। সুখে দুঃখে এলাকার মানুষের পাশে থাকতেন। পেশায় তিনি একজন দিনমজুর ছিলেন। শাহাদাৎ বরণের সময় তিনি স্ত্রী ও ১৬ মাসের একটি ছেলেসন্তান রেখে যান।
২. যেভাবে তিনি আল্লাহর ডাকে চলে গেলেন
মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচারের নামে প্রহসন বন্ধ, সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল আব্দুল কাদের মোল্লার বিরুদ্ধে ফরমায়িশি দণ্ডাদেশ বাতিলের দাবিতে এবং সরকারের জুলুম-নির্যাতন, হত্যা-সন্ত্রাস ও নৈরাজ্যের প্রতিবাদে, শীর্ষ নেতাদের নিঃশর্ত মুক্তি ও কক্সবাজারসহ সকল হত্যাকারীদের বিচারের দাবিতে ১৮ ফেব্রুয়ারি’ ১৩ সোমবার দেশব্যাপী সকাল-সন্ধ্যা সর্বাত্মক হরতালের ডাক দেয় বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। হরতাল চলাকালে জামায়াত-শিবির চৌদ্দগ্রামের আমজাদের বাজার সংলগ্ন কালিকসার রাস্তার মাথায় প্রতিরোধ গড়ে তুলে। এক পর্যায়ে পুলিশ এসে লাঠিপেটা করলে আন্দোলনকারীরা পিকেটিং থেকে সরে যায়। পুলিশের তাড়া খেয়ে শহীদ ইব্রাহিম রাস্তা থেকে নেমে জমিনের আইল দিয়ে বাড়ির দিকে যাচ্ছিলেন। ঠিক তখনই পিছন থেকে গাড়িতে বসে এক পুলিশ সদস্য (এস আই আলম) ইব্রাহিম খলিলকে গুলি করে। গুলি তার কানের পাশ দিয়ে মাথার ভিতরে ঢুকে যায়। সঙ্গে সঙ্গে তিনি মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। তখন পুলিশ এসে টেনে হিঁচড়ে গাড়িতে তুলে প্রথমে চৌদ্দগ্রাম সরকারি হাসপাতালে নেয়। সেখানে ভর্তি না করলে পরে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেয়ার পথে তিনি শাহাদাৎ বরণ করেন।
লাশ হস্তান্তরের পর ১৯ই ফেব্রুয়ারি ’১৩ সকালে কালিকসার রাস্তার পাশে শহীদের জানাযা অনুষ্ঠিত হয়। জানাযা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে উনার দাফন সম্পন্ন হয়। তার জানাযার নামাজে ইমামতি করেন চৌদ্দগ্রাম নজমিয়া সিনিয়ার (ডিগ্রি) মাদ্রাসার প্রিন্সিপাল মাওলানা রফিকুল ইসলাম। জানাযায় প্রায় ৫ হাজার লোক উপস্থিত ছিল।
৩. সামগ্রিক ঘটনার বিবরণ
১৮ ফেব্রুয়ারি’ ১৩ সোমবার দেশব্যাপী সকাল-সন্ধ্যা সর্বাত্মক হরতালের ডাক দেয় বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। কেন্দ্রীয় কর্মসূচির অংশ হিসেবে কক্সবাজারে ৪ জন হত্যা ও শীর্ষ নেতৃবৃন্দের মুক্তির দাবিতে কুমিল্লা মহানগরসহ বিভিন্ন উপজেলায় শান্তিপূর্ণ হরতাল পালন করে জামায়াত ও ছাত্রশিবির। কুমিল্লা জেলার চৌদ্দগ্রামের আমজাদের বাজারের পাশে কালিকসার রাস্তার মাথায় জামাত-শিবিরের কর্মীরা প্রতিরোধ গড়ে তুলে। পুলিশ এসে তাদের ছত্রভঙ্গ করে দেয়। আন্দোলনকারীরা সরে যাওয়ার সময় পুলিশ পিছন থেকে গুলি করলে শহীদ ইব্রাহিম খলিল শাহাদাৎ বরণ করেন। এ বিষয়ে বিস্তারিত খবর আসে পরের দিনের দৈনিক সমূহে। ১৯ ফেব্রুয়ারি, ২০১৩ দৈনিক সংগ্রাম নিম্নোক্ত রিপোর্ট করে;
কুমিলস্নায় পুলিশের গুলিতে ১ জামায়াত কর্মী নিহত গতকাল সোমবার জামায়াতে ইসলামীর ডাকা সকাল-সন্ধ্যা হরতাল পালিত। চিত্রে (১) কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামে পুলিশের গুলিতে নিহত জামায়াত কর্মী ইব্রাহিমের স্বজনদের আহাজারি উপরে। নিচে নিহত ইব্রাহিম ও আহত অপর দুই জামায়াত কর্মী মুরাদ ও এনায়েত শয্যাশায়ী (২) রাজধানীর ব্যস্ততম সড়ক ফার্মগেটের দৃশ্য (৩) ছাত্রশূন্য ভিকারুননেসা স্কুলে ক্লাস নেন শিক্ষক-সংগ্রাম।
কুমিল্লা অফিস ও চৌদ্দগ্রাম সংবাদদাতা: কেন্দ্রীয় কর্মসূচির অংশ হিসেবে কক্সবাজারে ৪ জন হত্যা ও শীর্ষ নেতৃবৃন্দের মুক্তির দাবিতে কুমিল্লা মহানগরসহ বিভিন্ন উপজেলায় শান্তিপূর্ণ হরতাল পালন করে জামায়াত ও শিবির। কুমিল্লা চৌদ্দগ্রামে হরতাল পালনকালে পুলিশের সঙ্গে জামায়াত-শিবিরের নেতা-কর্মীদের সংঘর্ষে পুলিশের গুলিতে ইব্রাহিম (২৩) নামে এক জামায়াতকর্মী নিহত হয়েছেন। গুলিবিদ্ধ হয়ে আহত হয়েছেন আরো ১০ জন। তাদের মধ্যে গুরুতর আহত জামায়াত কর্মী মুরাদকে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। তার অবস্থা আশঙ্কাজনক বিধায় ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করেন কর্তব্যরত ডাক্তার। আহত মুরাদকে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় পুলিশ অমানবিকভাবে তার ক্ষতস্থানে আঘাত করতে থাকে। নিহত ইব্রাহিমের বাড়ি চৌদ্দগ্রাম উপজেলার আনন্দপুর গ্রামে। গতকাল সোমবার সকাল ১০টায় চৌদ্দগ্রামের বাতিসা ইউনিয়নের আমজাদ বাজার এলাকায় এ সংঘর্ষ হয়। গুলিবিদ্ধ অন্যরা হলেন- শিবিরকর্মী মোজাম্মেল ও জীবন। এদিকে চৌদ্দগ্রাম ও চিওড়া থেকে ৫ জন এবং নগরীর শাসনগাছা, লাকসাম রোড ও সদর থেকে মোট ৬ জনসহ এ পর্যন্ত ১১ জনকে আটক করেছে পুলিশ। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, সকাল সাড়ে ১০টায় ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের আমজাদের বাজার এলাকায় হরতালের সমর্থনে জামায়াত ও ইসলামী ছাত্রশিবির মিছিল বের করলে পুলিশ মিছিলে বাধা দেয়। এ সময় দু’পক্ষের ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া হয়। পুলিশ মিছিলটি ছত্রভঙ্গ করতে গুলি চালালে ১০ জন গুলিবিদ্ধ হয়। পরে ১ জামায়াতকর্মী নিহত হয়। জামায়াতকর্মী ইব্রাহিমের নিহতের খবরে এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে। এদিকে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে মহাসড়কের চৌদ্দগ্রাম অংশে বিপুল পরিমাণ পুলিশ মোতায়েন রয়েছে।
৪. শহীদের আপনজনদের কথা
মায়ের কথা: আমার ছেলে কোন দিন কোন অন্যায় করেনি। খুব ভাল ছিল সে। সাধ্য অনুযায়ী কারো উপকার করার সুযোগ পেলে সে তা করতো এবং অন্যায়ের প্রতিবাদ করতো। ইসলামের ও আলেমদের প্রতি তার খুব টান ছিল। এলাকার মুরব্বিরা বলেন: ইব্রাহিম ছিল অত্যন্ত ভাল ছেলে। সমাজ বা পাড়ার সকলের সাথে ভাল আচরণ করতো। বড়দের শ্রদ্ধা করতো, সালাম দিয়ে কথা বলতো। যে কোন সময় আমাদের কেউ তাকে ডাকলে সে সঙ্গে সঙ্গে ছুটে আসতো। ইব্রাহিমের মতো ভাল ছেলে হয় না।
৫. বর্তমান বাড়ি-ঘরের অবস্থা
নিজেদের কোন জায়গা জমি নেই। এমনকি বসতভিটাও নেই। রাস্তার পাশে সরকারি জায়গায় একটি ঘর তুলে বসবাস করছে। বাড়িতে একটি টিনের ঘর আছে।
ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের ৪ লেনের কাজ করানোর কারণে তাদের ঘরটি রাস্তার মাঝখানে পড়ে যায়। সরকার তাদের উঠে যেতে বলছে। শহীদের বৃদ্ধ বাবা এখন দিশেহারা কোথায় যাবেন, কী করবেন।
৬. ব্যক্তিগত প্রোফাইল
নাম: শহীদ মো: ইব্রাহিম খলিল (০৮৭)।
জন্ম তারিখ: ১৮ এপ্রিল ১৯৯১ সাল।
আহত ও শাহাদাতের তারিখ: ১৮ই ফেব্রুয়ারি ২০১৩ সকাল ১১টা।
আহতের ধরন ও পরবর্তী অবস্থা: পিছন দিয়ে মাথার ভিতরে পুলিশের গুলি ঢুকে যায় এবং হাসপাতালে নেয়ার পথে শাহাদাৎ বরণ করেন।
জানাযার ইমামের নাম ও উপস্থিতি: চৌদ্দগ্রাম নজমিয়া সিনিয়ার (ডিগ্রি) মাদ্রাসার প্রিন্সিপাল মাওলানা রফিকুল ইসলাম, উপস্থিতি: প্রায় ৫ হাজার।
স্থায়ী ঠিকানা: গ্রাম: আনন্দপুর, ডাকঘর: পাতড্ডা, থানা: চৌদ্দগ্রাম, জেলা: কুমিল্লা।
পিতা: মোহাম্মদ আবুল কাশেম, ৬৫ কৃষি, দিনমজুর।
মাতা: রহিমা বেগম, ৫৫ গৃহিণী।
স্ত্রী: সকিনা বেগম, গৃহিণী, বয়স: ২২।
সন্তান: মো: ইউসুফ আল জিহাদ, ১৬ মাসের শিশু।
ভাই-বোনের বিবরণ: শহীদ মো: ইব্রাহিম খলিল। জিয়াউল হক (১৯) -লেবার/দিনমজুর। খালেদা আক্তার (১৭)- বিবাহিতা, খাদিজা আক্তার (১২)- ৫ম শ্রেণী।
চৌদ্দগ্রাম, কুমিল্লা
মা বলেন, ‘আমার ছেলে কোন দিন কোন অন্যায় করেনি। খুব ভাল ছিল সে। ..., এলাকার মুরব্বিরা বলেন: ইব্রাহিম ছিল অত্যন্ত ভাল ছেলে। সমাজ বা পাড়ার সকলের সাথে ভাল আচরণ করতো। বড়দের শ্রদ্ধা করতো, সালাম দিয়ে কথা বলতো। যে কোন সময় আমাদের কেউ তাকে ডাকলে সে সঙ্গে সঙ্গে ছুটে আসতো। ইব্রাহিমের মতো ভাল ছেলে হয় না।
১. শহীদের পরিচিতি
শহীদ মো: ইব্রাহিম খলিল কুমিল্লা জেলার চৌদ্দগ্রাম উপজেলার আমজাদের বাজার সংলগ্ন আনন্দপুর গ্রামে ১৯৯১ইং সালে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি ছিলেন পিতা মোহাম্মদ আবুল কাশেম ও মাতা রহিমা বেগমের চার সন্তানের মধ্যে প্রথম সন্তান। ২ ভাই ২ বোনের মধ্যে তিনিই বড়। মা-বাবার অভাবী সংসারে তিনিই ছিলেন আয়ের একমাত্র উৎস। ছোট ভাই মো: জিয়াউল হক শ্রমিক হিসেবে টুকিটাকি কাজ করে। ছোট বোন খালেদা আক্তার বিবাহিতা, অপর বোন খাদিজা আক্তার ৫ম শ্রেণীতে পড়ে। বাবা মো: আবুল কাশেম (৬৫) দিনমজুরের কাজ করেন। কিন্তু বার্ধক্যের কারণে ভালভাবে কাজ করতে পারেন না। মা মোছা: রহিমা বেগম (৫৫) গৃহিণী। শহীদ মো: ইব্রাহিম অত্যন্ত বিনয়ী, নম্র ও ভদ্র ছিলেন। মা-বাবার সেবায় সর্বদা নিয়োজিত থাকতেন। সুখে দুঃখে এলাকার মানুষের পাশে থাকতেন। পেশায় তিনি একজন দিনমজুর ছিলেন। শাহাদাৎ বরণের সময় তিনি স্ত্রী ও ১৬ মাসের একটি ছেলেসন্তান রেখে যান।
২. যেভাবে তিনি আল্লাহর ডাকে চলে গেলেন
মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচারের নামে প্রহসন বন্ধ, সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল আব্দুল কাদের মোল্লার বিরুদ্ধে ফরমায়িশি দণ্ডাদেশ বাতিলের দাবিতে এবং সরকারের জুলুম-নির্যাতন, হত্যা-সন্ত্রাস ও নৈরাজ্যের প্রতিবাদে, শীর্ষ নেতাদের নিঃশর্ত মুক্তি ও কক্সবাজারসহ সকল হত্যাকারীদের বিচারের দাবিতে ১৮ ফেব্রুয়ারি’ ১৩ সোমবার দেশব্যাপী সকাল-সন্ধ্যা সর্বাত্মক হরতালের ডাক দেয় বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। হরতাল চলাকালে জামায়াত-শিবির চৌদ্দগ্রামের আমজাদের বাজার সংলগ্ন কালিকসার রাস্তার মাথায় প্রতিরোধ গড়ে তুলে। এক পর্যায়ে পুলিশ এসে লাঠিপেটা করলে আন্দোলনকারীরা পিকেটিং থেকে সরে যায়। পুলিশের তাড়া খেয়ে শহীদ ইব্রাহিম রাস্তা থেকে নেমে জমিনের আইল দিয়ে বাড়ির দিকে যাচ্ছিলেন। ঠিক তখনই পিছন থেকে গাড়িতে বসে এক পুলিশ সদস্য (এস আই আলম) ইব্রাহিম খলিলকে গুলি করে। গুলি তার কানের পাশ দিয়ে মাথার ভিতরে ঢুকে যায়। সঙ্গে সঙ্গে তিনি মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। তখন পুলিশ এসে টেনে হিঁচড়ে গাড়িতে তুলে প্রথমে চৌদ্দগ্রাম সরকারি হাসপাতালে নেয়। সেখানে ভর্তি না করলে পরে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেয়ার পথে তিনি শাহাদাৎ বরণ করেন।
লাশ হস্তান্তরের পর ১৯ই ফেব্রুয়ারি ’১৩ সকালে কালিকসার রাস্তার পাশে শহীদের জানাযা অনুষ্ঠিত হয়। জানাযা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে উনার দাফন সম্পন্ন হয়। তার জানাযার নামাজে ইমামতি করেন চৌদ্দগ্রাম নজমিয়া সিনিয়ার (ডিগ্রি) মাদ্রাসার প্রিন্সিপাল মাওলানা রফিকুল ইসলাম। জানাযায় প্রায় ৫ হাজার লোক উপস্থিত ছিল।
৩. সামগ্রিক ঘটনার বিবরণ
১৮ ফেব্রুয়ারি’ ১৩ সোমবার দেশব্যাপী সকাল-সন্ধ্যা সর্বাত্মক হরতালের ডাক দেয় বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। কেন্দ্রীয় কর্মসূচির অংশ হিসেবে কক্সবাজারে ৪ জন হত্যা ও শীর্ষ নেতৃবৃন্দের মুক্তির দাবিতে কুমিল্লা মহানগরসহ বিভিন্ন উপজেলায় শান্তিপূর্ণ হরতাল পালন করে জামায়াত ও ছাত্রশিবির। কুমিল্লা জেলার চৌদ্দগ্রামের আমজাদের বাজারের পাশে কালিকসার রাস্তার মাথায় জামাত-শিবিরের কর্মীরা প্রতিরোধ গড়ে তুলে। পুলিশ এসে তাদের ছত্রভঙ্গ করে দেয়। আন্দোলনকারীরা সরে যাওয়ার সময় পুলিশ পিছন থেকে গুলি করলে শহীদ ইব্রাহিম খলিল শাহাদাৎ বরণ করেন। এ বিষয়ে বিস্তারিত খবর আসে পরের দিনের দৈনিক সমূহে। ১৯ ফেব্রুয়ারি, ২০১৩ দৈনিক সংগ্রাম নিম্নোক্ত রিপোর্ট করে;
কুমিলস্নায় পুলিশের গুলিতে ১ জামায়াত কর্মী নিহত গতকাল সোমবার জামায়াতে ইসলামীর ডাকা সকাল-সন্ধ্যা হরতাল পালিত। চিত্রে (১) কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামে পুলিশের গুলিতে নিহত জামায়াত কর্মী ইব্রাহিমের স্বজনদের আহাজারি উপরে। নিচে নিহত ইব্রাহিম ও আহত অপর দুই জামায়াত কর্মী মুরাদ ও এনায়েত শয্যাশায়ী (২) রাজধানীর ব্যস্ততম সড়ক ফার্মগেটের দৃশ্য (৩) ছাত্রশূন্য ভিকারুননেসা স্কুলে ক্লাস নেন শিক্ষক-সংগ্রাম।
কুমিল্লা অফিস ও চৌদ্দগ্রাম সংবাদদাতা: কেন্দ্রীয় কর্মসূচির অংশ হিসেবে কক্সবাজারে ৪ জন হত্যা ও শীর্ষ নেতৃবৃন্দের মুক্তির দাবিতে কুমিল্লা মহানগরসহ বিভিন্ন উপজেলায় শান্তিপূর্ণ হরতাল পালন করে জামায়াত ও শিবির। কুমিল্লা চৌদ্দগ্রামে হরতাল পালনকালে পুলিশের সঙ্গে জামায়াত-শিবিরের নেতা-কর্মীদের সংঘর্ষে পুলিশের গুলিতে ইব্রাহিম (২৩) নামে এক জামায়াতকর্মী নিহত হয়েছেন। গুলিবিদ্ধ হয়ে আহত হয়েছেন আরো ১০ জন। তাদের মধ্যে গুরুতর আহত জামায়াত কর্মী মুরাদকে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। তার অবস্থা আশঙ্কাজনক বিধায় ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করেন কর্তব্যরত ডাক্তার। আহত মুরাদকে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় পুলিশ অমানবিকভাবে তার ক্ষতস্থানে আঘাত করতে থাকে। নিহত ইব্রাহিমের বাড়ি চৌদ্দগ্রাম উপজেলার আনন্দপুর গ্রামে। গতকাল সোমবার সকাল ১০টায় চৌদ্দগ্রামের বাতিসা ইউনিয়নের আমজাদ বাজার এলাকায় এ সংঘর্ষ হয়। গুলিবিদ্ধ অন্যরা হলেন- শিবিরকর্মী মোজাম্মেল ও জীবন। এদিকে চৌদ্দগ্রাম ও চিওড়া থেকে ৫ জন এবং নগরীর শাসনগাছা, লাকসাম রোড ও সদর থেকে মোট ৬ জনসহ এ পর্যন্ত ১১ জনকে আটক করেছে পুলিশ। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, সকাল সাড়ে ১০টায় ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের আমজাদের বাজার এলাকায় হরতালের সমর্থনে জামায়াত ও ইসলামী ছাত্রশিবির মিছিল বের করলে পুলিশ মিছিলে বাধা দেয়। এ সময় দু’পক্ষের ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া হয়। পুলিশ মিছিলটি ছত্রভঙ্গ করতে গুলি চালালে ১০ জন গুলিবিদ্ধ হয়। পরে ১ জামায়াতকর্মী নিহত হয়। জামায়াতকর্মী ইব্রাহিমের নিহতের খবরে এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে। এদিকে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে মহাসড়কের চৌদ্দগ্রাম অংশে বিপুল পরিমাণ পুলিশ মোতায়েন রয়েছে।
৪. শহীদের আপনজনদের কথা
মায়ের কথা: আমার ছেলে কোন দিন কোন অন্যায় করেনি। খুব ভাল ছিল সে। সাধ্য অনুযায়ী কারো উপকার করার সুযোগ পেলে সে তা করতো এবং অন্যায়ের প্রতিবাদ করতো। ইসলামের ও আলেমদের প্রতি তার খুব টান ছিল। এলাকার মুরব্বিরা বলেন: ইব্রাহিম ছিল অত্যন্ত ভাল ছেলে। সমাজ বা পাড়ার সকলের সাথে ভাল আচরণ করতো। বড়দের শ্রদ্ধা করতো, সালাম দিয়ে কথা বলতো। যে কোন সময় আমাদের কেউ তাকে ডাকলে সে সঙ্গে সঙ্গে ছুটে আসতো। ইব্রাহিমের মতো ভাল ছেলে হয় না।
৫. বর্তমান বাড়ি-ঘরের অবস্থা
নিজেদের কোন জায়গা জমি নেই। এমনকি বসতভিটাও নেই। রাস্তার পাশে সরকারি জায়গায় একটি ঘর তুলে বসবাস করছে। বাড়িতে একটি টিনের ঘর আছে।
ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের ৪ লেনের কাজ করানোর কারণে তাদের ঘরটি রাস্তার মাঝখানে পড়ে যায়। সরকার তাদের উঠে যেতে বলছে। শহীদের বৃদ্ধ বাবা এখন দিশেহারা কোথায় যাবেন, কী করবেন।
৬. ব্যক্তিগত প্রোফাইল
নাম: শহীদ মো: ইব্রাহিম খলিল (০৮৭)।
জন্ম তারিখ: ১৮ এপ্রিল ১৯৯১ সাল।
আহত ও শাহাদাতের তারিখ: ১৮ই ফেব্রুয়ারি ২০১৩ সকাল ১১টা।
আহতের ধরন ও পরবর্তী অবস্থা: পিছন দিয়ে মাথার ভিতরে পুলিশের গুলি ঢুকে যায় এবং হাসপাতালে নেয়ার পথে শাহাদাৎ বরণ করেন।
জানাযার ইমামের নাম ও উপস্থিতি: চৌদ্দগ্রাম নজমিয়া সিনিয়ার (ডিগ্রি) মাদ্রাসার প্রিন্সিপাল মাওলানা রফিকুল ইসলাম, উপস্থিতি: প্রায় ৫ হাজার।
স্থায়ী ঠিকানা: গ্রাম: আনন্দপুর, ডাকঘর: পাতড্ডা, থানা: চৌদ্দগ্রাম, জেলা: কুমিল্লা।
পিতা: মোহাম্মদ আবুল কাশেম, ৬৫ কৃষি, দিনমজুর।
মাতা: রহিমা বেগম, ৫৫ গৃহিণী।
স্ত্রী: সকিনা বেগম, গৃহিণী, বয়স: ২২।
সন্তান: মো: ইউসুফ আল জিহাদ, ১৬ মাসের শিশু।
ভাই-বোনের বিবরণ: শহীদ মো: ইব্রাহিম খলিল। জিয়াউল হক (১৯) -লেবার/দিনমজুর। খালেদা আক্তার (১৭)- বিবাহিতা, খাদিজা আক্তার (১২)- ৫ম শ্রেণী।
📸 তথ্য ও স্মৃতি সম্বলিত আলোকচিত্র
🔍
🔍
🔍