হোম / আওয়ামী দুঃশাসনে শহীদ / শহীদ মো: আব্দুল আজিজ
শহীদ মো: আব্দুল আজিজ

শহীদ মো: আব্দুল আজিজ

আওয়ামী দুঃশাসনের বিগত ১৬ বছরের ফ্যাসিবাদবিরোধী শহীদ

📝 সংক্ষিপ্ত পরিচিতি

ছেলের অপরাধ সে পাঁচওয়াক্ত নামাজ পড়ে। আমি খুনিদের বিচার চাই। শহীদের ভাই: ইসলামী আন্দোলনের কাজ করার অপরাধে আমার ভাইকে সন্ত্রাসীরা খুন করেছে। আমি খুনিদের বিচার চাই। আল্লাহ যেন ভাইকে শহীদ হিসেবে কবুল করেন।

🩸 শাহাদাতের ঘটনা ও বিস্তারিত বিবরণ

শহীদ মো: আব্দুল আজিজ

১. শহীদের পরিচিতি
শহীদ মো: আব্দুল আজিজ কুমিল্লা জেলার চৌদ্দগ্রাম উপজেলার উত্তর সোনাইছা গ্রামে ১৯৯২ সালে জন্মগ্রহণ করেন। পিতা মো: ইব্রাহিম ও মাতা খাদিজা বেগমের সন্তানদের মধ্যে ২য় সন্তান মো: আব্দুল আজিজ। ৩ ভাই ১ বোনের সংসারে পিতামাতা সন্তানদের খাওয়া দাওয়ার পাশাপাশি লেখা-পড়া করানোর ব্যবস্থা করেছেন। শহীদ আব্দুল আজিজ এইচএসসি পাস করেন। তাকে নিয়ে তার বাবার স্বপ্ন ছিল তিনি লেখাপড়া শেষ করে বাবা-মার খেদমত করবেন। সমাজের খেদমত করবেন। কিন্তু তা আর হলো না। আওয়ামী হায়েনারা আব্দুল আজিজ ভাইয়ের শেষ প্রাণটুকু রক্ষা করেনি।

২. যেভাবে তিনি আল্লাহর ডাকে চলে গেলেন
২৪ জুন’ ১৩ ইং তারিখে পাদ্রুয়ায় সাংগঠনিক কাজ শেষে পাদুয়া বাজার মসজিদে সালাতুল মাগরিব আদায় করে বাড়ি ফেরার পথে ছাত্রলীগ ও যুবলীগ সন্ত্রাসীরা অপহরণ করে কুলাসার গ্রামে আলমের বাড়িতে নিয়ে যায়। সেখানে শারীরিকভাবে ব্যাপক নির্যাতন চালায়। রড ও লাঠি দিয়ে পিটিয়ে গুরুতর আহত করে রাস্তার পাশে ফেলে দেয়। এরপর পুলিশ উদ্ধার করে থানায় নিয়ে নির্যাতন করে অবস্থা খারাপ দেখে চৌদ্দগ্রাম হাসপাতালে ভর্তি করে পরিবারকে খবর দেয়। পরিবার আসলে তাদের মাধ্যমে আশঙ্কাজনক অবস্থায় কুমিল্লা মেডিকেল কলেজে নেয়ার পথে মিয়াবাজার নামক স্থানে শাহাদাত বরণ করেন।

৩. শাহাদাতের পূর্বের বিভিন্ন ঘটনা
আল্লামা সাঈদীর মামলার রায় পরবর্তী কর্মসূচি পালনের কারণে স্থানীয় আওয়ামী লীগ, যুবলীগ ও ছাত্রলীগ ইসলামী আন্দোলনের কর্মীদের উপর ক্ষেপে যায়। অনেক ভাইকে বিভিন্ন সময়ে নির্যাতন করে আহত করে। বিভিন্ন মামলায় আসামি করে নগদ টাকা, মোবাইল ছিনতাই, বাড়িঘরে লুটপাট করে। এর মধ্যে অনেক ঘটনা ঘটে, বিগত ২৪ জুন ২০১৩ ইং তারিখে পদুয়া থেকে অপহরণ করে নিয়ে কুলাসার গ্রামের আব্দুল আজিজকে পিটিয়ে ফেলে দেয়। পুলিশ উদ্ধার করে থানায় নিয়ে নির্যাতন করে অবস্থা খারাপ দেখে চৌদ্দগ্রাম হাসপাতালে ভর্তি করে পরিবারকে খবর দেয়। পরিবার আসলে তাদের মাধ্যমে আশঙ্কাজনক অবস্থায় কুমিল্লা মেডিকেল কলেজে নেয়ার পথে মিয়াবাজার নামক স্থানে শাহাদাত বরণ করেন। মেডিকেল কলেজে নিলে ডাক্তার মৃত ঘোষণা করেন।

৪. সামগ্রিক ঘটনার বিবরণ
আল্লামা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর মামলার রায়কে কেন্দ্র করে কুমিল্লার চৌদ্দগ্রাম আলকরায় ও পাদ্রুয়ায় বিভিন্ন কর্মসূচি শক্তভাবেই পালন করা হয়। এতে স্থানীয় আওয়ামী লীগ, যুবলীগ ও ছাত্রলীগ ক্ষেপে যায় এবং ইসলামী আন্দোলনের ভাইদের উপর চড়াও হয়, এর মধ্যে মামলা দিয়ে, হামলা করে আহত করে। পথে আটকিয়ে নির্যাতন করে, বাড়ি-ঘর লুটপাট করা, টাকা মোবাইল ছিনতাই করা নিত্য এ ধরনের ঘটনা চলতে থাকে। এর মধ্যে এলাকার অনেক মানুষ বাড়ি ছাড়া হয়েছে। গত ২৪ জুন ১৩ তাং পবিত্র শবেবরাতে ইসলামী আন্দোলনের কর্মী মো: আব্দুল আজিজ আন্দোলনের কাজ শেষে পদুয়া বাজার মসজিদে সালাতুল মাগরিব আদায় করে বাড়ি ফেরার পথে ছাত্রলীগ সন্ত্রাসীরা ৮টি মোটরসাইকেল যোগে এসে আব্দুল আজিজ ভাইকে অপহরণ করে নির্জন স্থান দিঘির পাড়ের আলমের বাড়িতে (কুলাসার) নিয়ে রড ও লাঠি দিয়ে শরীর থেঁতলে দেয় এবং রাস্তার পাশে ফেলে দেয়। পরে পুলিশ উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আবার নির্যাতন চালায়। পুলিশ অবস্থা আশঙ্কাজনক দেখে চৌদ্দগ্রাম হাসপাতালে ভর্তি করে পরিবারকে খবর দেয়। পরিবারের লোকজন আসলে আব্দুল আজিজ মাকে বলেন ‘মা কেন এসেছ, বাড়ি যাও আমি কিছুক্ষণ পর বাড়ি আসবো’ এটি ছিল তার শেষ কথা। চৌদ্দগ্রাম হাসপাতালের ডাক্তার আ: আজিজের অবস্থা আশঙ্কাজনক দেখে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করেন। হাসপাতালে নেয়ার পথে মিয়াবাজার স্থানে আব্দুল আজিজ ভাই শাহাদাত বরণ করেন। হাসপাতালে নিলে ডাক্তার মৃত ঘোষণা করেন। পরের দিনের জাতীয় দৈনিক সমূহে এ বিষয়ে প্রতিবেদন আসে। ১৬ জুন, ২০১৩ লিখে;

জামায়াত-শিবিরের নিন্দা ও প্রতিবাদ কুমিল্লায় ছাত্রলীগের হাতে শিবিরকর্মী খুন কুমিল্লা জেলা সংবাদদাতা: বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির চৌদ্দগ্রাম উপজেলার আলকরা ইউনিয়নের সোনাইছা গ্রামের শিবির কর্মী আব্দুল আজিজকে মাগরিবের নামাজ পড়ে বাড়ি ফেরার পথে ইউনিয়ন চেয়ারম্যান বাচ্চুর ভাতিজা এলাকার চিহ্নিত সন্ত্রাসী আলম, সালাউদ্দিন, রিংকু, সাইফুলসহ কতিপয় সন্ত্রাসী নির্মম নির্যাতন চালিয়ে হত্যা করে। আজিজ হত্যার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে বিবৃতি দিয়েছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী কুমিল্লা মহানগরী আমীর কাজী দ্বীন মোহাম্মদ, সেক্রেটারি মাস্টার মোসলেহ উদ্দিন, কুমিল্লা দক্ষিণ জেলা আমীর আবদুস সাত্তার, সেক্রেটারি খন্দকার দেলোয়ার হোসাইন, উত্তর জেলা আমীর আবদুল আউয়াল, সেক্রেটারি মাওলানা আলী আশরাফ, চৌদ্দগ্রাম উপজেলা আমীর শাহাব উদ্দিন, সেক্রেটারি শাহ মু. মিজানুর রহমান, পৌরসভা আমীর মাহফুজুর রহমান, ইসলামী ছাত্রশিবির কুমিল্লা মহানগরী সভাপতি মনির আহমদ, সেক্রেটারি শাহ আলম, দক্ষিণ জেলা সভাপতি মু. জয়নাল আবেদিন, সেক্রেটারি আবদুর রব ফারুকী, উত্তর জেলা সভাপতি লুৎফুর রহমান খান মাসুম, সেক্রেটারি মনিরুজ্জামান। বিবৃতিতে নেতৃবৃন্দ ঘটনার সাথে জড়িত চিহ্নিত সন্ত্রাসীদের গ্রেফতার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেন এবং উক্ত ঘটনার প্রতিবাদে কর্মসূচি ঘোষণা করেন।

৫. শহীদের আপনজনদের কথা
শহীদের মা: আমার ছেলের কোন অপরাধ নেই। ইসলামের পথে ও নামাজ পড়ার কারণে তাকে খুন করা হয়েছে। আমি আমার ছেলের খুনিদের বিচার চাই।

শহীদের বাবা: আমার নিরপরাধ ছেলেকে সন্ত্রাসীরা পূর্বপরিকল্পিতভাবে পিটিয়ে হত্যা করেছে। আমার ছেলের অপরাধ সে পাঁচওয়াক্ত নামাজ পড়ে। আমি খুনিদের বিচার চাই।

শহীদের ভাই: ইসলামী আন্দোলনের কাজ করার অপরাধে আমার ভাইকে সন্ত্রাসীরা খুন করেছে। আমি খুনিদের বিচার চাই। আল্লাহ যেন ভাইকে শহীদ হিসেবে কবুল করেন।

৬. ব্যক্তিগত প্রোফাইল
নাম: শহীদ মো: আব্দুল আজিজ (১২২)। পেশা: ছাত্র।
জন্মতারিখ ও বয়স: ০৫.১০.১৯৯২, ২১ বছর।
আহত হওয়ার তারিখ: ২৪.০৬. ২০১৩, সন্ধ্যা ৭টা, শরীর রড ও লাঠির আঘাতে থেঁতলে যায়।

শাহাদাতের তারিখ: ২৪.০৬.২০১৩, রাত ১১:৩০টা, স্থান: মেডিকেল কলেজে নেয়ার পথে। দাফন করা হয়: পারিবারিক কবরস্থান।
স্থায়ী ঠিকানা: গ্রাম: উত্তর সোনাইছা, ডাকঘর: পদুয়া, থানা: চৌদ্দগ্রাম, জেলা: কুমিল্লা।

পিতা: মো: ইব্রাহিম, চাকুরী, রেলওয়ে ওয়ার্কশপ।
মাতা: খাদিজা বেগম, ৪৭ বছর, গৃহিণী।
বাড়ি-ঘর ও সম্পদের অবস্থা: বাড়ির ঘর ২টি চারপাশে বাঁশের বেড়া এবং উপরে টিনের ছাউনি। পিতার চাকুরীর আয় থেকে সংসার চলে।

ভাই-বোনের বিবরণ: আবুল হোসেন, ১৯৯০ সালে মৃত্যুবরণ করেন। আব্দুল আজিজ, শহীদ। মো: আহসান উল্লাহ, এইচ.এস.সি ফল প্রার্থী, ফালাহিয়া কামিল মাদ্রাসা, নূর জাহান আক্তার, ৬ষ্ঠ শ্রেণী, শিলরী হোসাইনা দাখিল মাদ্রাসা।

📸 তথ্য ও স্মৃতি সম্বলিত আলোকচিত্র

Memory Image
🔍
Memory Image
🔍
Memory Image
🔍