হোম / আওয়ামী দুঃশাসনে শহীদ / শহীদ মুহাম্মদ সাহাব উদ্দিন পাটোয়ারী
শহীদ মুহাম্মদ সাহাব উদ্দিন পাটোয়ারী

শহীদ মুহাম্মদ সাহাব উদ্দিন পাটোয়ারী

আওয়ামী দুঃশাসনের বিগত ১৬ বছরের ফ্যাসিবাদবিরোধী শহীদ

📝 সংক্ষিপ্ত পরিচিতি

কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গে, বেওয়ারিশ হিসেবে পাওয়া যায়

🩸 শাহাদাতের ঘটনা ও বিস্তারিত বিবরণ

শহীদ মুহাম্মদ সাহাব উদ্দিন পাটোয়ারী কুমিল্লা জেলার চৌদ্দগ্রাম উপজেলার চান্দিশকরা গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। পিতামাতার দুই ছেলের মধ্যে ছোট ছেলে। পুলিশের বুলেটে তাকে শহীদ হতে হলো। তিনি জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে অনার্স শেষ বর্ষের ছাত্র ছিলেন। তিনি সংগঠনের সদস্য এবং থানা সভাপতি ছিলেন।

যেভাবে তিনি আল্লাহর ডাকে চলে যান
০৬-০২-২০১৫ ভোর ৪.০০ চৌদ্দগ্রাম উপজেলার মিয়াবাজারস্থ সামুকশার ইটভাটায় যৌথ বাহিনীর গুলিতে শহীদ হয়ে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।

শাহাদাতের পূর্বের বিভিন্ন ঘটনা
২০১৫ সালের ০৩ ফেব্রুয়ারি রাতে চৌদ্দগ্রাম উপজেলার মিয়াবাজার নামক স্থানে যাত্রীবাহী বাসে পেট্রোল বোমা নিক্ষেপ করে ৮টি তরতাজা বনী আদমকে পুড়িয়ে অঙ্গার করা হয়। আওয়ামী ঘৃণ্য ষড়যন্ত্রের দায়ভার জামায়াত শিবিরের উপর চাপিয়ে তাদের রাজনৈতিক ফায়দা হাসিল করার চেষ্টা চলতে থাকে। বাস পোড়ানোকে পুঁজি করে তারা নিরীহ জামায়াত-শিবিরের ভাইদেরকে মামলা দিয়ে যৌথ বাহিনীর অভিযানের নামে হয়রানি ও আতঙ্ক সৃষ্টি করতে শতাধিক বাড়িঘর ভাংচুর ও ক্রসফায়ারের হুমকি দিতে থাকে।

সামগ্রিক ঘটনার বিবরণ
রাজনৈতিক আন্দোলন, অবরোধ কর্মসূচী চলায় চৌদ্দগ্রাম হঠাৎ মুখ থুবড়ে পড়ে। সেই সময়ে কর্মীদের সাহস যোগানোর জন্য এলাকায় অবস্থান করছেন সাহাব উদ্দিন পাটোয়ারী। জেলা সভাপতি তাকে একটু সরে থাকতে বললে তিনি বলেন, আমি যদি না থাকি তাহলে কর্মীরা হতাশ হবে। ৫ ফেব্রুয়ারি দুপুর থেকে বাড়িতে অবস্থান করে কর্মীদের ও যাদের বাড়ি ঘর ভাংচুর করেছে তাদের খোঁজ খবর নিচ্ছিলেন। তখন বিকেল ৫টা। আসরের নামাজ শেষ করে বের হওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। এমন সময় ১০/১২ জন পুলিশ এসে হামলা করলো তাদের ঘরে। সাহাব উদ্দিনকে মায়ের সামনে থেকে টেনে হিঁচড়ে নিয়ে গেল। সাহাব উদ্দিন শুধু বলেছিল, আমাকে একটু সুযোগ দেন আমি জুতাগুলো পরে নেই। ৬ ফেব্রুয়ারি ভোর ৪টা কি ৪টা ৩০ হবে, চৌদ্দগ্রাম উপজেলার মিয়াবাজারস্থ সামু কশার ইটভাটা থেকে ৫/৭ টা গুলির আওয়াজ শোনা যায়। ২০ মিনিট পর পুলিশ একটা গাড়ি নিয়ে এসে ইটভাটার দিক থেকে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় সাহাব উদ্দিনের লাশ নিয়ে গেল।

শহীদের আপনজনদের কথা
শহীদের ছোটবোন ফারজানা আক্তার: জালিমেরা আমার ভাইকে বাড়ি থেকে ধরে নিয়ে হত্যা করে বন্দুকযুদ্ধ নামে চালিয়ে দেয়। আমার ভাইয়া তো শুধু ইসলামি আন্দোলন করতো। ভাইকে আওয়ামী পুলিশগুলো মায়ের সামনে থেকে চিলের মতো থাবা মেরে নিয়ে গিয়ে এইভাবে শেষ করে দিবে ভাবতেই পারিনি।

এক নজরে শহীদ সাহাব উদ্দিন পাটোয়ারী

শহীদের নাম: সাহাব উদ্দিন পাটোয়ারী
পিতার নাম: মাওলানা জয়নাল আবেদীন পাটোয়ারী
মাতার নাম: ছকিনা বেগম।

জন্ম তারিখ: ৮ এপ্রিল ১৯৯১

স্থায়ী ঠিকানা: চান্দিশকরা, চৌদ্দগ্রাম পৌরসভা, চৌদ্দগ্রাম, কুমিল্লা
ভাই-বোন: দুই ভাই তিন বোন।
গ্রেফতারের তারিখ: ৫ ফেব্রুয়ারি ২০১৫
আহতের ধরন ও পরবর্তী অবস্থা: মাথায় গুলি
শাহাদাতের তারিখ ও সময়: ৬ ফেব্রুয়ারি ২০১৫, চৌদ্দগ্রাম উপজেলার মিয়াবাজারস্থ সামুকশার ইটভাটার সামনে
লাশ উদ্ধার: কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গে, বেওয়ারিশ হিসেবে পাওয়া যায়

📸 তথ্য ও স্মৃতি সম্বলিত আলোকচিত্র

Memory Image
🔍
Memory Image
🔍
Memory Image
🔍