শহীদ মনোয়ার জাওয়াদ সিয়াম
আওয়ামী দুঃশাসনের বিগত ১৬ বছরের ফ্যাসিবাদবিরোধী শহীদ
📝 সংক্ষিপ্ত পরিচিতি
১৮ দলের অবরোধ কর্মসূচীতে অংশগ্রহণ করার পর পুলিশের গুলিতে বুকের বাম পাঁজর আর মাথার পেছনের অংশ গুলিবিদ্ধ হয় মারাত্মকভাবে আহত হন
🩸 শাহাদাতের ঘটনা ও বিস্তারিত বিবরণ
শহীদ মনোয়ার জাওয়াদ সিয়াম
মাত্র চৌদ্দ বছর বয়সী এক কিশোর শহীদ মনোয়ার জাওয়াদ সিয়াম। এই চৌদ্দ বছর বয়সেই তিনি তাঁর চরিত্র ও কাজ কর্ম দিয়ে তাক লাগিয়ে দিয়েছিলো সবাইকে। শাহাদাত বরণের কয়েকদিন আগে তিনি তার মাকে বলেছিলেন, ‘আম্মু, আপনাদের জন্য আমার খুব চিন্তা হয় যে, আপনাদেরকে আমি কিভাবে জান্নাতে নিয়ে যাবো।’ জন্ম : ২৮ অক্টোবর ১৯৯৮, শাহাদাতবরণ : ৩ ডিসেম্বর ২০১৩
শহীদের পরিচিতি চাঁদপুর জেলার চাঁদপুর পৌরসভার ১১ নং ওয়ার্ডের নিউ ট্রাক রোডে অবস্থিত একটি ঐতিহ্যবাহী মুসলিম পরিবার মোস্তান বাড়িতে জন্মগ্রহণ করেন শহীদ সিয়াম। তাঁর পিতার নাম মোহাম্মদ মজিবুর রহমান সুমন মোস্তান ও মায়ের নাম ফারজানা আক্তার পাখি। শহীদ মনোয়ার জাওয়াদ সিয়ামের শিক্ষাজীবন শুরু হয় ছয় বছর বয়সে। তাঁকে ভর্তি করিয়ে দেয়া হয় নিজ বাড়ির সামনে অবস্থিত আল-আমিন মডেল মাদরাসায়। এখানে তিনি প্রথম শ্রেণিতে ভর্তি হন এবং এই মাদরাসায় অধ্যয়নরত অবস্থায় তিনি শাহাদাতবরণ করেন। শাহাদাতের সময় তিনি জেডিসি পরীক্ষার ফলপ্রার্থী ছিলেন। শাহাদাতের পরে প্রকাশিত ফলাফলে দেখা যায় তিনি ৪.৫৮ লাভ করেছেন। পরিবারে চার ভাই-বোনের মধ্যে তিনি ছিলেন দ্বিতীয়। ২০১৩ সালের ২৪ জানুয়ারি তিনি ছাত্রশিবিরের কর্মী মানে উন্নীত হন। ১১ নং ওয়ার্ড এর সাহিত্য সম্পাদক হিসেবে তিনি দায়িত্ব পালন করছিলেন।
যেভাবে তিনি আল্লাহর ডাকে চলে যান ২০১৩ সালের ৩ ডিসেম্বর স্মরণীয় দিনটিতে ১৮ দলীয় জোটের অবরোধ কর্মসূচির সমর্থনে মিছিলের আয়োজন করা হয়। মিছিলে অংশ নেন শহীদ সিয়াম। মিছিল যখন স্থানীয় শিল্পকলা একাডেমির দিকে অগ্রসর হচ্ছিল ঠিক তখনই পুলিশ মিছিলের ওপর গুলিবর্ষণ শুরু করে। পুলিশের এলোপাথাড়ি গুলিতে ক্ষতবিক্ষত হয়ে যায় সিয়ামের পুরো দেহ। বুকের বাম পাঁজর আর মাথার পেছনের অংশ গুলিবিদ্ধ হয় মারাত্মকভাবে। সঙ্গে সঙ্গে তাঁর কচি দেহটি রাস্তায় লুটিয়ে পড়ে। আহত ও গুলিবিদ্ধ হয় আরও অনেকে। শহীদ সিয়ামকে গুলিবিদ্ধ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে ভ্যান গাড়িতে তুলে নিয়ে যাওয়া হয় সদর হাসপাতালে। হাসপাতালে নেয়ার কিছুক্ষণ পরই শহীদ সিয়াম তাঁর গর্বিত পিতার কোলে মাথা রেখে মহান প্রভুর সান্নিধ্যে চলে যান।
কেমন ছিলেন শহীদ সিয়াম মাত্র ১৪ বছর বয়সী শহীদ সিয়ামের জীবন অজস্র গল্পে ভরপুর। তিনি পড়ালেখায় যেমন মেধাবী ছিলেন তেমনি ইসলামী আন্দোলনেও ছিলেন নিবেদিত প্রাণ। পাড়ার খেলাধুলা ও সামাজিক আন্দোলনের নেতৃত্ব ছিলো তাঁর হাতে। খেলা প্রেমিক সিয়াম খেলা বন্ধ করে সবাইকে নিয়ে মসজিদে চলে যেতেন। হিন্দু বন্ধুদেরকে বলতেন ইচ্ছে করলে তোমরা আমাদের সঙ্গে নামাজে আসতে পারো অথবা অপেক্ষা করো। পাড়ার একমাত্র খেলার মাঠটি যখন তিনি ও সমবয়সীদের দখলে চলে যায়, তখন তিনি তাদের চেয়ে ছোটরা কোথায় খেলবে এ নিয়ে চিন্তিত হয়ে পড়েন। অবশেষে নিজেদের একটি খালি জমিতে ছোটদের জন্য খেলার মাঠ তৈরি করে দেন। ওই মাঠ তৈরি করতে গিয়ে দাদীর লাগানো একটি লাউ মুড়া সরাতে হয়। এতে করে লাউ গাছটি মরে যায়। পরদিন নিজের পিতার কাছ থেকে টাকা নিয়ে নতুন লাউয়ের চারা কিনে লাগান। দু’দিন পর যখন দেখেন যে, লাউগাছ বেঁচে আছে এবং বেড়ে উঠেছে তখন তিনি আনন্দে আত্মহারা হয়ে যান। নিজের মাকে ঘর থেকে ডেকে এনে দেখান সে, লাউগাছটি তরতাজা হয়ে উঠছে। ছোটদের খেলাধুলা নিয়ে তিনি যেমন চিন্তিত ছিলেন দাদির ক্ষতিগ্রস্ত লাউগাছ নিয়েও ছিলো তাঁর চিন্তা। তিনি তাঁর সমবয়সীদের নিয়ে এলাকায় ধুমপান বিরোধী এক প্রবল আন্দোলন গড়ে তোলেন। হাতে লেখা পোস্টার দিয়ে ছেয়ে ফেলেন পাড়া-মহল্লা। একদিন তাঁর হাতে লেখা একটি পোস্টার কেউ ছিঁড়ে ফেললে তিনি মারাত্মকভাবে মর্মাহত হন। পোস্টারের সেই ছেঁড়া টুকরোগুলো ঘরে এনে পিতাকে দেখান এবং জোড়াতালি দিয়ে রেখে দেন। ফজরের সময় তিনি পরিবারের পাশাপাশি পাড়ার লোকদের ঘুম থেকে জাগিয়ে দিতেন। সবাইকে নিয়ে মসজিদে গিয়ে নামাজ আদায় করতেন। একবার তিনি ছাত্রশিবিরের এক শিক্ষা বৈঠকে অংশ নেয়ার তাঁর আম্মু জানতে পেরে একজন দায়িত্বশীলকে খুব বকা দিলেন। তিনি বাসায় গিয়ে তাঁর আম্মুকে বললেন, ‘আম্মু আমার জন্য কাউছার ভাই কিংবা অন্য কোন দায়িত্বশীলকে যদি আপনি বকা দেন, তাহলে আমি খুব কষ্ট পাবো। ছোট্ট জীবনে এরকম অজস্র ঘটনা ও গল্পের জন্ম দেয়া শহীদ সিয়াম ছিলেন এক অসাধারণ সম্ভাবনাময় কিশোর।
সামগ্রিক ঘটনার বিবরণ সেদিন ছিলো ১৮ দলীয় জোটের পূর্ব নির্ধারিত অবরোধ কর্মসূচি। এই কর্মসূচিতে অংশ নেয়ার জন্য অন্য সবার মতো সিয়ামও রওয়ানা করেন। পথে এক দায়িত্বশীল সিয়ামকে বললেন, সিয়াম তুমি ছোট মানুষ, এই কর্মসূচিতে তোমার যাওয়া লাগবে না। তুমি বাসায় চলে যাও। সিয়াম জবাব দিলেন, আমার জেডিসি পরীক্ষা শেষ হয়ে গেছে। আমি আপনাদের সঙ্গে যাবো। অবরোধের সমর্থনে আয়োজিত মিছিলে অংশ নেন সিয়াম। পুলিশ সম্পূর্ণ বিনা উস্কানিতে মিছিলে গুলিবর্ষণ শুরু করে। গুলিবিদ্ধ হয় অনেকে। ছাত্রদল নেতা তাজুল ইসলাম পাটোয়ারি ও শিবির কর্মী মনোয়ার জাওয়াদ সিয়াম শহীদ হয়ে যান।
শহীদের আপন জনদের কথা শহীদের পিতা বলেন সিয়ামের গল্পের শেষ নেই। একদিন আমি পাড়ার কিছু লোকের সঙ্গে দাঁড়িয়ে কথা বলছিলাম। নামাজের জামায়াত শেষ হয়ে গেছে। আমি তখনও দাঁড়িয়ে কথা বলছি। সিয়াম আমাকে আব্বু বলে ডাক দিলো। আমি বললাম, বলো কি বলবা। ও বললো তুমি এদিকে আসো। আমি লোকগুলোকে দাঁড় করিয়ে ওর কাছে গেলাম। ও আমাকে বললো, ‘তুমি কি নামাজ পড়েছো? আমি বললাম, না। ও বল্ল, তাহলে নামাজ পড়। আমি বললাম, পড়ব। ও বলল, নামাজের সময় তো তোমার আর আমার জন্য বসে থাকবে না।’ শহীদের মা বলেন, ‘সিয়াম সব সময় কোরআন, হাদিস আর ইসলামী বই পড়তো এবং এগুলো আমাকেও পড়তে দিতো। শহীদ হবার কয়েকদিন আগে সে আমাকে বললো, ‘আম্মু, আপনাদের জন্য আমাদের চিন্তা হয় যে, আপনাদেরকে আমি কিভাবে জান্নাতে নিয়ে যাবো। আমি আবদুল মোহাইমেনকে (ছোট ভাই) কোরআনে হাফেজ বানাবো।’ সিয়ামের দাদা (বাবার চাচা) আবদুশ শুকুর মস্তান বলেন, ‘নাতি আমার আরও অনেক আছে। কিন্তু সিয়ামের মতো কাউকে পাই না। সে সব দিক থেকে ছিলো অনন্য বৈশিষ্ট্যের অগ্রাধীকারী।’
গণমাধ্যমে শহীদ মনোয়ার জাওয়াদ সিয়াম “ছাত্রশিবিরের ১৬৩তম শহীদ মনোয়ার জাওয়াদ সিয়ামের প্রথম শাহাদাত বার্ষিকী উপলক্ষে কুরআনখানি, আলোচনা সভা ও দোয়া অনুষ্ঠান” শিরোনামে চাঁদপুর নিউজ ৩ ডিসেম্বর ২০১৪ তারিখে নিম্নোক্ত খবর প্রচার করে
৩রা ডিসেম্বর ২০১৩ সালে চাঁদপুরে তৎকালিন ১৮ দলীয় জোটের নির্দলীয় নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে নির্বাচনের দাবিতে শান্তিপূর্ণ অবরোধ কর্মসূচী পালনকালে নির্বিচারে সরকারের পেটুয়া বাহিনী পুলিশের গুলিতে নিহত ছাত্রশিবিরের ১৬৩তম শহীদ মনোয়ার জাওয়াদ সিয়ামের প্রথম শাহাদাত বার্ষিকী উপলক্ষে ৩ ডিসেম্বর ২০১৪ গতকাল বুধবার সকাল ৯টায় টাস্করোডস্থ শহীদ এর নিজ বাড়ি সংলগ্নে আল আমিন মডেল মাদরাসা মাঠে কুরআনখানি আলোচনা সভা ও দোয়া অনুষ্ঠানের আয়োজন করে বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির চাঁদপুর শহর শাখা। ইসলামী ছাত্রশিবির চাঁদপুর শহর সভাপতি মু. নজরুল ইসলাম মারুফ এর সভাপতিত্বে ও শহর দপ্তর সম্পাদক সাইফুল ইসলাম সবুজের পরিচালনায় অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী কেন্দ্রীয় মজলিশে শুরার সদস্য ও কেন্দ্রীয় নেতা এ এইচ আহমদ উল্লাহ মিয়া, প্রধান বক্তা হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির কেন্দ্রীয় কার্যকরি পরিষদ সদস্য ও কুমিল্লা মহানগরী সভাপতি মুহাম্মদ শাহআলম, বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের চাঁদপুর শহর সভাপতি এড. সলিম উল্লাহ সেলিম, জেলা জামায়াতের সেক্রটারী মাও. বিল্লাল হোসেন মিয়াজী, শহর জামায়াতের আমীর ও সদর উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান এড. শাহজাহান মিয়া, শহীদ সিয়ামের গর্বিত পিতা মজিবুর রহমান সুমন মস্তান, জেলা ছাত্রশিবিরের সভাপতি সাখাওয়াত হোসেন, শহর শিবিরের সাবেক সভাপতি সাইফুল আলম, সাবেক জেলা শিবিরের সভাপতি শাহজাহান খান, শহর জামায়াতের নায়েবে আমীর এড. শেখ সালেহ, শহর জামায়াতের সেক্রেটারী অধ্যাপক আরিফ উল্লাহ, বিশিষ্ট সমাজসেবক আব্দুস শুক্কুর মস্তান, হিফজুল কুরআন শিক্ষা গবেষণা ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান আসাদুজ্জামান দেওয়ান, আল আমিন মডেল মাদরাসার অধ্যক্ষ আ.ন.ম ফখরুল ইসলাম মাসুম, জেলা ছাত্রশিবিরের সেক্রেটারি ইমরান হোসাইন, শহর জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি মাও. আফসার উদ্দীন মিয়াজী, আব্দুল কাদের খান, অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন শহর ছাত্রশিবিরের অর্থ সম্পাদক মাসুম চৌধুরী, শিক্ষা সম্পাদক মাহবুবুর রহমান, সাহিত্য সম্পাদক আব্দুল আউয়াল, স্কুল কার্যক্রম সম্পাদক আহমদ খান, ছাত্র কল্যাণ সম্পাদক মিজানুর রহমান সজিব, শিবির নেতা জয়নাল আবেদীন, জুবায়ের হোসেন, মঞ্জুর হোসেন প্রমুখ। আলোচনা সভায় বক্তারা বলেন, নির্দলীয় নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে নির্বাচনের দাবিতে ২০১৩ সালের ৩রা ডিসেম্বর তৎকালীন সরকারের অগণতান্ত্রিক আচরণের প্রতিবাদ করতে গিয়ে সরকারের লেলিয়ে দেওয়া পুলিশের গুলিতে নির্মমভাবে শাহাদাতবরণ করেন শিবিরকর্মী মনোয়ার জাওয়াদ সিয়াম। গণতন্ত্র রক্ষায় একজন কিশোর তার জীবন দিয়ে প্রমাণ করেছে ইসলাম কখনো বাতিলের সামনে মাথা নত করে না। শহীদ সিয়াম ছিলেন তার মা বাবার শ্রেষ্ঠ সন্তান শিক্ষা প্রতিষ্ঠানেও পড়ালেখায় ছিলেন অগ্রগামী। কিশোর বয়সেই অনৈতিক কোন কর্মকাণ্ডকে সমর্থন করতেন না। আজকে আমরা তাকে হারিয়ে শোকাহত। তার সাথে সাথে আমরা বলতে চাই আজ তার প্রথম শাহাদাত বার্ষিকী পালিত হচ্ছে কিন্তু এখনো তার খুনিদের বিচার হয়নি। পুলিশ মামলা পর্যন্ত নেয়নি। বাংলাদেশে যদি ৩৫ বছর পর বঙ্গবন্ধুর খুনিদের বিচার হতে পারে তাহলে এই বাংলার জমিনে পঞ্চাশ বছর পর হলেও শহীদ সিয়ামের খুনিদের বিচার হবেই। তারা বলেন, আমরা আজ শহীদের পিতামাতাকে তাদের প্রিয় সন্তান সিয়ামকে ফেরত দিতে পারবো না কিন্তু শহীদের স্বজনদেরকে এই বলে সান্তনা দিতে চাই একদিন বাংলার জমিনে শহীদ সিয়ামের রক্তের উপর ইসলাম বিজয় হবে। ইনশাআল্লাহ। উল্লেখ্য ২০১৩ সালের ৩রা ডিসেম্বর সকাল ১০টায় সপ্তাহব্যাপি অবরোধের ৪র্থ দিনে জোড় পুকুর পাড়ে পুলিশের গুলিতে শাহাদাত বরণ করেন। শহীদ মনোয়ার জাওয়াদ সিয়াম ছিলেন আল আমিন মডেল মাদরাসার জেডিসি ফলপ্রার্থী এবং চাঁদপুর শহর ছাত্রশিবিরের ১১নং ওয়ার্ড সাহিত্য সম্পাদক। তার পিতা মজিবুর রহমান সুমন মস্তান, মাতা সখিনা বেগম ফাতিহা, চার ভাইয়ের মধ্যে সে ছিল ২য়।
ভাই-বোনদের বিবরণ ১। মাহফুজুর রহমান ইমন- কাতার প্রবাসী। ২। নাজমুস সাকিব- দাখিল পরীক্ষার্থী। ৩। আবদুল মোহাইমেন- শিশু শ্রেণি। ৪। সাহেরা- ২০১৯ ডিসেম্বর জন্ম।
এক নজরে শহীদ মনোয়ার জাওয়াদ সিয়াম
নাম : মনোয়ার জাওয়াদ সিয়াম
পিতা : মজিবুর রহমান সুমন মস্তান
মাতা : ফারজানা আক্তার পাখি
জন্ম : ২৮ অক্টোবর ১৯৯৮
ঠিকানা : নিউ ট্র্যান্সরোড, ওয়ার্ড নং- ১১, চাঁদপুর পৌরসভা থানা: সদর, জেলা: চাঁদপুর।
শিক্ষা প্রতিষ্ঠান : জেডিসি ফলপ্রার্থী, আল আমিন মডেল মাদরাসা, চাঁদপুর
ভাই-বোনের সংখ্যা : চার ভাইয়ের মধ্যে দ্বিতীয়
সাংগঠনিক মান : কর্মী দায়িত্ব : সাহিত্য সম্পাদক, ১১ নং ওয়ার্ড
কিভাবে শহীদ হলেন : ১৮ দলের অবরোধ কর্মসূচীতে অংশগ্রহণ করার পর পুলিশের গুলিতে বুকের বাম পাঁজর আর মাথার পেছনের অংশ গুলিবিদ্ধ হয় মারাত্মকভাবে আহত হন
শাহাদাতের তারিখ : ৩ ডিসেম্বর, ২০১৩
মাত্র চৌদ্দ বছর বয়সী এক কিশোর শহীদ মনোয়ার জাওয়াদ সিয়াম। এই চৌদ্দ বছর বয়সেই তিনি তাঁর চরিত্র ও কাজ কর্ম দিয়ে তাক লাগিয়ে দিয়েছিলো সবাইকে। শাহাদাত বরণের কয়েকদিন আগে তিনি তার মাকে বলেছিলেন, ‘আম্মু, আপনাদের জন্য আমার খুব চিন্তা হয় যে, আপনাদেরকে আমি কিভাবে জান্নাতে নিয়ে যাবো।’ জন্ম : ২৮ অক্টোবর ১৯৯৮, শাহাদাতবরণ : ৩ ডিসেম্বর ২০১৩
শহীদের পরিচিতি চাঁদপুর জেলার চাঁদপুর পৌরসভার ১১ নং ওয়ার্ডের নিউ ট্রাক রোডে অবস্থিত একটি ঐতিহ্যবাহী মুসলিম পরিবার মোস্তান বাড়িতে জন্মগ্রহণ করেন শহীদ সিয়াম। তাঁর পিতার নাম মোহাম্মদ মজিবুর রহমান সুমন মোস্তান ও মায়ের নাম ফারজানা আক্তার পাখি। শহীদ মনোয়ার জাওয়াদ সিয়ামের শিক্ষাজীবন শুরু হয় ছয় বছর বয়সে। তাঁকে ভর্তি করিয়ে দেয়া হয় নিজ বাড়ির সামনে অবস্থিত আল-আমিন মডেল মাদরাসায়। এখানে তিনি প্রথম শ্রেণিতে ভর্তি হন এবং এই মাদরাসায় অধ্যয়নরত অবস্থায় তিনি শাহাদাতবরণ করেন। শাহাদাতের সময় তিনি জেডিসি পরীক্ষার ফলপ্রার্থী ছিলেন। শাহাদাতের পরে প্রকাশিত ফলাফলে দেখা যায় তিনি ৪.৫৮ লাভ করেছেন। পরিবারে চার ভাই-বোনের মধ্যে তিনি ছিলেন দ্বিতীয়। ২০১৩ সালের ২৪ জানুয়ারি তিনি ছাত্রশিবিরের কর্মী মানে উন্নীত হন। ১১ নং ওয়ার্ড এর সাহিত্য সম্পাদক হিসেবে তিনি দায়িত্ব পালন করছিলেন।
যেভাবে তিনি আল্লাহর ডাকে চলে যান ২০১৩ সালের ৩ ডিসেম্বর স্মরণীয় দিনটিতে ১৮ দলীয় জোটের অবরোধ কর্মসূচির সমর্থনে মিছিলের আয়োজন করা হয়। মিছিলে অংশ নেন শহীদ সিয়াম। মিছিল যখন স্থানীয় শিল্পকলা একাডেমির দিকে অগ্রসর হচ্ছিল ঠিক তখনই পুলিশ মিছিলের ওপর গুলিবর্ষণ শুরু করে। পুলিশের এলোপাথাড়ি গুলিতে ক্ষতবিক্ষত হয়ে যায় সিয়ামের পুরো দেহ। বুকের বাম পাঁজর আর মাথার পেছনের অংশ গুলিবিদ্ধ হয় মারাত্মকভাবে। সঙ্গে সঙ্গে তাঁর কচি দেহটি রাস্তায় লুটিয়ে পড়ে। আহত ও গুলিবিদ্ধ হয় আরও অনেকে। শহীদ সিয়ামকে গুলিবিদ্ধ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে ভ্যান গাড়িতে তুলে নিয়ে যাওয়া হয় সদর হাসপাতালে। হাসপাতালে নেয়ার কিছুক্ষণ পরই শহীদ সিয়াম তাঁর গর্বিত পিতার কোলে মাথা রেখে মহান প্রভুর সান্নিধ্যে চলে যান।
কেমন ছিলেন শহীদ সিয়াম মাত্র ১৪ বছর বয়সী শহীদ সিয়ামের জীবন অজস্র গল্পে ভরপুর। তিনি পড়ালেখায় যেমন মেধাবী ছিলেন তেমনি ইসলামী আন্দোলনেও ছিলেন নিবেদিত প্রাণ। পাড়ার খেলাধুলা ও সামাজিক আন্দোলনের নেতৃত্ব ছিলো তাঁর হাতে। খেলা প্রেমিক সিয়াম খেলা বন্ধ করে সবাইকে নিয়ে মসজিদে চলে যেতেন। হিন্দু বন্ধুদেরকে বলতেন ইচ্ছে করলে তোমরা আমাদের সঙ্গে নামাজে আসতে পারো অথবা অপেক্ষা করো। পাড়ার একমাত্র খেলার মাঠটি যখন তিনি ও সমবয়সীদের দখলে চলে যায়, তখন তিনি তাদের চেয়ে ছোটরা কোথায় খেলবে এ নিয়ে চিন্তিত হয়ে পড়েন। অবশেষে নিজেদের একটি খালি জমিতে ছোটদের জন্য খেলার মাঠ তৈরি করে দেন। ওই মাঠ তৈরি করতে গিয়ে দাদীর লাগানো একটি লাউ মুড়া সরাতে হয়। এতে করে লাউ গাছটি মরে যায়। পরদিন নিজের পিতার কাছ থেকে টাকা নিয়ে নতুন লাউয়ের চারা কিনে লাগান। দু’দিন পর যখন দেখেন যে, লাউগাছ বেঁচে আছে এবং বেড়ে উঠেছে তখন তিনি আনন্দে আত্মহারা হয়ে যান। নিজের মাকে ঘর থেকে ডেকে এনে দেখান সে, লাউগাছটি তরতাজা হয়ে উঠছে। ছোটদের খেলাধুলা নিয়ে তিনি যেমন চিন্তিত ছিলেন দাদির ক্ষতিগ্রস্ত লাউগাছ নিয়েও ছিলো তাঁর চিন্তা। তিনি তাঁর সমবয়সীদের নিয়ে এলাকায় ধুমপান বিরোধী এক প্রবল আন্দোলন গড়ে তোলেন। হাতে লেখা পোস্টার দিয়ে ছেয়ে ফেলেন পাড়া-মহল্লা। একদিন তাঁর হাতে লেখা একটি পোস্টার কেউ ছিঁড়ে ফেললে তিনি মারাত্মকভাবে মর্মাহত হন। পোস্টারের সেই ছেঁড়া টুকরোগুলো ঘরে এনে পিতাকে দেখান এবং জোড়াতালি দিয়ে রেখে দেন। ফজরের সময় তিনি পরিবারের পাশাপাশি পাড়ার লোকদের ঘুম থেকে জাগিয়ে দিতেন। সবাইকে নিয়ে মসজিদে গিয়ে নামাজ আদায় করতেন। একবার তিনি ছাত্রশিবিরের এক শিক্ষা বৈঠকে অংশ নেয়ার তাঁর আম্মু জানতে পেরে একজন দায়িত্বশীলকে খুব বকা দিলেন। তিনি বাসায় গিয়ে তাঁর আম্মুকে বললেন, ‘আম্মু আমার জন্য কাউছার ভাই কিংবা অন্য কোন দায়িত্বশীলকে যদি আপনি বকা দেন, তাহলে আমি খুব কষ্ট পাবো। ছোট্ট জীবনে এরকম অজস্র ঘটনা ও গল্পের জন্ম দেয়া শহীদ সিয়াম ছিলেন এক অসাধারণ সম্ভাবনাময় কিশোর।
সামগ্রিক ঘটনার বিবরণ সেদিন ছিলো ১৮ দলীয় জোটের পূর্ব নির্ধারিত অবরোধ কর্মসূচি। এই কর্মসূচিতে অংশ নেয়ার জন্য অন্য সবার মতো সিয়ামও রওয়ানা করেন। পথে এক দায়িত্বশীল সিয়ামকে বললেন, সিয়াম তুমি ছোট মানুষ, এই কর্মসূচিতে তোমার যাওয়া লাগবে না। তুমি বাসায় চলে যাও। সিয়াম জবাব দিলেন, আমার জেডিসি পরীক্ষা শেষ হয়ে গেছে। আমি আপনাদের সঙ্গে যাবো। অবরোধের সমর্থনে আয়োজিত মিছিলে অংশ নেন সিয়াম। পুলিশ সম্পূর্ণ বিনা উস্কানিতে মিছিলে গুলিবর্ষণ শুরু করে। গুলিবিদ্ধ হয় অনেকে। ছাত্রদল নেতা তাজুল ইসলাম পাটোয়ারি ও শিবির কর্মী মনোয়ার জাওয়াদ সিয়াম শহীদ হয়ে যান।
শহীদের আপন জনদের কথা শহীদের পিতা বলেন সিয়ামের গল্পের শেষ নেই। একদিন আমি পাড়ার কিছু লোকের সঙ্গে দাঁড়িয়ে কথা বলছিলাম। নামাজের জামায়াত শেষ হয়ে গেছে। আমি তখনও দাঁড়িয়ে কথা বলছি। সিয়াম আমাকে আব্বু বলে ডাক দিলো। আমি বললাম, বলো কি বলবা। ও বললো তুমি এদিকে আসো। আমি লোকগুলোকে দাঁড় করিয়ে ওর কাছে গেলাম। ও আমাকে বললো, ‘তুমি কি নামাজ পড়েছো? আমি বললাম, না। ও বল্ল, তাহলে নামাজ পড়। আমি বললাম, পড়ব। ও বলল, নামাজের সময় তো তোমার আর আমার জন্য বসে থাকবে না।’ শহীদের মা বলেন, ‘সিয়াম সব সময় কোরআন, হাদিস আর ইসলামী বই পড়তো এবং এগুলো আমাকেও পড়তে দিতো। শহীদ হবার কয়েকদিন আগে সে আমাকে বললো, ‘আম্মু, আপনাদের জন্য আমাদের চিন্তা হয় যে, আপনাদেরকে আমি কিভাবে জান্নাতে নিয়ে যাবো। আমি আবদুল মোহাইমেনকে (ছোট ভাই) কোরআনে হাফেজ বানাবো।’ সিয়ামের দাদা (বাবার চাচা) আবদুশ শুকুর মস্তান বলেন, ‘নাতি আমার আরও অনেক আছে। কিন্তু সিয়ামের মতো কাউকে পাই না। সে সব দিক থেকে ছিলো অনন্য বৈশিষ্ট্যের অগ্রাধীকারী।’
গণমাধ্যমে শহীদ মনোয়ার জাওয়াদ সিয়াম “ছাত্রশিবিরের ১৬৩তম শহীদ মনোয়ার জাওয়াদ সিয়ামের প্রথম শাহাদাত বার্ষিকী উপলক্ষে কুরআনখানি, আলোচনা সভা ও দোয়া অনুষ্ঠান” শিরোনামে চাঁদপুর নিউজ ৩ ডিসেম্বর ২০১৪ তারিখে নিম্নোক্ত খবর প্রচার করে
৩রা ডিসেম্বর ২০১৩ সালে চাঁদপুরে তৎকালিন ১৮ দলীয় জোটের নির্দলীয় নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে নির্বাচনের দাবিতে শান্তিপূর্ণ অবরোধ কর্মসূচী পালনকালে নির্বিচারে সরকারের পেটুয়া বাহিনী পুলিশের গুলিতে নিহত ছাত্রশিবিরের ১৬৩তম শহীদ মনোয়ার জাওয়াদ সিয়ামের প্রথম শাহাদাত বার্ষিকী উপলক্ষে ৩ ডিসেম্বর ২০১৪ গতকাল বুধবার সকাল ৯টায় টাস্করোডস্থ শহীদ এর নিজ বাড়ি সংলগ্নে আল আমিন মডেল মাদরাসা মাঠে কুরআনখানি আলোচনা সভা ও দোয়া অনুষ্ঠানের আয়োজন করে বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির চাঁদপুর শহর শাখা। ইসলামী ছাত্রশিবির চাঁদপুর শহর সভাপতি মু. নজরুল ইসলাম মারুফ এর সভাপতিত্বে ও শহর দপ্তর সম্পাদক সাইফুল ইসলাম সবুজের পরিচালনায় অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী কেন্দ্রীয় মজলিশে শুরার সদস্য ও কেন্দ্রীয় নেতা এ এইচ আহমদ উল্লাহ মিয়া, প্রধান বক্তা হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির কেন্দ্রীয় কার্যকরি পরিষদ সদস্য ও কুমিল্লা মহানগরী সভাপতি মুহাম্মদ শাহআলম, বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের চাঁদপুর শহর সভাপতি এড. সলিম উল্লাহ সেলিম, জেলা জামায়াতের সেক্রটারী মাও. বিল্লাল হোসেন মিয়াজী, শহর জামায়াতের আমীর ও সদর উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান এড. শাহজাহান মিয়া, শহীদ সিয়ামের গর্বিত পিতা মজিবুর রহমান সুমন মস্তান, জেলা ছাত্রশিবিরের সভাপতি সাখাওয়াত হোসেন, শহর শিবিরের সাবেক সভাপতি সাইফুল আলম, সাবেক জেলা শিবিরের সভাপতি শাহজাহান খান, শহর জামায়াতের নায়েবে আমীর এড. শেখ সালেহ, শহর জামায়াতের সেক্রেটারী অধ্যাপক আরিফ উল্লাহ, বিশিষ্ট সমাজসেবক আব্দুস শুক্কুর মস্তান, হিফজুল কুরআন শিক্ষা গবেষণা ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান আসাদুজ্জামান দেওয়ান, আল আমিন মডেল মাদরাসার অধ্যক্ষ আ.ন.ম ফখরুল ইসলাম মাসুম, জেলা ছাত্রশিবিরের সেক্রেটারি ইমরান হোসাইন, শহর জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি মাও. আফসার উদ্দীন মিয়াজী, আব্দুল কাদের খান, অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন শহর ছাত্রশিবিরের অর্থ সম্পাদক মাসুম চৌধুরী, শিক্ষা সম্পাদক মাহবুবুর রহমান, সাহিত্য সম্পাদক আব্দুল আউয়াল, স্কুল কার্যক্রম সম্পাদক আহমদ খান, ছাত্র কল্যাণ সম্পাদক মিজানুর রহমান সজিব, শিবির নেতা জয়নাল আবেদীন, জুবায়ের হোসেন, মঞ্জুর হোসেন প্রমুখ। আলোচনা সভায় বক্তারা বলেন, নির্দলীয় নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে নির্বাচনের দাবিতে ২০১৩ সালের ৩রা ডিসেম্বর তৎকালীন সরকারের অগণতান্ত্রিক আচরণের প্রতিবাদ করতে গিয়ে সরকারের লেলিয়ে দেওয়া পুলিশের গুলিতে নির্মমভাবে শাহাদাতবরণ করেন শিবিরকর্মী মনোয়ার জাওয়াদ সিয়াম। গণতন্ত্র রক্ষায় একজন কিশোর তার জীবন দিয়ে প্রমাণ করেছে ইসলাম কখনো বাতিলের সামনে মাথা নত করে না। শহীদ সিয়াম ছিলেন তার মা বাবার শ্রেষ্ঠ সন্তান শিক্ষা প্রতিষ্ঠানেও পড়ালেখায় ছিলেন অগ্রগামী। কিশোর বয়সেই অনৈতিক কোন কর্মকাণ্ডকে সমর্থন করতেন না। আজকে আমরা তাকে হারিয়ে শোকাহত। তার সাথে সাথে আমরা বলতে চাই আজ তার প্রথম শাহাদাত বার্ষিকী পালিত হচ্ছে কিন্তু এখনো তার খুনিদের বিচার হয়নি। পুলিশ মামলা পর্যন্ত নেয়নি। বাংলাদেশে যদি ৩৫ বছর পর বঙ্গবন্ধুর খুনিদের বিচার হতে পারে তাহলে এই বাংলার জমিনে পঞ্চাশ বছর পর হলেও শহীদ সিয়ামের খুনিদের বিচার হবেই। তারা বলেন, আমরা আজ শহীদের পিতামাতাকে তাদের প্রিয় সন্তান সিয়ামকে ফেরত দিতে পারবো না কিন্তু শহীদের স্বজনদেরকে এই বলে সান্তনা দিতে চাই একদিন বাংলার জমিনে শহীদ সিয়ামের রক্তের উপর ইসলাম বিজয় হবে। ইনশাআল্লাহ। উল্লেখ্য ২০১৩ সালের ৩রা ডিসেম্বর সকাল ১০টায় সপ্তাহব্যাপি অবরোধের ৪র্থ দিনে জোড় পুকুর পাড়ে পুলিশের গুলিতে শাহাদাত বরণ করেন। শহীদ মনোয়ার জাওয়াদ সিয়াম ছিলেন আল আমিন মডেল মাদরাসার জেডিসি ফলপ্রার্থী এবং চাঁদপুর শহর ছাত্রশিবিরের ১১নং ওয়ার্ড সাহিত্য সম্পাদক। তার পিতা মজিবুর রহমান সুমন মস্তান, মাতা সখিনা বেগম ফাতিহা, চার ভাইয়ের মধ্যে সে ছিল ২য়।
ভাই-বোনদের বিবরণ ১। মাহফুজুর রহমান ইমন- কাতার প্রবাসী। ২। নাজমুস সাকিব- দাখিল পরীক্ষার্থী। ৩। আবদুল মোহাইমেন- শিশু শ্রেণি। ৪। সাহেরা- ২০১৯ ডিসেম্বর জন্ম।
এক নজরে শহীদ মনোয়ার জাওয়াদ সিয়াম
নাম : মনোয়ার জাওয়াদ সিয়াম
পিতা : মজিবুর রহমান সুমন মস্তান
মাতা : ফারজানা আক্তার পাখি
জন্ম : ২৮ অক্টোবর ১৯৯৮
ঠিকানা : নিউ ট্র্যান্সরোড, ওয়ার্ড নং- ১১, চাঁদপুর পৌরসভা থানা: সদর, জেলা: চাঁদপুর।
শিক্ষা প্রতিষ্ঠান : জেডিসি ফলপ্রার্থী, আল আমিন মডেল মাদরাসা, চাঁদপুর
ভাই-বোনের সংখ্যা : চার ভাইয়ের মধ্যে দ্বিতীয়
সাংগঠনিক মান : কর্মী দায়িত্ব : সাহিত্য সম্পাদক, ১১ নং ওয়ার্ড
কিভাবে শহীদ হলেন : ১৮ দলের অবরোধ কর্মসূচীতে অংশগ্রহণ করার পর পুলিশের গুলিতে বুকের বাম পাঁজর আর মাথার পেছনের অংশ গুলিবিদ্ধ হয় মারাত্মকভাবে আহত হন
শাহাদাতের তারিখ : ৩ ডিসেম্বর, ২০১৩
📸 তথ্য ও স্মৃতি সম্বলিত আলোকচিত্র
🔍
🔍
🔍