← মূল তালিকায় ফিরুন
🕊️ জুলাই ২০২৪ বিপ্লবের বীর শহীদ
মো: আব্দুল আলীম
শহীদ
Memorial QR Code

📱 স্মার্ট কিউআর কোড

মোবাইল ক্যামেরা দিয়ে স্ক্যান করে এই প্রোফাইল সংরক্ষণ ও শেয়ার করুন।

🌹 দোয়া

বাটনে ক্লিক করে এই বীর শহীদের প্রতি আন্তরিক শ্রদ্ধা ও দোয়া জ্ঞাপন করুন

নাম

মো: আব্দুল আলীম

📅 জন্ম তারিখ

১৯ জুলাই, ১৯৭৭

🕊️ শাহাদাত বরণের তারিখ

৪ আগস্ট, ২০২৪

🗺️ বিভাগ

রাজশাহী

📍 জেলা

সিরাজগঞ্জ

👤 শহীদের সংক্ষিপ্ত জীবনবৃত্তান্ত

পেশা : দিনমজুর,
শাহাদাতের স্থান : এনায়েতপুর খাজা ইউনুস আলী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল

📜

শাহাদাতের বিস্তারিত ঘটনা ও ইতিহাস

শহীদ মোঃ আব্দুল আলীমের বাড়ি সিরাজগঞ্জ সদরের কালিয়াহরিপুর চর বনবাড়ীয়া গ্রামে। এক ছেলে, এক মেয়ে ও স্ত্রীকে নিয়েই ছিল তাঁর সংসার। কাজ করতেন জুট মিলে। মিল বন্ধ হবার পর দিনমজুরের কাজ করতেন। আয়-রোজগার ছিল খুবই সামান্য। কোনোমতে চলছিল তাদের গোছানো সুন্দর পরিবারটি। বড়ো ছেলে ইন্টার মিডিয়েট ১ম বর্ষে ও ছোট মেয়ে নবম শ্রেণিতে পড়াশোনা করছে। শহীদের একরাশ স্বপ্ন ছিল সন্তানদের নিয়ে। শহীদ আব্দুল আলীম ভাবতেন তারা বড় হয়ে বাবা-মায়ের মুখের হাসির কারণ হবে। মুছে যাবে সব দুঃখ। একদিন হয়তো সত্যি তাঁর সে স্বপ্ন পূরণ হবে, তবে শহীদ তা দেখে যেতে পারলেন না।
শহীদ তাঁর পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি ছিলেন। তাঁর শাহাদাতের পর আয়ের উৎস বন্ধ হয়ে গিয়েছে। তিনি হাটের ইজারার অংশীদার ছিলেন যা আগামী ছয়মাস পর্যন্ত চালু থাকবে। যেখান থেকে প্রতি মাসে তাঁর পরিবার বারোশো করে টাকা পাবেন। শহীদের নিজস্ব কোনো জমি নেই। আর কোনো আয়ের উৎসও নেই। ফলে পরিবারটি এখন চরম মানবেতর জীবনযাপন করছেন।
ঘটনার বিবরণ
৪ আগস্ট ২০২৪। সারাদেশে স্বৈরাচার পতনের আন্দোলন তীব্র থেকে তীব্রতর হতে থাকে। মানুষের মনে বাড়তে থাকে ক্রোধের মাত্রা। চারদিকে শুধু ছাত্র ও সাধারণ মানুষের মৃত্যুর খবর। এমন সময় একজন দেশপ্রেমিক মানুষের জন্য ঘরে বসে থাকা অসম্ভব। জীবনের বিনিময়ে হলেও যেন অন্যায় ও জুলুমের সমাপ্তি হয় এই প্রতিজ্ঞা নিয়ে আন্দোলনের মাঠে নামে লাখো জনতা। বসে থাকেননি শহীদ আব্দুল আলীমও। ৪ঠা আগস্ট ২০২৪ সকাল ১১ টার দিকে যোগ দেন বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের ডাকা মিছিলে। জুলুমের বিরুদ্ধে তুলে ধরেন নিজের প্রতিবাদী কণ্ঠস্বর। মিছিলটি সিরাজগঞ্জের এস এস রোডে মাহবুব শপিং কমপ্লেক্সের সামনে এলে আওয়ামী লীগের সন্ত্রাসীরা মিছিলে হামলা করে। শুরু হয় প্রচণ্ড সংঘর্ষ। চলে ইট-পাটকেল ছোড়াছুড়ি। শহীদ আব্দুল আলীমের সারা শরীর যেন ইট-পাটকেলের আঘাতে ব্যথার স্তুপ হয়ে যায়। বুকে প্রচণ্ড আঘাত পান। এক পর্যায়ে আওয়ামী লীগের সন্ত্রাসীরা গুলি করতে শুরু করে। শহীদ আব্দুল আলীম রাস্তায় পড়ে যান। তার ওপর দিয়ে অনেকেই দৌড়ে যায়। পরে তাকে কয়েকজন রিক্সায় করে কোনোমতে বাড়িতে পৌঁছে দেয়। ব্যথায় তাঁর পুরো শরীর শক্ত হয়ে যায়। বাবার এ অবস্থা দেখে ছেলেমেয়েরা কান্নায় ভেঙে পড়ে। রাত যত বাড়তে থাকে তাঁর যন্ত্রণা তত বাড়তে থাকে। এভাবে কেটে যায় দুদিন। তার অবস্থা আরো খারাপ হতে থাকে। পরে কয়েকটি হাসপাতাল ঘুরে এনায়েতপুর হাসপাতালের আই সি ইউতে ভর্তি করা হয়। শহীদের ছেলে কাঁদতে কাঁদতে বারবার বলছিলেন, “বাবাকে কি তাহলে হারিয়ে ফেলবো?”
দুঃসহ যন্ত্রণার অবসান ঘটিয়ে অবশেষে ৭ তারিখ অর্থাৎ আহত হবার তৃতীয় দিন রাত ১০.২০ মিনিটে শাহাদাত বরণ করেন আব্দুল আলীম।
ছেলেমেয়ে হারায় বাবাকে। তারা হারিয়ে ফেলে বটবৃক্ষের মতো ছায়াকে। বাবার স্মৃতিগুলো চোখের সামনে এলে অশ্রু আর বাধ মানে না। স্বৈরাচার যে ওদের বাবাকে কেড়ে নিয়েছে।
শহীদ সম্পর্কে তাঁর বড় ভাই বলেন, “আমার ভাই একজন শ্রমিক ছিল। পাশাপাশি খেলাধুলা পছন্দ করতো। সে মিশুক প্রকৃতির মানুষ ছিল। পাড়া প্রতিবেশী সবার সাথেই ভালো সম্পর্ক ছিল। সমাজ ও দেশের বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আমার সাথে পরামর্শ করতো। সে একজন দায়িত্ব সচেতন মানুষ ছিল। সবার কাছে আমরা দোয়া চাই এবং তাঁর আত্মার মাগফিরাত কামনা করি। দেশবাসী যেন তাঁর জন্য দোয়া করেন। সবাই তাঁর পরিবারের প্রতি খেয়াল রাখবেন।”
শহীদের ছেলে কাঁদতে কাঁদতে বারবার বলছিলেন, “বাবাকে কি তাহলে হারিয়ে ফেলবো?”
শহীদের সংক্ষিপ্ত পরিচিতি
নাম : মো: আব্দুল আলীম
জন্ম তারিখ : ১৯/০৭/১৯৭৭
জন্মস্থান : চর বনবাড়িয়া
পেশা : দিনমজুর
আহত হবার স্থান : সিরাজগঞ্জ এস এস রোড, মাহবুব কমপ্লেক্সের সামনে
শহীদ হবার স্থান : এনায়েতপুর খাজা ইউনুস আলী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল
আঘাতের ধরন : ইট-পাটকেলে জখম
আক্রমণকারী : আওয়ামী সন্ত্রাসীরা
আহত হবার তারিখ ও সময় : ০৪.০৮.২০২৪; সকাল ১১.০০টা
শহীদ হবার তারিখ ও সময় : ০৭.০৮.২০২৪; রাত ১০.২০টা
শহীদের কবরস্থান : চর বনবাড়িয়া করবস্থান (২৪.৪৬৩০২৬৫ঘ,৮৯.৬৬৫২১ঊ) (জিপিএস লোকেশনসহ)
বর্তমান ও স্থায়ী ঠিকানা : গ্রাম: চর বনবাড়িয়া, ইউনিয়ন: কালিয়া হরিপুর, থানা: সিরাজগঞ্জ সদর, জেলা: সিরাজগঞ্জ
পরিবারসংক্রান্ত তথ্য
পিতা : মৃত মোঃ ছমের আলী শেখ
মাতা : মৃত হালিমা বেগম
স্ত্রী : চামেলী বেগম
বয়স : ৪৫
মাসিক আয় : ১,২০০/- মাত্র
আয়ের উৎস : হাটের ইজারা (অস্থায়ী)
শহীদের সাথে সম্পর্ক : ছেলে
পরিবারের বর্তমান সদস্য সংখ্যা : ৩ জন
পরিবারের অন্যান্য সদস্য
ছেলে : সাকিব হোসেন
বয়স ও পেশা : ১৮, শিক্ষার্থী
মেয়ে : জান্নাত আরা তিথি
বয়স ও পেশা : ১৪, শিক্ষার্থী
পরামর্শ
১. শহীদের বড় ছেলের চাকরির ব্যবস্থা করে দেওয়া
২. দুই ছেলেমেয়ের পড়াশোনার ব্যবস্থা করাধ
📖

পবিত্র কুরআনের বাণী

আর যারা আল্লাহর পথে নিহত হয়েছে তাদেরকে মৃত বলো না; বরং তারা জীবিত; কিন্তু তোমরা উপলব্ধি করতে পার না। (সুরা আল-বাকারা ২:১৫৪)

🕌

হাদীস শরীফ

রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, “শহীদদের জন্য জান্নাতে ৭০ জন আত্মীয়ের জন্য সুপারিশ করার অধিকার থাকবে।” (সুনান আবু দাউদ ২৫২০)

🖼️

শহীদের স্মৃতিচিত্র ও ফটো গ্যালারি

Memorial Photo
🔍 বড় করে দেখুন
Memorial Photo
🔍 বড় করে দেখুন
Memorial Photo
🔍 বড় করে দেখুন
Memorial Photo
🔍 বড় করে দেখুন
Memorial Photo
🔍 বড় করে দেখুন
Memorial Photo
🔍 বড় করে দেখুন
Memorial Photo
🔍 বড় করে দেখুন
Memorial Photo
🔍 বড় করে দেখুন
Memorial Photo
🔍 বড় করে দেখুন

📢 এই আত্মত্যাগের ইতিহাস শেয়ার করুন