🕯️ জুলাই বিপ্লবের আত্মোৎসর্গ

জুলাই আন্দোলনে বীর আহতদের আর্কাইভ

ফ্যাসিবাদবিরোধী ঐতিহাসিক ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানে আহত বীরদের ত্যাগ ও অমর স্মৃতির প্রতি বিনম্র শ্রদ্ধাঞ্জলি

📋

আহতদের প্রাথমিক তথ্য সংরক্ষণ

মাঠপর্যায়ে সংগৃহীত আহতদের প্রাথমিক তথ্যসমূহ এখানে সার্বক্ষণিক সংরক্ষণ করা হচ্ছে। প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় নির্ভরযোগ্য সূত্র থেকে প্রাপ্ত তথ্য যাচাই-বাছাই চলমান রয়েছে।

📖

স্মারক গ্রন্থ ও ওয়েবসাইটে প্রকাশিত তথ্য

দুই খণ্ড স্মারক গ্রন্থে প্রকাশিত এবং ওয়েবসাইটে সংকলিত যাচাইকৃত তথ্যসমূহ এখানে প্রদর্শিত হচ্ছে। পর্যায়ক্রমে দেশব্যাপী সকল আহতদের বীরত্বগাথা যুক্ত হচ্ছে।

মোট নথিভুক্ত আহত

638 জন

মোট জেলার বিস্তৃতি

42 টি জেলা

প্রদর্শিত সংখ্যা

638

শহীদ
#2
জুবায়ের হোসেন

জুবায়ের হোসেন

📍 জেলা: কিশোরগঞ্জ

জুবায়ের হোসেন কিশোরগঞ্জের চর নোয়াকান্দি গ্রামের এক শ্রমজীবী পরিবারের সন্তান, যিনি চরম দারিদ্র্যের মধ্যেও পড়াশোনা চালিয়ে ঢাকা এসে উচ্চশিক্ষা নিচ্ছিলেন। বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনে অংশ নিয়ে ১৯ জুলাই ২০২৪ পুলিশের ছোড়া বুলেটে তিনি গুরুতর আহত হন। যে দুটি বুলেট আজও তার পায়ের ভেতরে রয়ে গেছে। চিকিৎসা, আর্থিক সংকট ও অবহেলার মধ্যেও তিনি টিউশন করে নিজে ও পরিবারকে সামলাচ্ছেন। ন্যায়, সমান অধিকার ও মানবিক রাষ্ট্রের স্বপ্নে তিনি আজও দৃঢ়। রাষ্ট্রীয় সহায়তা না পেলেও তিনি ন্যায়, মানবিকতা ও সমঅধিকারের স্বপ্ন বুকে নিয়ে এগিয়ে চলেছেন।

সম্পূর্ণ বিবরণ দেখুন →
শহীদ
#3
মো. ফারুক

মো. ফারুক

📍 জেলা: কিশোরগঞ্জ

মো. ফারুক নারায়ণগঞ্জের দরিদ্র শ্রমজীবী পরিবারে বেড়ে ওঠা এক সংগ্রামী তরুণ, যিনি শৈশব থেকেই অনাথত্ব ও দারিদ্র্যের বিরুদ্ধে লড়েছেন। ৫ আগস্ট ২০২৪ বাড্ডায় বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের সামনের সারিতে থাকাকালে পুলিশি গুলিতে তার মাথা-মুখে শতাধিক ছররা লাগে এবং একটি চোখের দৃষ্টি চিরতরে নষ্ট হয়। গুরুতর আহত হয়ে তিনি কর্মহীন ও মানসিকভাবে বিপর্যস্ত জীবন কাটাচ্ছেন, ছয় বছর বয়সী সন্তানকেও দীর্ঘদিন দেখা হয়নি। পরিবার-সমাজের অবহেলা সত্ত্বেও তিনি ন্যায় ও মর্যাদার জন্য লড়াই চালিয়ে যাচ্ছেন। আজ তিনি রাষ্ট্রীয় পুনর্বাসন ও ন্যায্য সহায়তার প্রত্যাশায় এক জীবন্ত শহীদ হয়ে বেঁচে আছেন।

সম্পূর্ণ বিবরণ দেখুন →
শহীদ
#4
মো: নিজাম উদ্দিন

মো: নিজাম উদ্দিন

📍 জেলা: ঢাকা

মো: নিজাম উদ্দিন লালবাগে জন্ম নেওয়া এক শ্রমজীবী তরুণ, যিনি দারিদ্র্য ও পারিবারিক সংকটের মধ্যেও উচ্চমাধ্যমিক পর্যন্ত পড়াশোনা শেষ করে ডেলিভারিম্যান হিসেবে জীবিকা অর্জন করছিলেন। বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনে মানবিকতার জায়গা থেকে অংশ নিতে গিয়ে ১৮ জুলাই ২০২৪-এ তিনি গুরুতর হামলার শিকার হন, ভেঙে যায় তাঁর পায়ের হাড় এবং ‘লকিং প্লেট’ বসিয়ে অস্ত্রোপচার করতে হয়। শারীরিক যন্ত্রণা, মানসিক ট্রমা ও কর্মক্ষমতা হারিয়েও তিনি লড়াই চালিয়ে যাচ্ছেন সম্মানজনক জীবনে ফেরার আশায়। বর্তমানে তিনি পুনর্বাসন, চিকিৎসা সহায়তা এবং একটি স্থায়ী আয়ের উৎসের জরুরি প্রয়োজন বোধ করছেন।

সম্পূর্ণ বিবরণ দেখুন →
শহীদ
#7
 মো: কামরুল হাসান

মো: কামরুল হাসান

📍 জেলা: ঢাকা

মো. কামরুল হাসান একজন নিবেদিতপ্রাণ শিক্ষক ও মানবিক মানুষ, যিনি শিক্ষার্থীদের উন্নয়ন এবং সমাজের ন্যায়বিচারের পক্ষে সবসময় সোচ্চার ছিলেন। ৪ আগস্ট ২০২৪ সাইন্সল্যাব এলাকায় শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদে অংশ নিতে গিয়ে ছাত্রলীগ-যুবলীগ ও পুলিশের যৌথ সশস্ত্র হামলায় তিনি গুলিবিদ্ধ হন এবং গুরুতর আহত অবস্থায় হাসপাতালে ভর্তি হন। অপারেশনের মাধ্যমে বাঁচলেও সেই ঘটনার শারীরিক ব্যথা আজও তাকে বহন করতে হয়। পরিবারে বৃদ্ধ বাবা ও অসুস্থ মায়ের চিকিৎসার ভারও তার ওপর পড়েছে, যা বর্তমান পরিস্থিতিকে আরও কঠিন করে তুলেছে। তিনি জুলাই যোদ্ধা কার্ড ও পারিবারিক চিকিৎসা সহায়তা পেলে পুনরায় স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে পারবেন।

সম্পূর্ণ বিবরণ দেখুন →
শহীদ
#8
সাইফুল ইসলাম

সাইফুল ইসলাম

📍 জেলা: বরিশাল

সাইফুল ইসলাম ২০০০ সালের ১২ ডিসেম্বর বরিশাল জেলার মেহেন্দিগঞ্জ উপজেলায় এক দরিদ্র কিন্তু পরিশ্রমী পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। বর্তমানে তিনি ঢাকার যাত্রাবাড়ী এলাকায় বসবাস করেন। তার বাবা মাহেব হোসেন জামাদার পেশায় রিকশাচালক এবং মা জয়গুন নেছা পোশাক কারখানায় শ্রমিক হিসেবে কাজ করেন। তিন বোন, এক ভাই, বাবা-মা মোট ছয় সদস্যের এই পরিবার জীবনের প্রতিটি মুহূর্তেই সংগ্রাম করে দিন কাটাচ্ছিল। পরিবারের বড় ছেলে হিসেবে বহু বছর ধরে সংসারের প্রধান দায়িত্ব নিজের কাঁধে তুলে নেন সাইফুল। নির্দিষ্ট চাকরি না থাকলেও তিনি দিনমজুরি, রিকশা চালানোসহ যেকোনো পরিশ্রমের কাজ করে পরিবারের খরচ চালিয়ে আসছিলেন। বাবা-মা শারীরিকভাবে দুর্বল হওয়ায় ভাইবোনদের পড়ালেখা ও সংসারের অধিকাংশ ব্যয়ভার তার উপরই পড়েছিল। সাইফুল ছিলেন সেই নিঃশব্দ সংগ্রামী তরুণদের একজন, যারা নিজের জীবনের কষ্ট ভুলে পরিবারকে টিকিয়ে রাখতে সর্বস্ব বিলিয়ে দেয়।

সম্পূর্ণ বিবরণ দেখুন →
শহীদ
#9
মো: মিলন

মো: মিলন

📍 জেলা: পটুয়াখালী

মো: মিলন ১৯৯১ সালের ২৯ ডিসেম্বর পটুয়াখালী জেলার দশমিনা উপজেলার চাঁদপুরা গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তার পিতা আলাউদ্দিন ও মাতা হামিদা খাতুন একটি সাধারণ, সংগ্রামী পরিবারের দুই স্তম্ভ। জীবিকার প্রয়োজনে মিলন বর্তমানে ঢাকার যাত্রাবাড়ীতে বসবাস করেন। পরিবারের পাঁচ সদস্যের মধ্যে মিলন ছিলেন প্রধান উপার্জনকারী। একজন ভাড়ায় চালিত সিএনজি চালক হিসেবে প্রতিদিন শহরের বিভিন্ন প্রান্তে ছুটে বেড়িয়েছেন কেবল পরিবারের প্রয়োজন মেটাতে, ছোট ভাইবোনের পড়াশোনা চালাতে এবং মা-বাবার চিকিৎসার ব্যয় সামলাতে। পরিশ্রম, সততা ও মানবিকতা ছিল তার জীবনের ভিত্তি। তিনি ছিলেন এক নীরব যোদ্ধা যার জীবনের প্রতিটি দিনই ছিল সংগ্রাম ও দায়িত্বের অঙ্গীকার।

সম্পূর্ণ বিবরণ দেখুন →
শহীদ
#10
মো: জাফরুল হাসান (যুবায়ের)

মো: জাফরুল হাসান (যুবায়ের)

📍 জেলা: ঢাকা

মো: জাফরুল হাসান ১৯৯৬ সালের ২৩ নভেম্বর শরীয়তপুর জেলার এক সাধারণ, মূল্যবোধসম্পন্ন পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর পিতা জালাল শিকদার ও মাতা সেলিনা বেগম ছিলেন পরিশ্রমী, নৈতিকতা-নিষ্ঠ ও সৎ জীবনধারার অনুসারী। পারিবারিক আদর্শ, দায়িত্ববোধ এবং মানবিক মূল্যবোধ থেকেই জাফরুল ছোটবেলা থেকেই নিজেকে গড়ে তোলার চেষ্টা করেছেন পরিশ্রমী ও আত্মনির্ভরশীল একজন মানুষ হিসেবে। জীবনের সংগ্রাম পেরিয়ে তিনি যুক্ত হন দেশের একটি স্বনামধন্য আর্থিক প্রতিষ্ঠান সিটি ব্যাংকে, যেখানে তিনি মাসিক মাত্র ১৫,০০০ টাকা আয় করতেন। আয় সামান্য হলেও সততা, দায়িত্ববোধ এবং আত্মমর্যাদাকে তিনি সর্বদা প্রধান্য দিয়েছেন। বর্তমানে তিনি রাজধানীর যাত্রাবাড়ী এলাকায় বসবাস করতেন এবং পরিবার ও সমাজের প্রতি দায়বদ্ধ একজন সচেতন নাগরিক হিসেবে পরিচিত ছিলেন।

সম্পূর্ণ বিবরণ দেখুন →
শহীদ
#11
মোহাম্মদ সামিউল ইসলাম

মোহাম্মদ সামিউল ইসলাম

📍 জেলা: ঢাকা

মোহাম্মদ সামিউল ইসলাম একজন স্বপ্নবিলাসী, নীতি-নৈতিকতায় গড়ে ওঠা তরুণ। সাধারণ ও ধর্মীয় শিক্ষায় অগ্রসর এই ছাত্রের জীবন থমকে যায় নির্মম রাষ্ট্রীয় সহিংসতার এক কালো দিনে। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট, সকাল ১১টা ৩০ মিনিটে, ঢাকার যাত্রাবাড়ী থানার সামনে চলছিল কোটা বৈষম্যের বিরুদ্ধে শান্তিপূর্ণ ছাত্র আন্দোলন। হাজারো প্রতিবাদী মুখের মাঝেই দাঁড়িয়ে ছিলেন সামিউল মনেপ্রাণে দেশপ্রেম, চোখে অধিকার ও স্বাধীনতার স্বপ্ন। ঠিক সেই মুহূর্তেই ছাদের উপর থেকে সিভিল পোশাকধারী এক বন্দুকধারী সরাসরি গুলি ছোড়ে। সরে যেতে চেষ্টা করলেও গুলি এসে সামিউলের পেটের বাঁ দিক দিয়ে ঢুকে পিঠের ডান দিক দিয়ে বেরিয়ে যায়, ছিন্নবিচ্ছিন্ন করে দেয় তার তিলি–কলিজা এবং গুরুতর আঘাত করে মেরুদণ্ডে।

সম্পূর্ণ বিবরণ দেখুন →
শহীদ
#13
নিজাম উদ্দিন সুফেল

নিজাম উদ্দিন সুফেল

📍 জেলা: কুমিল্লা

নিজাম উদ্দিন সুফেল কুমিল্লার এক পরিশ্রমী ও ধর্মভীরু তরুণ, যিনি ঢাকায় ইলেকট্রিক দোকানে কাজ করে পরিবারকে সহায়তা করতেন। ৪ আগস্ট ২০২৪ বংশালের শান্তিপূর্ণ মিছিলে অংশ নিতে গিয়ে ছাত্রলীগ সন্ত্রাসীদের গুলিতে তাঁর গলায় গুরুতর আঘাত লাগে। দীর্ঘ চিকিৎসা, ব্যথা ও কাজের অক্ষমতার মধ্যে তিনি মানসিক ও আর্থিক সংকটে পড়েন। এখন ছোট ফেরি-ব্যবসা চালিয়ে কঠিন জীবনযুদ্ধ চালিয়ে যাচ্ছেন এবং রাষ্ট্রীয় পুনর্বাসন, চিকিৎসা সহায়তা ও একটি স্থায়ী ব্যবসা গড়ার স্বপ্নে আগ্রহী। তাঁর জীবনের সবচেয়ে বড় আকাঙ্ক্ষা হালাল উপার্জনে মা-বাবাকে ওমরাহ করানো।

সম্পূর্ণ বিবরণ দেখুন →
শহীদ
#14
মো. ইসমাঈল

মো. ইসমাঈল

📍 জেলা: ঢাকা

মো. ইসমাঈল ঢাকার দনিয়ার এক সংগ্রামী তরুণ, যার কাঁধেই ছিল পুরো পরিবারের ভরসা। ছোটবেলায় বাবাকে হারানো, পরে অসুস্থ মাকে বাঁচিয়ে রাখার লড়াই সবকিছুই তিনি সামলাচ্ছিলেন একাই। ১৮ জুলাই ২০২৪ যাত্রাবাড়ী ফ্লাইওভারের শান্তিপূর্ণ সমাবেশে অংশ নিতে গিয়ে নির্দোষ ইসমাঈল গুলিবিদ্ধ হন; সেই মুহূর্তেই বদলে যায় তাঁর স্বপ্ন, ভবিষ্যৎ এবং চলার পথ। দীর্ঘ চিকিৎসা, অস্ত্রোপচার ও অক্ষমতার দুঃসহ যন্ত্রণায় আজ তিনি পুরোপুরি কর্মহীন। তবুও হার মানেননি একটি অটোরিকশা কিনে আবার মাথা উঁচু করে দাঁড়ানোর ইচ্ছা তাকে বাঁচিয়ে রেখেছে। ইসমাঈলের লড়াই আজ শুধু নিজের নয় একটি ভাঙা পরিবারের বেঁচে থাকার আকুল আবেদন।

সম্পূর্ণ বিবরণ দেখুন →
শহীদ
#15
মো: ইমরান হোসেন

মো: ইমরান হোসেন

📍 জেলা: নারায়ণগঞ্জ

মো: ইমরান হোসেন ২০০০ সালের ২৫ জুলাই নারায়ণগঞ্জ জেলার আড়াইহাজার থানার লালপুর গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। ২০ জুলাই ২০২৪ সহযোদ্ধাকে রক্ষা করতে গিয়ে যাত্রাবাড়ী টোলপ্লাজায় পুলিশের গুলিতে গুরুতর আহত হয়ে তার জীবন থেমে যায় যন্ত্রণার এক নতুন মোড়ে। হাসপাতালে পৌঁছানোর পরও অবহেলা ও অমানবিক আচরণ তার ক্ষতকে আরও গভীর করে। একের পর এক অস্ত্রোপচার, প্লেট ইনফেকশন ও দীর্ঘ চিকিৎসা তাঁকে সম্পূর্ণ কর্মহীন করে ফেলেছে। তবুও ইমরানের আকাঙ্ক্ষা একটিই ন্যায্য চিকিৎসা ও পুনর্বাসনের সহায়তা পেলে আবারও তিনি নিজের জীবনযুদ্ধ নতুন করে শুরু করতে চান।

সম্পূর্ণ বিবরণ দেখুন →
শহীদ
#17
মো: আশরাফুল ইসলাম

মো: আশরাফুল ইসলাম

📍 জেলা: কিশোরগঞ্জ

মো: আশরাফুল ইসলাম কিশোরগঞ্জের এক শ্রমজীবী পরিবারে জন্ম নেওয়া পরিশ্রমী টাইলস মিস্ত্রী। যার স্বপ্ন ছিল শুধু পরিবারের মুখে হাসি ফোটানো। অদম্য শ্রম আর দায়িত্ববোধ তাকে খুব অল্প বয়সেই পরিবারটির প্রধান ভরসায় পরিণত করে। ২০২৪ সালের বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনে অন্যায়ের বিরুদ্ধে দাঁড়াতে গিয়ে তিনি গুলিবিদ্ধ হয়ে কোমর থেকে নিচ পর্যন্ত স্থায়ীভাবে পঙ্গুত্ববরণ করেন। তবু তার চোখে এখনও বেঁচে থাকার দৃঢ় ইচ্ছা আর সমাজবদলের নরম স্বপ্ন জ্বলজ্বল করে। আশরাফুল আজ শুধু একজন আহত শ্রমিক নন তিনি নিপীড়নের বিরুদ্ধে সাধারণ মানুষের প্রতিবাদের এক নীরব প্রতীক।

সম্পূর্ণ বিবরণ দেখুন →
শহীদ
#20
আব্দুল সাত্তার

আব্দুল সাত্তার

📍 জেলা: পিরোজপুর

১৯৬৮ সালের শুরুর সকালে পিরোজপুরের ইকরীর মাটি ছুঁয়ে পৃথিবীতে আসা আব্দুল সাত্তার বড় হয়েছেন কৃষক পরিবারে পরিশ্রম আর আত্মমর্যাদার আলোতে। জীবিকার পথচলায় ছোট কারখানা থেকে মুদী দোকান সবকিছুই তিনি গড়েছিলেন নিজের হাতে, নিজের ঘামে। কিন্তু ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট যাত্রাবাড়ীর এক জনসমাগমে গুলিবিদ্ধ হওয়ার মুহূর্তটি তার জীবনের গতিপথ পাল্টে দেয় পায়ে ক্ষত, জীবনে থমকে যাওয়া পথ, আর দায়িত্বের ভার আরও গভীর হয়ে ওঠে। তবু সন্তানদের ভবিষ্যৎ আর বৃদ্ধ পিতা-মায়ের মুখ মনে রেখে তিনি আজও ধীরে ধীরে হাঁটেন নিজের বিশ্বাসকে বুকে নিয়ে। তার জীবন সাক্ষ্য দেয় একজন সাধারণ মানুষের হৃদয়ও অদম্য শক্তির গল্প লিখে যেতে পারে।

সম্পূর্ণ বিবরণ দেখুন →
শহীদ
#21
বেল্লাল হাওলাদার

বেল্লাল হাওলাদার

📍 জেলা: পিরোজপুর

১৯৯৫ সালে পিরোজপুরের দক্ষিণ ইন্দুরকানীর নরম সবুজ প্রকৃতির মাঝে জন্ম নেওয়া বেল্লাল হাওলাদার ছোটবেলা থেকেই পরিশ্রমকে সঙ্গী করে বড় হয়েছেন। জীবিকার টানে ঢাকায় এসে ফুটপাতে ডাব বিক্রির ছোট্ট দোকানেই তিনি গড়ে তুলেছিলেন পরিবারের স্বপ্নের ভরসা। কিন্তু ২০২৪ সালের ১৯ জুলাই কুতুবখালীর এক অঘটনে গুলিবিদ্ধ হওয়ার পর তার ডান হাতের শক্তি হারিয়ে যায়, আর জীবনের দৌড়ে হঠাৎ থেমে যায় আশার অনেক পথ। দুই ছেলের মুখ মনে রেখে তিনি আজও ধীরে ধীরে দাঁড়াতে শেখেন ব্যথার ভেতর থেকেও সাহস কুড়িয়ে নেওয়া এক নীরব যোদ্ধার মতো। তার জীবন প্রমাণ করে একজন সাধারণ মানুষের হৃদয়েও অসাধারণ দৃঢ়তার আলো জ্বলে।

সম্পূর্ণ বিবরণ দেখুন →
শহীদ
#22
হোসাইন ফরহাদ কমল

হোসাইন ফরহাদ কমল

📍 জেলা: চাঁদপুর

১৯৮৫ সালের ৫ ডিসেম্বর চাঁদপুরের মতলবের শান্ত গ্রামীণ আকাশের নিচে জন্ম নেওয়া হোসাইন ফরহাদ কমল বড় হয়েছেন এক ধর্মভীরু পরিবারের স্নেহে ও অনুশাসনের আলোয়। গ্রামের মাটি, মক্তবের পাঠ, মসজিদে নামাজ এসবেই তার ভেতরে গড়ে ওঠে ন্যায়পরায়ণ ও সংবেদনশীল এক মন। বড় হয়ে তিনি ঢাকায় আখের আড়ত গড়ে তোলেন, যেখানে পরিশ্রম, সততা আর মানুষের প্রতি দায়বদ্ধতাই ছিল তাঁর ব্যবসার মূল শক্তি। ২০২৪ সালের জুলাইয়ে এক জনসমাগমে ছররা গুলিতে আহত হওয়ার অভিজ্ঞতা তার জীবনকে থামিয়ে দিলেও মনকে থামাতে পারেনি ব্যথার মধ্যেও তিনি পরিবারের হাত ধরে ধীরে ধীরে উঠে দাঁড়ান আবার। আজ তাঁর জীবন এক নীরব বার্তা আহতরা হারায় না, বরং মানবিকতার ইতিহাসকে নতুন পথ দেখায়।

সম্পূর্ণ বিবরণ দেখুন →
শহীদ
#23
ইউছুপ আলী

ইউছুপ আলী

📍 জেলা: লক্ষ্মীপুর

১৯৮৮ সালের ২ সেপ্টেম্বর লক্ষ্মীপুরের রুদ্ররামপুরের জন্ম নেওয়া ইউছুপ আলী বড় হয়েছেন দরিদ্রতার মাঝেও মূল্যবোধে গড়া এক সাদামাটা পরিবারে। অল্প বয়সে জীবিকার টানে শহরে এসে গার্মেন্টস দোকানের শ্রমজীবী মানুষের জীবনেই তিনি খুঁজে পেয়েছিলেন নিজের সম্মান, দায়িত্ব ও পরিবারের জন্য বাঁচার অর্থ। ২০২৪ সালের আগস্টে স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলনে পায়ে গুলিবিদ্ধ হওয়ার পর তার কর্মব্যস্ত জীবন থেমে গেলেও থামেনি তার পরিবারকে আঁকড়ে ধরার দৃঢ়তা। দীর্ঘ চিকিৎসা-যন্ত্রণা, অনিশ্চয়তা আর অভাবের মধ্যেও তিনি আজও দাঁড়িয়ে আছেন অটল হয়ে। যিনি বিশ্বাস করেন আঘাতে মানুষ ভেঙে যায় না, বরং বাঁচতেস শিখায় নতুন করে।

সম্পূর্ণ বিবরণ দেখুন →
শহীদ
#24
হুমায়ুন কবির

হুমায়ুন কবির

📍 জেলা: মুন্সিগঞ্জ

১৯৭৫ সালে মুন্সিগঞ্জের শ্রীনগরে জন্ম নেওয়া হুমায়ুন কবির সংগ্রামকে সঙ্গী করেই ঢাকায় ছোট্ট ফার্নিচারের ব্যবসা গড়ে তোলেন। তিন সন্তানের ভবিষ্যৎ আর দৃষ্টি–প্রতিবন্ধী ছোট ছেলের বিশেষ যত্নের দায় কাঁধে নিয়েই তিনি পরিবারের আশ্রয়স্থল হয়ে উঠেছিলেন। কিন্তু ২০২৪ সালের ৪ আগস্ট বৈষম্যবিরোধী মিছিলে সংহতি জানাতে গিয়ে যাত্রাবাড়ীতে পুলিশের গুলিতে তিনি গুরুতর আহত হন, বদলে যায় তার জীবনের গতি। দীর্ঘ চিকিৎসা, আর্থিক বিপর্যয় ও অবশ পায়ের যন্ত্রণা তার ব্যবসা ও স্বপ্ন দুটোকেই থামিয়ে দেয়। তবু হুমায়ুনের চোখে এখনো একটি বিশ্বাস জ্বলে—একদিন তিনি আবার দাঁড়াবেন, নিজের পরিবারের জন্য, নিজের স্বপ্নের জন্য।

সম্পূর্ণ বিবরণ দেখুন →
শহীদ
#25
মহিউদ্দিন আহমেদ পাটওয়ারী

মহিউদ্দিন আহমেদ পাটওয়ারী

📍 জেলা: চাঁদপুর

১৯৮১ সালে চাঁদপুরের গ্রামে জন্ম নেওয়া মহিউদ্দিন আহমেদ পাটওয়ারী পরিশ্রম ও সততার পথ ধরে ঢাকায় গড়ে তুলেছিলেন সচ্ছল, শান্ত এক সংসার। প্রতিষ্ঠিত ডিরেক্টর ও উদ্যোক্তা হয়েও তিনি কখনো সাধারণ মানুষের কষ্ট থেকে চোখ ফেরাননি। কিন্তু ২০২৪ সালের ৪ আগস্ট যাত্রাবাড়ীর উত্তাল আন্দোলনে ভুল বোঝাবুঝির শিকার হয়ে ছাত্রদের হাতে মাথায় নির্মম আঘাতে তিনি আহত হন রক্ত, আতঙ্ক আর বিশৃঙ্খলার সেই দিনটি আজও তাকে তাড়া করে। অপারেশন ও দীর্ঘ চিকিৎসার পরও মাথাব্যথা আর মানসিক ক্ষত তাকে প্রতিদিন স্মরণ করিয়ে দেয় সেই অমানবিক ভুলের মূল্য। তবুও তিনি দাঁড়িয়ে আছেন স্বাভাবিক জীবনে ফেরার চেষ্টা, পরিবারের হাসি রক্ষা এবং মানুষের ভিড়ে আবার নিরাপদ হয়ে বাঁচার আকাঙ্ক্ষা নিয়েই।

সম্পূর্ণ বিবরণ দেখুন →
শহীদ
#26
মো: হান্নান বেপারী

মো: হান্নান বেপারী

📍 জেলা: বরিশাল

১৯৯৪ সালে বরিশালের টুমচর গ্রামে জন্মগ্রহন করে দারিদ্র্যের মাঝেই বড় হওয়া হান্নান বেপারী ভাগ্য বদলানোর স্বপ্ন নিয়ে ঢাকায় এসে কারখানা শ্রমিকের কঠিন জীবনে নিজেকে সঁপে দেন। মাসে ১৫ হাজার টাকায় ছয় সদস্যের পরিবার চালানোই ছিল তাঁর নিত্য লড়াই, কিন্তু তবুও ন্যায়ের ডাকে তিনি পিছিয়ে যাননি। ২০২৪ সালের ৪ আগস্ট যাত্রাবাড়ীর বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনে শান্তিপূর্ণ অবস্থানে দাঁড়িয়ে থাকা সেই সাধারণ মানুষটি পুলিশের লাঠির আঘাতে রক্তাক্ত হয়ে লুটিয়ে পড়েন। মাথায় গুরুতর আঘাত তাকে আজ দুর্বল, স্মৃতিভ্রান্ত, অর্ধেক কর্মক্ষম করে তুলেছে যেন এক জীবন্ত ক্ষত, রাষ্ট্রীয় নিপীড়নের নীরব সাক্ষী হয়ে দাঁড়িয়ে। তবুও সন্তানদের জন্য, ভবিষ্যতের ক্ষীণ আলোর জন্য তিনি প্রতিদিন নিজেকে টেনে তোলেন আকাঙ্ক্ষা করেন আবার একদিন স্বাভাবিক জীবনে ফেরার।

সম্পূর্ণ বিবরণ দেখুন →
শহীদ
#27
মো: তানজিল

মো: তানজিল

📍 জেলা: ভোলা

২০০২ সালের নভেম্বরের কোমল ভোরে বরিশালের মাটিতে জন্ম নিয়েছিলেন মো. তানজিল। যার শেকড় ভোলার চর সুলতানীর নদীভাঙা নিঃশব্দ গ্রামজুড়ে ছড়িয়ে আছে। শৈশবেই বাবাকে হারিয়ে সংসারের বোঝা যখন কাঁধে নেমে আসে, তখনই তিনি বুঝেছিলেন বেঁচে থাকা মানেই প্রতিদিনের নতুন যুদ্ধ। ঢাকায় লিফট ইলেকট্রিশিয়ান হিসেবে কাজ করে মা ও চার বোনের জীবনে আলো ফিরিয়ে আনার চেষ্টাতেই ছিল তার সারাটি দিন। কিন্তু ২০২৪ সালের ১৯ জুলাই কদমতলী থানার সামনে আকস্মিক গুলিবর্ষণে তার তরতাজা জীবন মুহূর্তে থমকে যায় রক্ত, ব্যথা ও অনিশ্চয়তার এক দীর্ঘ অধ্যায়ে আটকে পড়েন তিনি। তবু ক্ষতবিক্ষত পা নয়, তানজিলের অদম্য মনোবলই বলে স্বপ্ন ভাঙলেও মানুষ ভাঙে না; সে আবারও উঠবে, আবারও বাঁচবে, নিজের পরিবারের জন্য।

সম্পূর্ণ বিবরণ দেখুন →
শহীদ
#29
মো: মনিরুজ্জামান মোল্লা

মো: মনিরুজ্জামান মোল্লা

📍 জেলা: বাগেরহাট

১৯৮২ সালে বাগেরহাটের স্নিগ্ধ গ্রামীণ প্রভাতে জন্ম নেওয়া মনিরুজ্জামান শৈশব থেকেই দারিদ্র্য, পরিশ্রম ও দায়িত্বকে নিত্যসাথী করে জীবনকে চিনেছেন নতুনভাবে। জীবিকার তাগিদে ঢাকায় এসে পত্রিকা বিক্রির মতো কঠিন পেশায় ঝাঁপিয়ে পড়েন পরিবারকে টিকিয়ে রাখাই ছিল তাঁর একমাত্র স্বপ্ন। কিন্তু ২০২৪ সালের ১৯ জুলাই কাজলায় আকস্মিক গুলিবর্ষণে বিধ্বস্ত হয় তাঁর জীবন; আহত বাম হাতের যন্ত্রণা আর অনিশ্চয়তার অন্ধকারে ডুবে যায় সংসারের ভবিষ্যৎ। তবুও তিনি থেমে যাননি ব্যথা, দুঃখ আর প্রতিকূলতার মাঝেও সন্তানের মুখের হাসি ধরে রাখতে আজও লড়ে যাচ্ছেন অক্লান্ত হৃদয়ে। এক সাধাসিধে হকারের ক্ষতবিক্ষত শরীর যেন নীরবে উচ্চারণ করে সংগ্রামী মানুষকে কখনো কোনো আঘাত সত্যিকার অর্থে পরাজিত করতে পারে না।

সম্পূর্ণ বিবরণ দেখুন →
শহীদ
#31
মিসেস মিনা

মিসেস মিনা

📍 জেলা: লালমনিরহাট

মিসেস মিনার জীবন যেন অবহেলা, দারিদ্র্য আর অন্যায়ের বিরুদ্ধে দাঁড়িয়ে থাকা এক নীরব শিখা। লালমনিরহাটের মাটিতে জন্ম নেওয়া এই নারী স্বামীর পরিত্যাগ আর দুই সন্তানের বোঝা বুকে নিয়ে ঢাকায় ক্লিনারের চাকরিতে বাঁচার লড়াই চালিয়ে গেছেন। ২০২৪-এর আন্দোলনে যাত্রাবাড়ীর মোড়ে তিনি প্রতিবাদীদের সঙ্গে দাঁড়াতেই স্থানীয় সন্ত্রাসীদের হামলায় গুরুতর আহত হন। দীর্ঘ চিকিৎসা, অপারেশন আর অনিশ্চিত দিন পেরিয়েও তিনি আজও দুই সন্তানের ভবিষ্যতের জন্য হাঁটছেন ব্যথা-বোঝাই পথে। তবুও হাল ছাড়েননি কারণ তার জীবন শেখায়, সাহসী মানুষের আলো অন্ধকারেও নিভে না।

সম্পূর্ণ বিবরণ দেখুন →
শহীদ
#32
ওমর ফারুক

ওমর ফারুক

📍 জেলা: বরিশাল

১৯৮৫ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি বরিশালের নিভৃত গ্রাম বাগধায় জন্ম নেওয়া ওমর ফারুক এক হাতেই সংসার, অন্য হাতে মানবতার প্রদীপ জ্বেলে এগিয়ে চলা এক অনমনীয় মানুষ। পেশায় কেয়ার গিভার হলেও তার আসল পরিচয় দুর্বল মানুষের পাশে দাঁড়ানো এক সাহসী নাগরিক। ২০ জুলাই ২০২৪-এর রক্তাক্ত হামলায় রাবার বুলেটে বিদ্ধ হলেও ন্যায়ের পথে তার দৃঢ়তা এক মুহূর্তও টলেনি। তিন সন্তানের ভবিষ্যৎ আঁকড়ে রাখা এই সংগ্রামী পিতা নিজের ক্ষতকে শক্তিতে রূপ দেন, আর ছড়িয়ে দেন মানবতার আলো। তার জীবন প্রমাণ করে সত্যের পথে হাঁটা মানুষকে থামানো যায় না, তারা নিজেরাই হয়ে ওঠে সমাজের অনুপ্রেরণা।

সম্পূর্ণ বিবরণ দেখুন →
শহীদ
#40
আব্দুল খালেক

আব্দুল খালেক

📍 জেলা: লক্ষ্মীপুর

লক্ষ্মীপুরের নয়নপুরে ১৯৯৮ সালের জানুয়ারিতে জন্ম নেওয়া আব্দুল খালেক পেশায় ছিলেন একজন ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী। যিনি ছিলেন পরিবারের নয়জনের ভরসা। দারিদ্র্যের ভিতর দিয়েই তিনি শিখেছিলেন সত্যের পাশে দাঁড়াতে, আর সেই বোধ থেকেই যুক্ত হন জুলাইয়ের আন্দোলনে। রায়েরবাগে রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাসী পুলিশের গুলিতে আহত হলেও নতি স্বীকার করেননি বরং অন্যায়ের মুখোমুখি দাঁড়ানো সাধারণ মানুষের প্রতীক হয়ে ওঠেন। আজও তাঁর সংগ্রাম অব্যাহত শুধু নিজের জন্য নয়, তিন মাস বয়সী কন্যা রুমাইয়া নূরের ভবিষ্যতের আলোর জন্য। তাঁর জীবন তাই এক বুলেটের ক্ষত নয়, বরং প্রতিরোধের মেরুদণ্ড হয়ে ওঠা এক সাধারণ মানুষের অনন্য ইতিহাস।

সম্পূর্ণ বিবরণ দেখুন →
শহীদ
#41
আলী মর্তুজা সাইমন

আলী মর্তুজা সাইমন

📍 জেলা: নোয়াখালী

আলী মর্তুজা সাইমন নোয়াখালীর কাশিপুরে ২০০৭ সালের ২৪ জুলাই জন্ম নেওয়া এক কিশোর। যার বয়স মাত্র সতেরো, তবু পরিবারের ছয় সদস্যের বোঝা তার কাঁধেই। কসমেটিক দোকানের কর্মচারী হিসেবে জীবন চালালেও অন্যায়ের সামনে মাথা নত করেননি। জুলাই ২০২৪-এর আন্দোলনে দাঁড়িয়েছিলেন নিপীড়িত মানুষের পাশে। নিউমার্কেটের রক্তাক্ত বিকেলে রাষ্ট্রীয় গুলিতে একটি চোখ হারিয়েও হারাননি সাহসের আলো। আজও ঝাপসা দৃষ্টি নিয়ে বাঁচছেন কিন্তু ন্যায়ের প্রতি তার অটল বিশ্বাস পুরো প্রজন্মের প্রতিরোধকে প্রজ্বলিত করে। তার জীবন তাই শুধু দুঃখের গল্প নয় অন্ধকার ভেদ করা এক কিশোরের দীপ্ত মানবিকতার ইতিহাস।

সম্পূর্ণ বিবরণ দেখুন →
শহীদ
#42
মো: হানিফ

মো: হানিফ

📍 জেলা: ভোলা

ভোলার নদীভাঙন এলাকা পেরিয়ে ঢাকায় এসে জীবনের হাল ধরে রাখা ভ্যানচালক মো: হানিফ জন্ম নেন ১৩ আগস্ট ১৯৮৬ সালে। এক পরিশ্রমী মানুষ, যার কাঁধে ছিল সাতজনের সংসারের ভার। জুলাই আন্দোলনের উত্তাল দিনে সাইন্সল্যাব মোড়ে তিনি কোনো স্লোগান দেননি, তবু রাষ্ট্রীয় হামলায় ভেঙে যায় তাঁর ডান হাত, থেমে যায় রুটি-রুজির পথ। নয় মাস শয্যাশায়ী থেকেও তিনি হার মানেননি। বাঁকা হাতেই আবার রিকশার হ্যান্ডেল ধরে দাঁড়িয়েছেন জীবিকার প্রয়োজনে। তাঁর সংগ্রাম শুধু চিকিৎসার জন্য নয়, বরং হাফসা, সিয়াম ও আকরামের ভবিষ্যৎ রক্ষার অদম্য প্রতিশ্রুতি। বিপ্লব শুধু মিছিলের নয় এটি প্রতিদিন উঠে দাঁড়ানো এক শ্রমজীবী মানুষের নীরব সাহসের নাম।

সম্পূর্ণ বিবরণ দেখুন →
শহীদ
#43
মো: নুরে আলম

মো: নুরে আলম

📍 জেলা: ঠাকুরগাঁও

ঠাকুরগাঁওয়ের কৃষক পরিবারের সন্তান মো: নুরে আলম জন্মেছিলেন ৬ মে ১৯৯৭ সালে—পেশায় এক নিঃশব্দ মেডিকেল কর্মচারী, ভেতরে ছিলেন বিবেকের দৃঢ় সৈনিক। ইবনে সিনা মেডিকেলে চাকরি করলেও মানুষের অধিকারের ডাক তাঁকে টেনে নেয় ২০২৪ সালের জুলাই আন্দোলনের উত্তপ্ত রাজপথে। সাইন্সল্যাবে সহযোদ্ধাকে বাঁচাতে এগিয়ে গিয়ে মাথায় ও শরীরে গুরুতর আঘাত পান, আর সেই ক্ষতচিহ্ন হয়ে ওঠে তাঁর ন্যায়বোধের স্থায়ী স্বাক্ষর। নিজের স্বপ্নের চেয়ে পরিবারের স্বপ্ন আগলে রাখা এই তরুণ আজও কাজের মাঝে বয়ে বেড়ান সেই দিনের ব্যথা, তবু বিশ্বাস হারাননি ন্যায়ের ভবিষ্যতে। নুরে আলম তাই শুধু আহত প্রতিবাদী নন—তিনি স্বাধীন নাগরিকের বিবেক জাগ্রত করার এক জীবন্ত ইতিহাস।

সম্পূর্ণ বিবরণ দেখুন →
শহীদ
#44
মো: মিজানুর রহমান

মো: মিজানুর রহমান

📍 জেলা: শরীয়তপুর

মো: মিজানুর রহমান শরিয়তপুরের তেলীপাড়ায় ১৯৯৯ সালের ৯ জুন জন্ম নেওয়া এক সাধারণ হাসপাতাল কর্মচারী, যিনি জুলাই আন্দোলনের রক্তাক্ত দিনগুলোতে হয়ে ওঠেন অন্যায়ের বিরুদ্ধে দাঁড়ানো এক নীরব প্রতীক। ধানমন্ডি ২৭ ও সাইন্সল্যাব মোড়ে পুলিশের ছিটা বুলেটে বিদ্ধ হয়ে শরীরে উনিশটিরও বেশি ক্ষত বয়ে বেড়ালেও তাঁর সাহস কোনদিন নত হয়নি। দুই দফা হামলায় চোখ ও দেহে স্থায়ী ক্ষত নিয়েও তিনি বিশ্বাস হারাননি ন্যায়বিচার একদিন ফিরবেই। পরিবার, স্ত্রী লামিয়া আক্তার ও ১৬ মাসের পুত্র লাবীদকে আশ্রয় করে বেঁচে থাকা এই তরুণ আজ রক্তাক্ত প্রজন্মের এক জীবন্ত ইতিহাস। তাঁর শরীরের প্রতিটি ক্ষত সাক্ষ্য দেয় সত্যের জন্য লড়াই করলে মানুষকে থামানো যায়, কিন্তু পরাজিত করা যায় না।

সম্পূর্ণ বিবরণ দেখুন →
শহীদ
#45
নেছার উদ্দিন (নাঈম)

নেছার উদ্দিন (নাঈম)

📍 জেলা: মাদারীপুর

মাদারিপুরের দক্ষিণ রমজানপুরে ১৯৮৫ সালের ৫ জানুয়ারি জন্ম নেওয়া শিক্ষক নেছার উদ্দিন (নাঈম) ছিলেন এক নীরব স্বপ্নবান মানুষ, যিনি বনশ্রীর প্রাইভেট স্কুলে শিক্ষার্থীদের শুধু পাঠই নয় মানুষ হওয়ার পথ শেখাতেন। ২০২৪ সালের জুলাই আন্দোলনের উত্তপ্ত বিকেলে তিনি দাঁড়িয়েছিলেন নিরস্ত্র নাগরিকের পাশে, আর সেই মুহূর্তেই রাষ্ট্রীয় গুলি তাঁর বাম পায়ের হাঁটুর নিচে ভেঙে দেয় হাড়, ভেঙে দেয় জীবনের স্বাভাবিক চলন। দীর্ঘ চিকিৎসা, চারটি অস্ত্রোপচার ও এক বছরের যন্ত্রণার মাঝেও তিনি হারাননি মনের আলো এখনো চান সমাজের কাজে যুক্ত থাকতে, দাঁড়িয়ে থাকতে নীতির পাশে। নিরীহ শিক্ষক থেকে গুলিবিদ্ধ প্রতিবাদী হয়ে উঠা নেছার উদ্দিন আজ রক্তাক্ত সময়ের এক প্রতীক যেখানে সাহসের প্রদীপ জ্বলে ওঠে অক্ষমতার অন্ধকারেও।

সম্পূর্ণ বিবরণ দেখুন →
শহীদ
#46
মো: আরিফ হোসেন

মো: আরিফ হোসেন

📍 জেলা: পটুয়াখালী

পটুয়াখালী জেলার বাউফল উপজেলার ইন্দ্রকুল গ্রামে ১৯৯৮ সালের ১ জানুয়ারি জন্ম মো: আরিফ হোসেনের। এক শ্রমজীবী মানুষের সরল আশা নিয়ে ঢাকায় একটি ডেভলপার কোম্পানিতে দারোয়ান হিসেবে সততা ও দায়িত্ববোধেই ছিল তাঁর বেঁচে থাকা। কিন্তু ২০২৪ সালের জুলাই আন্দোলনের দিনে ঝিগাতলার রাস্তায় কর্তব্যরত অবস্থায় ছাত্রলীগ ও পুলিশের গুলিতে মাথা ও হাতে বিদ্ধ হয়ে তাঁর জীবন এক মুহূর্তে থমকে যায়। দীর্ঘ চিকিৎসা, অস্ত্রোপচার আর অসহ্য ব্যথা সত্ত্বেও তিনি আজও সংগ্রাম করে চলেছেন নিজের মায়ের ও তিন বোনের ভবিষ্যতের জন্য। নিরীহ একজন শ্রমিক থেকে রাষ্ট্রীয় সহিংসতার রক্তাক্ত সাক্ষী হয়ে ওঠা আরিফ বাংলাদেশের অসংখ্য নিঃশব্দ মানুষের একটি প্রতীক, যাদের ব্যথা প্রমাণ করে অন্যায়ের গুলিও মানুষের আশা থামাতে পারে না।

সম্পূর্ণ বিবরণ দেখুন →
শহীদ
#47
আবদুল্লাহ আহমাদ

আবদুল্লাহ আহমাদ

📍 জেলা: মাদারীপুর

আবদুল্লাহ আহমাদ এর জন্ম মাদারীপুরের শিবচরের রাজারচর মৃধাকান্দি গ্রামে ২০০৭ সালের ১০ এপ্রিল। আবদুল্লাহ আহমাদ ছিল এক স্বপ্ন বুকে নেওয়া কিশোর, যার লক্ষ্য ছিল সেনাবাহিনীতে যোগ দিয়ে দেশের জন্য জীবন উৎসর্গ করা। আদমজী ক্যান্টনমেন্ট কলেজের মেধাবী দ্বাদশ শ্রেণির এই ছাত্র নিয়ম, শৃঙ্খলা ও অধ্যবসায়ের প্রতীক হয়ে উঠেছিলেন সহপাঠীদের কাছে। কিন্তু ২০২৪ সালের ৪ আগস্ট বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনে অংশ নেওয়ার সময় পুলিশের কাভার্ড ভ্যান তাঁর পায়ের ওপর তুলে দিলে ছিঁড়ে যায় লিগামেন্ট থেমে যায় তার স্বপ্নের দিগন্ত। সাতটি অস্ত্রোপচার, মাসের পর মাস হাসপাতালের বিছানা আর অচল পায়ের যন্ত্রণা সত্ত্বেও তাঁর চোখে আজও টিকে আছে একটাই আলো ন্যায়ের প্রতীক্ষা। আবদুল্লাহ আজ সেই তরুণদের প্রতীক, যাদের স্বপ্ন ভাঙা মানেই দেশের ভবিষ্যৎ আহত হওয়া।

সম্পূর্ণ বিবরণ দেখুন →
শহীদ
#50
বিল্লাল

বিল্লাল

📍 জেলা: ময়মনসিংহ

ময়মনসিংহের ফুলপুরের শান্ত বাশুয়া কবিরপুর গ্রামে ১৯৭০ সালের ৩০ ডিসেম্বর জন্ম নেওয়া বিল্লাল ছিলেন এক নীরব সংগ্রামী, যিনি টিউশনি করিয়ে সন্তানদের ভবিষ্যৎ গড়ে তুলতেন। দারিদ্র্য ছিল তাঁর শৈশবের সঙ্গী কিন্তু আত্মসম্মান ছিল তাঁর সবচেয়ে বড় সম্পদ। ২০২৪ সালের ২০ জুলাই বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের দিনে ছাত্রলীগ ও পুলিশের গুলিতে আহত হয়ে তিনি এক মুহূর্তেই কর্মহীন হয়ে পড়েন। দীর্ঘ চিকিৎসা, অপারেশনের যন্ত্রণা আর উপার্জনহীনতার কঠিন বাস্তবতার মধ্যেও তিনি আজও পরিবারের টিকে থাকার দৃঢ় আশ্রয়। নিরীহ এক গৃহশিক্ষক থেকে রাষ্ট্রীয় সহিংসতার রক্তাক্ত সাক্ষী হয়ে ওঠা বিল্লালের জীবন নীরব মানুষের ন্যায়বিচারের দাবিকে আরও তীক্ষ্ণ করে তোলে।

সম্পূর্ণ বিবরণ দেখুন →
শহীদ
#51
মো: লাবীব হাসান

মো: লাবীব হাসান

📍 জেলা: শেরপুর

মো: লাবীব হাসান শেরপুরের মালোজিকান্দা গ্রামের নিভৃত সুধায় ২০১৩ সালের ৪ মে জন্ম নেওয়া এক নিষ্পাপ শিশু। যার পরিচয় শুধু একজন স্কুলছাত্র। দিনমজুর বাবার ঘামে আর মায়ের পরিশ্রমে গড়ে ওঠা তার ছোট্ট পৃথিবীটি ২০২৪ সালের ১৯ জুলাই ভেঙে পড়ে পুলিশের বেপরোয়া গুলিতে, যখন ব্যাগ কাঁধে বাড়ি ফিরছিল সে। গুলিবিদ্ধ দেহ, থমকে যাওয়া পড়াশোনা আর ভয়াবহ মানসিক আঘাত আজো তাকে তাড়া করে, যেন শিশুকালের রঙ হারিয়ে গেছে যন্ত্রণার অন্ধকারে। তবু লাবীবের জীবন এক প্রশ্নের উজ্জ্বল প্রতিচ্ছবি রাষ্ট্রের অস্ত্র কি কখনও একটি শিশুর স্বপ্নকে নিভিয়ে দিতে পারে?

সম্পূর্ণ বিবরণ দেখুন →
শহীদ
#52
মো: শহিদুল ইসলাম

মো: শহিদুল ইসলাম

📍 জেলা: সিরাজগঞ্জ

সিরাজগঞ্জের দৌলতপুরে ১৯৮৩ সালের ৬ জুন জন্ম নেওয়া মো: শহিদুল ইসলাম জীবনের কঠিন বাস্তবতা থেকে শিখেছেন পরিশ্রমই মানুষের সম্মান। ঢাকার রাস্তায় ফেরি করে মাঠা বিক্রি করে পরিবার চালালেও তিনি ছিলেন আত্মমর্যাদায় অটল, সন্তানদের ভবিষ্যৎ গড়ার স্বপ্নেই দিন কাটত তাঁর। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট যাত্রাবাড়ীর আন্দোলন মুহূর্তে পুলিশের গুলি তাঁর শরীরে বিদ্ধ হলে থেমে যায় কর্মজীবনের তাল, শুরু হয় দীর্ঘ চিকিৎসা ও সংগ্রামের পথ। বহু হাসপাতাল ঘুরে আজও পুরোপুরি সুস্থ নন তিনি, তবুও মনোবল হারাননি পরিবারের জন্য লড়াইয়ের সংকল্পে। শহিদুল ইসলাম শুধু এক আহত ফেরিওয়ালা নন তিনি ন্যায়ের আকাঙ্ক্ষায় অটুট এক সাধারণ মানুষের অসাধারণ প্রতিচ্ছবি।

সম্পূর্ণ বিবরণ দেখুন →
শহীদ
#55
মো: মেহেদী হাসান শুভ

মো: মেহেদী হাসান শুভ

📍 জেলা: ঝালকাঠি

ঝালকাঠির নৈকেঠি গ্রামে ২০০৬ সালে জন্ম নেওয়া মো: মেহেদী হাসান শুভ ছিলেন এক পরিশ্রমী ইলেকট্রিক মিস্ত্রি, যাঁর হাতের কাজই ছিল পরিবারের ভরসা। ঢাকায় দিনমজুর জীবনের সংগ্রাম সামলাতে সামলাতে গড়েছিলেন নিজের স্বপ্নের পথ। কিন্তু ১৯ জুলাই ২০২৪ যাত্রাবাড়ীর বৈষম্যবিরোধী শান্তিপূর্ণ আন্দোলনে পুলিশি গুলিতে তাঁর পায়ের হাড় চূর্ণ হয়ে যায়, থেমে যায় জীবন-জীবিকার গতিপথ। তবু শুভ আজ দুঃখের প্রতীক নন তিনি অন্যায়ের বিরুদ্ধে দাঁড়ানো তরুণ প্রজন্মের সাহস, যে বেদনার মূল্যেও স্বাধীনতার নতুন অর্থ খুঁজে পেয়েছে। তাঁর ক্ষত আমাদের সমাজের বিবেককে জাগিয়ে রাখার নীরব শপথ।

সম্পূর্ণ বিবরণ দেখুন →
শহীদ
#56
আহসান হাবীব

আহসান হাবীব

📍 জেলা: চাঁদপুর

চাঁদপুরের কচুয়ার পালাখাল গ্রামের সন্তান আহসান হাবীব। তিনি একজন শ্রমজীবী মানুষ, যিনি দুই সন্তানকে নিয়ে গড়ে তুলছিলেন ছোট্ট একটি স্বপ্নের সংসার। দিনমজুরির ঘামে পরিবার বাঁচানো এই সাধারণ মানুষটি ১৯ জুলাই ২০২৪-এ যাত্রাবাড়ীর বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনে দাঁড়িয়েছিলেন ন্যায়ের পক্ষে আর সেদিনই সন্ত্রাসীদের গুলিতে তাঁর বাম পায়ের হাড় ও স্নায়ু চূর্ণ হয়ে যায়। দীর্ঘ চিকিৎসা, অচল জীবন আর কর্মহীনতার পরেও তিনি আজও পরিবারের ভবিষ্যৎকে আঁকড়ে বেঁচে থাকার লড়াই চালিয়ে যাচ্ছেন। তাঁর গল্প তীব্র অবিচারের বিরুদ্ধে দাঁড়ানো এক নিরীহ নাগরিকের বেদনামাখা দলিল, যা মানবিক সমাজের দায়িত্ববোধকে প্রশ্নের মুখে দাঁড় করায়।

সম্পূর্ণ বিবরণ দেখুন →
শহীদ
#58
মো: মনিরুজ্জামান

মো: মনিরুজ্জামান

📍 জেলা: বাগেরহাট

বাগেরহাটের দশানী গ্রামের সন্তান মো: মনিরুজ্জামান। জন্ম ২২ ডিসেম্বর ১৯৯৪, শেয়ার মার্কেট পেশায় স্বপ্নবান এক যুবক, যার লক্ষ্য ছিল আর্থিক স্বনির্ভরতা ও নিজস্ব ব্যবসা গড়ে তোলা। ২০২৪ সালের ২০ জুলাই বৈষম্যবিরোধী শান্তিপূর্ণ আন্দোলনে যোগ দিতে গিয়ে তিনি আওয়ামী কর্মী ও পুলিশের গুলিতে গুরুতর আহত হন। ভেঙে যায় পায়ের হাড়, ক্ষতিগ্রস্ত হয় স্নায়ু, আর চলার সঙ্গী হয় একখানা লাঠি। দীর্ঘ চিকিৎসা ও আর্থিক সংকটে আজ তিনি পেশাহীন। তবু ভেতরের দৃঢ়তা এখনো নতুন শুরুর অপেক্ষায়। নিঃশব্দ সংগ্রামের এই মানুষটি প্রমাণ করে দিয়েছেন একটি গুলি শরীর ভাঙতে পারে, কিন্তু ন্যায়ের স্বপ্ন ভাঙতে পারে না।

সম্পূর্ণ বিবরণ দেখুন →
শহীদ
#61
মো: মামুন

মো: মামুন

📍 জেলা: ভোলা

বৈষম্য মানি না, মাথা নত করি না”—এই মূলমন্ত্র বুকে ধারণ করেই ২০২৪ সালের ১৮ জুলাই রাজপথে নেমেছিলেন ভোলার চরফ্যাশনের সাহসী যুবক, মিনি পিকআপ চালক মো. মামুন। রাজনীতির সাথে সম্পর্কহীন মামুনের একমাত্র পরিচয় ছিল তিনি একজন শ্রমজীবী, যিনি কেবল বৈষম্যমুক্ত এক বাংলাদেশের স্বপ্ন দেখেছিলেন। যাত্রাবাড়ী ফ্লাইওভারে সেই রক্তঝরা বিকেলে পুলিশের গুলিতে মামুনের চোখ, মুখ ও মাথায় বিঁধে যায় অসংখ্য পিলেট। ছিন্নভিন্ন হয়ে যায় তার স্বপ্ন। চিকিৎসার নামে সরকারি টালবাহানা আর গ্রেপ্তারের আতঙ্ক মাথায় নিয়ে দীর্ঘ ১০ মাস তিনি লড়াই করেছেন মৃত্যুর সাথে। ৮ বার অস্ত্রোপচার হলেও আজও তার দেহে রয়ে গেছে ৯টি পিলেট; এক চোখে শুধু আলো-আঁধারির আভাস, অন্য চোখে তীব্র যন্ত্রণা। পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম মামুন আজ আর স্টিয়ারিং ধরতে পারেন না। মাতুয়াইলে একটি ছোট চায়ের দোকানে এখন তার জীবন সংগ্রাম চলে। অভাবের তাড়নায় ছোট বোন লামিয়ার পড়াশোনাও বন্ধ। মামুন নিজের দৃষ্টি বিসর্জন দিয়ে আমাদের দেখিয়েছেন স্বাধীনতার নতুন সূর্য। এই অকুতোভয় বীরের উন্নত চিকিৎসা ও পুনর্বাসন নিশ্চিত করা আমাদের জাতীয় দায়িত্ব।

সম্পূর্ণ বিবরণ দেখুন →
শহীদ
#62
মো: রাফিদ

মো: রাফিদ

📍 জেলা: মুন্সিগঞ্জ

স্বাধীনতার রক্তিম সাক্ষী: শিশু রাফিদের গল্প “আহতরাই জানে, স্বাধীনতার পথ কখনো নির্বিচারে আসে না”—এই ধ্রুব সত্যের এক জীবন্ত ও করুণ প্রতিচ্ছবি ৯ বছর বয়সী শিশু মো. রাফিদ। মুন্সিগঞ্জের বালিগাঁও গ্রামের সন্তান রাফিদ, ঢাকার যাত্রাবাড়ীতে পরিবারের সাথে থেকে মাদ্রাসায় হিফজ বিভাগে পড়াশোনা করছিল। তার বাবা পাভেল হোসেন ভাড়ায় চালিত অটোরিকশা চালিয়ে ১০-১৫ হাজার টাকায় অতি কষ্টে চারজনের সংসার টেনে নিচ্ছিলেন। ২০২৪ সালের ২০ জুলাই রায়েরবাগ ফুটওভার ব্রিজ এলাকায় এক বিভীষিকাময় পরিস্থিতির মুখোমুখি হয় শিশুটি। শিক্ষক ও বন্ধুদের সাথে দাঁড়িয়ে থাকা অবস্থায় কোনো উসকানি ছাড়াই পুলিশ ও ছাত্রলীগ বাহিনীর নির্বিচার গুলিবর্ষণের শিকার হয় সে। একটি রাইফেলের গুলি সরাসরি তার ডান পায়ে বিঁধে যায় এবং শর্টগানের গুলিতে ক্ষতবিক্ষত হয় বাম পা। যন্ত্রণায় ছটফট করা এই শিশুটিকে যখন ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়, সেখানেও জোটে পুলিশি হয়রানি ও গ্রেপ্তারের হুমকি। ছেলের জীবন বাঁচাতে ও পুলিশের হাত থেকে বাঁচতে পরিবারটি তাকে বাসায় নিয়ে চিকিৎসা করাতে বাধ্য হয়। চিকিৎসার ব্যয় মেটাতে রাফিদের বাবা তার আয়ের একমাত্র উৎস অটোরিকশাটি বিক্রি করে দেন। আজ অটোরিকশা নেই, আয় নেই; আছে শুধু রাফিদের পায়ের তীব্র যন্ত্রণা আর দুঃসহ স্মৃতি। হিফজ পড়ুয়া রাফিদ আজ পঙ্গুত্বের আশঙ্কায়। যে শিশুটি পবিত্র কুরআনের হাফেজ হওয়ার স্বপ্ন দেখছিল, তার সেই স্বপ্ন আজ অনিশ্চিত। একটি ন্যায়ভিত্তিক সমাজ ও দ্বিতীয় স্বাধীনতার জন্য এই অবোধ শিশুর আত্মত্যাগ জাতির বিবেকের কাছে এক বিশাল প্রশ্নচিহ্ন

সম্পূর্ণ বিবরণ দেখুন →
শহীদ
#63
মো: আমিনুল ইসলাম

মো: আমিনুল ইসলাম

📍 জেলা: পটুয়াখালী

আমি ১৯৭১ দেখিনি, কিন্তু ২০২৪-এর স্বাধীনতা নিজ চোখে দেখেছি”—পটুয়াখালীর সন্তান, ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের মেধাবী ছাত্র ও শিক্ষক মো. আমিনুল ইসলামের এই উক্তি আজ এক ঐতিহাসিক দলিল। ১৭ জুলাই থেকে ৫ আগস্ট পর্যন্ত ঢাকার রাজপথে তিনি ছিলেন এক নির্ভীক যোদ্ধা। শনির আখড়া থেকে শাহবাগ—প্রতিটি রণক্ষেত্রে তিনি প্রত্যক্ষ করেছেন স্বৈরাচারের বর্বরতা, হেলিকপ্টার থেকে গুলিবর্ষণ আর সহযোদ্ধাদের শাহাদাত। ৫ আগস্ট সকালে যখন সারা দেশ বিজয়ের প্রহর গুনছে, তখন ঢাকা কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার এলাকায় পুলিশের অতর্কিত গুলিবর্ষণে আমিনুলের শরীরে বিঁধে যায় ২০টি ছররা গুলি। সেই রক্তাক্ত অবস্থায় তাকে শাহবাগ থানায় নিয়ে নির্যাতন করা হয়। দুপুরে স্বৈরাচারের পতনের পর মুক্তি পেলেও তার শরীরে রয়ে গেছে সেই দুঃসহ রাতের ক্ষত। আজও তার দেহের অভ্যন্তরে বিঁধে থাকা গুলিগুলো তাকে প্রতিনিয়ত যন্ত্রণার জানান দেয়। পেশায় শিক্ষক আমিনুল বর্তমানে অসুস্থ মা ও অভাবী পরিবারের একমাত্র আশার আলো। কিন্তু শরীরের ভেতরে থাকা এই ‘ধাতব বিষ’ এবং উপযুক্ত কর্মসংস্থানের অভাব তাকে এক অনিশ্চিত ভবিষ্যতের দিকে ঠেলে দিচ্ছে। বিপ্লবের এই অগ্রসেনানী কোনো করুণা নয়, বরং তার ত্যাগ ও মেধার মূল্যায়ন চান।

সম্পূর্ণ বিবরণ দেখুন →
শহীদ
#64
মো: বিল্লাল মিয়া

মো: বিল্লাল মিয়া

📍 জেলা: কিশোরগঞ্জ

কিশোরগঞ্জের হোসেনপুরের সাহসী যুবক মো. বিল্লাল মিয়া ছিলেন তার পরিবারের একমাত্র আশার প্রদীপ। ২০০০ সালে জন্ম নেওয়া বিল্লাল শৈশবেই পিতাকে হারিয়ে জীবন যুদ্ধের মুখোমুখি হন। দুই মেয়ে—সুমাইয়া (৭) ও মারিয়া (৪)-র সুন্দর ভবিষ্যৎ আর অসুস্থ মায়ের চিকিৎসার খরচ জোগাতে ঢাকার রাজপথে ভাড়ায় পিকআপ চালাতেন তিনি। ২০২৪ সালের ১৯ জুলাই; দিনটি ছিল বিল্লালের সাজানো সংসার তছনছ হয়ে যাওয়ার দিন। বিকেলে কাজ শেষে গ্যারেজে গাড়ি রেখে বাসায় ফেরার পথে যাত্রাবাড়ী থানার পুলিশ তাকে লক্ষ্য করে নির্বিচারে গুলি চালায়। একাধিক গুলি তার পেট, কোমর ও দুই পা ঝাঁঝরা করে শরীর ভেদ করে বেরিয়ে যায়। রাজপথে লুটিয়ে পড়া বিল্লালের রক্তে ভিজে যায় ঢাকার মাটি। এরপর শুরু হয় এক দীর্ঘ ও যন্ত্রণাদায়ক চিকিৎসার ইতিহাস। ঢাকা মেডিকেল থেকে মিটফোর্ড, এমনকি উন্নত চিকিৎসার জন্য সরকারি সহায়তায় তাকে থাইল্যান্ডে পাঠানো হয়। প্রায় ৮ লক্ষাধিক টাকা ব্যয় হলেও বিল্লালের শরীর এখন প্রায় সম্পূর্ণ অবশ। পঙ্গুত্বের এই নিষ্ঠুর বাস্তবতায় ঢাকার ভাড়া বাসা ছেড়ে এখন কিশোরগঞ্জের জরাজীর্ণ ভিটায় আশ্রয় নিয়েছে পরিবারটি। অর্থাভাবে বড় মেয়ে সুমাইয়ার স্কুলে যাওয়া বন্ধ হয়ে গেছে। বিল্লাল কোনো রাজনৈতিক কর্মী ছিলেন না, ছিলেন এক সাধারণ শ্রমজীবী। অথচ রাষ্ট্রযন্ত্রের নৃশংসতা তাকে আজ অন্যের ওপর নির্ভরশীল করে তুলেছে। একসময়ের উপার্জনক্ষম এই মানুষটি আজ এক নিঃসঙ্গ প্রতীক্ষায় প্রহর গুনছেন—কবে তিনি আবার সুস্থ হয়ে সন্তানদের স্কুলে পাঠাতে পারবেন।

সম্পূর্ণ বিবরণ দেখুন →
শহীদ
#65
মো: আবুল বাশার

মো: আবুল বাশার

📍 জেলা: শরীয়তপুর

আমার দায়িত্বই তো ওদের পাশে থাকা সন্তানদের ভবিষ্যৎ ও দেশের মানুষের অধিকার রক্ষায় ৫ আগস্টের সেই রক্তঝরা বিকেলে এভাবেই নিজের দায়িত্বের জানান দিয়েছিলেন শরীয়তপুরের সন্তান, পিকআপ চালক মো. আবুল বাশার। ১৯৮৫ সালে জন্ম নেওয়া বাশার অতি কষ্টে সংসার চালিয়েছেন, কিন্তু কখনো অন্যায়ের কাছে মাথা নত করেননি। ৫ আগস্ট ২০২৪; সারা দেশ যখন বিজয়ের আনন্দে ভাসছে, যাত্রাবাড়ী তখনো ছিল স্বৈরাচারের ঘাতক পুলিশের রণক্ষেত্র। বিকেল ৪টায় যাত্রাবাড়ী মোড়ে এক নারকীয় গুলিবর্ষণে বাশারের বাম পা ছিঁড়ে বিঁধে যায় ছররা গুলি। ছাত্রদের কাঁধে ভর করে হাসপাতালে পৌঁছালেও সুস্থতা এখনো সুদূর পরাহত। শরীরে বিঁধে থাকা ছররা গুলি আর ছিঁড়ে যাওয়া পেশি তাকে আজ পঙ্গুত্বের দিকে ঠেলে দিচ্ছে। যে পা দিয়ে তিনি পিকআপের প্যাডেল চেপে পরিবারের মুখে আহার তুলে দিতেন, সেই পা আজ কর্মহীন, যন্ত্রণাদগ্ধ। ষষ্ঠ শ্রেণিতে পড়ুয়া মেয়ে বুশরা আর প্রথম শ্রেণির ছেলে ওমর ফারুকের ভবিষ্যৎ আজ অন্ধকারে। অর্থাভাবে থমকে গেছে বাশারের চিকিৎসা, বন্ধ হওয়ার উপক্রম সন্তানদের পড়াশোনা। বাশার কোনো রাজনৈতিক পদধারী নন, কিন্তু তিনি সেই সাধারণ মানুষের প্রতিনিধি, যাদের রক্তে অর্জিত হয়েছে এই দ্বিতীয় স্বাধীনতা।

সম্পূর্ণ বিবরণ দেখুন →
শহীদ
#66
মো: ইমরান

মো: ইমরান

📍 জেলা: চাঁদপুর

সবাই যখন বিজয়ের আনন্দে ভাসছিল, আমার পৃথিবী তখন অন্ধকারে ঢেকে যাচ্ছিল”—এই নির্মম সত্যের সাক্ষী ১২ বছর বয়সী কিশোর মো. ইমরান। রাজধানীর কুতুবখালী উচ্চ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের অষ্টম শ্রেণির মেধাবী ছাত্র ইমরান, যার পৈতৃক নিবাস চাঁদপুরের হাইমচরে। ৫ আগস্ট ২০২৪; স্বৈরাচারের পতনের পর যখন সারা দেশ উৎসবে মাতোয়ারা, তখন যাত্রাবাড়ী থানা সংলগ্ন এলাকায় পুলিশের নির্বিচার গুলিবর্ষণে ক্ষতবিক্ষত হয় এই নিষ্পাপ শিশুটি। দুপুর ২টার দিকে আনন্দ মিছিলে থাকা অবস্থায় পুলিশের ছররা গুলি ইমরানের চোখ, মাথা ও সমস্ত শরীরে বিঁধে যায়। রক্তাক্ত ইমরান রাস্তায় লুটিয়ে পড়ে। মিটফোর্ড ও ঢাকা মেডিকেলে প্রাথমিক চিকিৎসার পর তার শরীর থেকে কিছু গুলি বের করা সম্ভব হলেও, মাথা ও চোখের গভীরে বিঁধে থাকা গুলিগুলো এখনো বের করা যায়নি। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, এগুলো বের করা অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। বর্তমানে ইমরান চোখে ঝাপসা দেখছে এবং তীব্র মাথাব্যথায় ভুগছে। যে দুচোখ দিয়ে সে আগামীর স্বপ্ন দেখত, সেই চোখ দুটি আজ অন্ধত্বের পথে। ইমরানের বাবা রুহুল আমিন একজন টাইলস মিস্ত্রী। তার সামান্য আয়ে সাত সদস্যের পরিবারের ভরণপোষণই যেখানে অসম্ভব, সেখানে ইমরানের দীর্ঘমেয়াদী চিকিৎসার খরচ মেটাতে গিয়ে পরিবারটি আজ নিঃস্ব। অভাবের তাড়নায় ইমরানের বড় দুই ভাইয়ের উচ্চশিক্ষা বন্ধ হয়ে গেছে। সিএমএইচ-সহ বিভিন্ন হাসপাতালে দৌড়াদৌড়ি করেও ইমরানের চোখের স্থায়ী কোনো সমাধান মেলেনি। ইমরান আজ শুধু শারীরিক যন্ত্রণায় নয়, মানসিক ট্রমাতেও ভুগছে। মাঝরাতে পুলিশের গুলির শব্দ মনে করে সে আঁতকে ওঠে। এই অবোধ শিশুর ত্যাগের বিনিময়ে আসা স্বাধীনতা আজ তার পরিবারের কাছে কেবলই এক অনিশ্চিত ভবিষ্যৎ আর পাহাড়সম ঋণের বোঝা

সম্পূর্ণ বিবরণ দেখুন →
শহীদ
#67
 মো: শাহীন

মো: শাহীন

📍 জেলা: কুমিল্লা

“ছবি নেই বলে আমি কি আন্দোলনে ছিলাম না? আমার শরীরের এই বুলেটের ক্ষত কি মিথ্যা?”—এক বুক হাহাকার নিয়ে এই প্রশ্নটিই আজ সমাজের কাছে রাখছেন কুমিল্লার মুরাদনগরের সন্তান মো. শাহীন। পেশায় রিকশাচালক শাহীন ৫ আগস্ট ২০২৪; খুনি হাসিনার পতনের দিনে বিজয় মিছিলে যোগ দিয়েছিলেন নিজের ছেলেকে সাথে নিয়ে। বিকেল ৪টায় যাত্রাবাড়ী ফ্লাইওভারের নিচে পুলিশের গুলিতে তার কোমর ও উরু ঝাঁঝরা হয়ে যায়। আহত শাহীনকে ঢাকা মেডিকেলে ১২ আগস্ট পর্যন্ত চিকিৎসা দেওয়া হলেও তার লড়াই শেষ হয়নি। ৮ সদস্যের বিশাল পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম এই মানুষটি আজ পঙ্গুপ্রায়। রিকশা চালানো তো দূরের কথা, ঠিকমতো সোজা হয়ে দাঁড়াতেও পারেন না তিনি। অভাবের তাড়নায় ১১ বছরের ছেলে সাইফুল আজ পড়াশোনা ছেড়ে দোকানের কর্মচারী, আর বড় ছেলে হাসান পরিবারের হাল ধরতে বিদেশে যাওয়ার ব্যর্থ চেষ্টা চালাচ্ছে। সবচেয়ে বড় ট্র্যাজেডি হলো, শাহীনের আহত হওয়ার কোনো ছবি বা ভিডিও নেই। এই এক অজুহাতে সরকারি তালিকার বাইরে রয়ে গেছেন তিনি। কোনো সাহায্য বা স্বীকৃতি পাননি এই অকুতোভয় বাবা। যে দেশের স্বাধীনতার জন্য তিনি নিজের রক্ত দিলেন, সেই দেশ আজ তাকে কেবল ‘ছবি নেই’ বলে পরিচয়হীন করে রেখেছে।

সম্পূর্ণ বিবরণ দেখুন →
শহীদ
#68
মো: রিপন হোসেন

মো: রিপন হোসেন

📍 জেলা: মুন্সিগঞ্জ

অপারেশনের পরেও চোখে কোনো দৃষ্টি ফেরেনি। যখন জিজ্ঞেস করি—দেখা যাবে না কেন? ডাক্তাররা বলেন, আল্লাহর ওপর ভরসা রাখেন।”—এক বুক হাহাকার নিয়ে কথাগুলো বলছিলেন মুন্সীগঞ্জের সিরাজদিখানের সন্তান মো. রিপন হোসেন। ১৯৮৯ সালে জন্ম নেওয়া রিপন হোসেন ছিলেন একজন পেশাদার পিকআপ চালক। বাবা-মা হারানো এই লড়াকু যুবক ২৫ হাজার টাকা আয়ে স্ত্রী ও তিন সন্তানের সংসার সুখে আগলে রেখেছিলেন। ২০২৪ সালের ১৯ জুলাই; বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে একাত্মতা জানাতে রায়েরবাগ এলাকায় মিছিলে যোগ দেন তিনি। দুপুর ৩টার দিকে কদমতলী থানার ছাদ থেকে পুলিশের ছোড়া একটি গুলি সরাসরি বিঁধে যায় রিপনের বাম চোখে। মুহূর্তেই তার চিরচেনা পৃথিবী অন্ধকারে ঢেকে যায়। জাতীয় চক্ষু বিজ্ঞান ইনস্টিটিউটে অস্ত্রোপচার করে গুলি বের করা হলেও, সেই চোখের দৃষ্টিশক্তি আর ফিরে আসেনি। আজ রিপন কর্মহীন। যে হাত স্টিয়ারিং ধরে তিন সন্তানের অন্নসংস্থান করত, সেই হাত আজ অন্যের কাছে সাহায্যের জন্য প্রসারিত। ৫ম ও ১ম শ্রেণিতে পড়ুয়া সন্তানদের পড়াশোনা বন্ধের উপক্রম। অভাবের তাড়নায় ধুঁকছে পুরো পরিবার। এক চোখের আলো হারিয়ে রিপন এখন শুধু অন্ধকার দেখছেন না, দেখছেন সন্তানদের অনিশ্চিত ভবিষ্যৎ।

সম্পূর্ণ বিবরণ দেখুন →
শহীদ
#69
মো: শাকিব হোসেন

মো: শাকিব হোসেন

📍 জেলা: শেরপুর

বুক পেতে দিয়েছি স্বাধীনতার তরে, ভয় নেই আর মরণে”—এই অদম্য সাহস নিয়ে ১৯ জুলাই ২০২৪-এর উত্তাল দুপুরে রাজপথে নেমেছিলেন শেরপুরের সাহসী যুবক মো. শাকিব হোসেন। রাজধানীর একটি ইলেকট্রনিক্স দোকানের সাধারণ কর্মচারী শাকিব তার সামান্য আয়ে বৃদ্ধ রিকশাচালক বাবা ও গৃহকর্মী মায়ের সংসারে জোগান দিতেন সচ্ছলতার আলো। কিন্তু সেই বিকেলেই এক বুলেটে নিভে যায় তার কর্মচঞ্চল জীবনের ছন্দ। ঢাকার কাজলা এলাকায় শান্তিপূর্ণ আন্দোলনে অংশ নেওয়ার সময় পুলিশের একটি গুলি শাকিবের ডান কাঁধ দিয়ে ঢুকে পিঠ দিয়ে বেরিয়ে যায়। মুহূর্তেই নিথর হয়ে রাস্তায় লুটিয়ে পড়েন তিনি। ঢাকা মেডিকেলে প্রাথমিক চিকিৎসার পর শুরু হয় আরেক দুঃসহ অধ্যায়। অসুস্থ শরীরে বাসায় ফেরার পর ডিবি পুলিশের জেরা ও গ্রেপ্তারের আতঙ্কে সঠিক সময়ে হাসপাতালে যাওয়ার সাহসটুকুও হারিয়ে ফেলেছিলেন তিনি। এক রক্তাক্ত ক্ষত নিয়ে বাড়িতেই কাটাতে হয় বিভীষিকাময় দিনগুলো। পরবর্তীতে রাজনৈতিক আশ্রয় ও হলি ফ্যামিলি হাসপাতালে অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে প্রাণে বেঁচে ফিরলেও শাকিব আজ পঙ্গুপ্রায়। যে হাত দিয়ে তিনি যন্ত্রপাতির কাজ করে পরিবারের অন্ন জোগাতেন, সেই হাত আজ অকেজো। ১৫,০০০ টাকার টানাপোড়েনের সংসারে শাকিব এখন পরিবারের বোঝা হয়ে দাঁড়িয়েছেন। তার বৃদ্ধ বাবা-মায়ের কাঁধে এখন পাহাড়সম ঋণের বোঝা আর ছেলের অনিশ্চিত ভবিষ্যতের দুশ্চিন্তা।

সম্পূর্ণ বিবরণ দেখুন →
শহীদ
#70
জুবাইর আহমেদ

জুবাইর আহমেদ

📍 জেলা: কিশোরগঞ্জ

“পিপাসার্তদের পানি দিয়েছিলাম, বিনিময়ে পেলাম পা লক্ষ্য করে বুলেট” কিশোরগঞ্জের মিঠামইনের প্রত্যন্ত গ্রাম যাদবপুরের সন্তান জুবাইর আহমেদের এই আর্তনাদ আজ জুলাই বিপ্লবের এক করুণ ইতিহাস। ২০০২ সালে জন্ম নেওয়া জুবাইর অভাবের তাড়নায় ৫ম শ্রেণির পর আর পড়তে পারেননি। পরিবারের মুখে দুমুঠো অন্ন জোগাতে ঢাকায় এসে হোটেলের খাবার পরিবেশনকারী হিসেবে কাজ শুরু করেছিলেন। ১৯ জুলাই ২০২৪; রামপুরা বনশ্রী এলাকায় যখন ছাত্র-জনতার ওপর রাষ্ট্রীয় বাহিনীর তাণ্ডব চলছিল, তখন জুবাইর ঘরে বসে থাকতে পারেননি। নিজের জীবনের ঝুঁকি নিয়ে তিনি আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের মাঝে পানি বিতরণ করছিলেন। ঠিক সেই মুহূর্তে ছাত্রলীগ-যুবলীগ ও পুলিশের যৌথ হামলায় একটি বুলেট তার ডান পা ভেদ করে বাম পায়ে গিয়ে বিঁধে যায়। রক্তাক্ত জুবাইর লুটিয়ে পড়েন রাজপথে। ঢাকা মেডিকেলে অস্ত্রোপচার করে গুলি বের করা হলেও জুবাইরের জীবন থেকে স্বস্তি কেড়ে নিয়েছে সেই একটি মুহূর্ত। চিকিৎসার ৪ লক্ষ টাকা জোগাড় করতে গিয়ে তার নিঃস্ব পরিবার আজ ঋণের সাগরে ডুবে গেছে। যে পায়ে ভর দিয়ে জুবাইর হোটেলের এ টেবিল থেকে ও টেবিলে খাবার পৌঁছে দিতেন, সেই পা আজ অচল। অর্থাভাবে উন্নত চিকিৎসা বন্ধ হওয়ায় বর্তমানে তিনি শয্যাশায়ী। কিশোর বয়সেই কর্মক্ষমতা হারিয়ে জুবাইর আজ এক অনিশ্চিত ভবিষ্যতের মুখে দাঁড়িয়ে।

সম্পূর্ণ বিবরণ দেখুন →
শহীদ
#71
নুর উদ্দিন

নুর উদ্দিন

📍 জেলা: ঢাকা

“সন্তানদের মানুষ করার স্বপ্ন বুকে নিয়েই প্রতিদিন কাজে বের হই, ২০ জুলাই সেই বুকেই বিঁধেছিল ঘাতকের বুলেট”—ফেনীর সোনাগাজীর সাহসী সন্তান নুর উদ্দিনের জীবন আজ এক জীবন্ত ত্যাগগাথা। ১৯৮৩ সালে জন্ম নেওয়া নুর উদ্দিন রাজধানীর যাত্রাবাড়ীর দনিয়ায় বসবাস করে ‘আবেদ প্রডাক্টস’ নামক কার্টুন ফ্যাক্টরিতে শ্রমিকের কাজ করতেন। ২৫ হাজার টাকা আয়ে স্ত্রী ও দুই সন্তানের ভবিষ্যৎ গড়তে দিনরাত পরিশ্রম করতেন তিনি। ২০২৪ সালের ২০ জুলাই; বিকেলে কর্মস্থল থেকে ফেরার পথে শনির আখড়া ব্রিজের ওপর ছাত্র-জনতার উত্তাল মিছিলে শামিল হন তিনি। বিকেল ৫টা ৩০ মিনিটে কোনো আগাম সতর্কতা ছাড়াই পুলিশ ও আওয়ামী ক্যাডাররা ভবনগুলোর ছাদ থেকে নির্বিচারে গুলি ছুড়তে শুরু করলে একটি বুলেট নুর উদ্দিনের বুক বিদীর্ণ করে ভেতরে ঢুকে যায়। রক্তে রঞ্জিত নুর উদ্দিন রাজপথে লুটিয়ে পড়লে সহযোদ্ধারা তাকে কাকরাইল ইসলামিয়া হাসপাতালে নিয়ে যান। দীর্ঘ অস্ত্রোপচার ও চিকিৎসার পর নুর উদ্দিন প্রাণে বেঁচে ফিরলেও তার জীবন আর আগের মতো নেই। ১ লক্ষ ২০ হাজার টাকা ঋণের বোঝা নিয়ে তিনি এখন বড়ই অসহায়। বুকে বুলেটের গভীর ক্ষত নিয়ে আগের মতো ভারী কাজ করতে পারছেন না। যদিও ফ্যাক্টরি কর্তৃপক্ষ জুলাই বিপ্লবের বীর হিসেবে তাকে সম্মানের সাথে চাকরিতে বহাল রেখেছে, কিন্তু শারীরিক দুর্বলতা তাকে প্রতিনিয়ত যন্ত্রণার জানান দেয়। অষ্টম শ্রেণিতে পড়ুয়া মেয়ে সানিয়া আর হিফজ পড়ুয়া ছেলে নুর হোসেনের ভবিষ্যৎ আজ এই ক্ষতবিক্ষত বুকের ওপরই নির্ভর করছে।

সম্পূর্ণ বিবরণ দেখুন →
শহীদ
#72
মো: রিয়াজ মোর্শেদ (অপু)

মো: রিয়াজ মোর্শেদ (অপু)

📍 জেলা: ভোলা

ইতিহাসের পাতায় কিছু নাম শুধু পরিচিতি নয়, বরং একটি সময়ের আর্তনাদ ও সাহসিকতার প্রতীক হয়ে থাকে। তেমনই এক নাম মো. রিয়াজ মোর্শেদ (অপু)। ২০০০ সালে ঢাকায় জন্ম নেওয়া অপুর শিকড় ভোলার বোরহানউদ্দিনে। অভাবের সংসারে ৫ জন ভাই-বোনের মধ্যে অপু ছিলেন পরিবারের অন্যতম আশার প্রদীপ। বাবার সাথে কাঁধ মিলিয়ে ভাড়ায় গাড়ি চালানো আর ভিভো মোবাইল কোম্পানিতে কাজের মাধ্যমে সাত সদস্যের অভাবী সংসারকে আগলে রেখেছিলেন তিনি। ২০২৪ সালের ১৮ জুলাই; জুলাই বিপ্লবের এক রক্তঝরা বৃহস্পতিবার। সন্ধ্যা ৭টায় যাত্রাবাড়ী থানা সংলগ্ন কাঁচাবাজারের সামনে যখন বৈষম্যবিরোধী ছাত্র-জনতার মিছিল চলছিল, তখন রাষ্ট্রের নির্দয় পুলিশ ও আওয়ামী সন্ত্রাসীদের ছররা গুলিতে বিদীর্ণ হয় অপুর দেহ। একটি জ্বলন্ত ছররা গুলি সরাসরি তার ডান চোখকে ছিন্নভিন্ন করে দেয়। সেই রাতে রক্তভেজা শরীরে ঢাকা মেডিকেল থেকে জাতীয় চক্ষু বিজ্ঞান ইনস্টিটিউট—প্রতিটি দরজায় কড়া নেড়েও ভাগ্যের নির্মমতায় সময়মতো চিকিৎসা পাননি তিনি। অবহেলা আর গ্রেফতারের আতঙ্কে সেই রাতে অপুর পৃথিবী চিরতরে অন্ধকারে ঢেকে যেতে শুরু করে। এ পর্যন্ত তিনটি জটিল অস্ত্রোপচার হলেও অপুর ডান চোখের দৃষ্টি ফেরেনি। রেটিনা ও কর্নিয়ার মারাত্মক জখম নিয়ে তিনি এখন এক অসহ্য যন্ত্রণার জীবন অতিবাহিত করছেন। বাবার পিকআপ চালানোর সামান্য আয়ে যেখানে সংসার চলে না, সেখানে আরও দুটি ব্যয়বহুল অস্ত্রোপচারের (রেটিনা ও কর্নিয়া ট্রান্সপ্ল্যান্ট) খরচ জোগানো যেন পাহাড়সম বোঝা। একসময়ের কর্মঠ এই তরুণ আজ ঘরবন্দি, রোদে বের হতে পারেন না, ধুলোবালি তার জন্য বিষ। অপু ভিক্ষা চান না, তিনি চান চিকিৎসার সুযোগ আর মেধা অনুযায়ী একটি ডেস্ক-ভিত্তিক কর্মসংস্থান, যেন আবারও নিজের পায়ে দাঁড়িয়ে পরিবারের হাল ধরতে পারেন।

সম্পূর্ণ বিবরণ দেখুন →
শহীদ
#73
খলিল উল্যাহ রবিউল

খলিল উল্যাহ রবিউল

📍 জেলা: চাঁদপুর

“দেশের প্রয়োজনে যখন ছাত্ররা পথে নেমেছিল, একজন শ্রমিক হয়েও আমি ঘরে বসে থাকতে পারিনি। আজ আমার শরীরে বিঁধে থাকা বুলেটগুলো সেই অন্যায়ের সাক্ষী চাঁদপুরের নদীবিধৌত জনপদের সন্তান, সাহসী গার্মেন্টস কর্মী খলিল উল্যাহ রবিউলের এই জীবনগাথা আজ জুলাই বিপ্লবের এক অবিচ্ছেদ্য অংশ। ১৯৯৮ সালে জন্ম নেওয়া রবিউল অভাবের সংসারে হাল ধরতে ঢাকায় এসে গার্মেন্টসে কাজ শুরু করেছিলেন। সামান্য আয়ে নিজের খরচ চালিয়ে বৃদ্ধ বাবা-মা আর ছোট ভাইবোনের স্বপ্ন বুনে যাচ্ছিলেন এই তরুণ। ২০২৪ সালের ২০ জুলাই; জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের এক উত্তাল দিন। ঢাকার শনির আখড়া এলাকায় যখন ছাত্র-জনতার মিছিলে রাষ্ট্রীয় বাহিনী চড়াও হয়, তখন রবিউল ন্যায়ের পক্ষে ঢাল হয়ে দাঁড়িয়েছিলেন। সেই মিছিলে পুলিশের ছোড়া রাবার বুলেট রবিউলের বুক, পিঠ, পা আর হাতে বিঁধে যায়। একশরও বেশি বুলেটে ক্ষতবিক্ষত হয় তার শরীর। রূপসী বাংলা হাসপাতালে অস্ত্রোপচার করে প্রায় ৫০টি বুলেট বের করা সম্ভব হলেও, অর্থের অভাবে বাকি ৫০টিরও বেশি বুলেট আজও তার শরীরের ভেতরে বয়ে বেড়াচ্ছেন তিনি। চিকিৎসার ৭০ হাজার টাকা জোগাড় করতে গিয়ে তার নিঃস্ব পরিবার আজ ঋণের সাগরে নিমজ্জিত। শরীরের ভেতরে থাকা বুলেটের যন্ত্রণায় রবিউল আজ কর্মহীন। যে হাত দিয়ে তিনি গার্মেন্টসের সেলাই মেশিনে আগামীর স্বপ্ন বুনতেন, সেই হাত আজ যন্ত্রণায় অবশ। অভাবের তাড়নায় ছোট ভাইবোনের পড়াশোনা বন্ধের উপক্রম। রবিউল আজ শুধু শারীরিক যন্ত্রণায় নয়, পরিবারের ভবিষ্যৎ নিয়ে চরম মানসিক উদ্বেগে দিন কাটাচ্ছেন।

সম্পূর্ণ বিবরণ দেখুন →
শহীদ
#74
মো: আরিফ মিয়া

মো: আরিফ মিয়া

📍 জেলা: ব্রাহ্মণবাড়িয়া

বৈষম্যহীন আগামীর স্বপ্নে আহত এক সবজি বিক্রেতার জীবনসংগ্রাম: আরিফ মিয়া “আমার সন্তান মেধাবী হয়েও যদি ন্যায্য অধিকার না পায়, তবে তার পড়াশোনার সার্থকতা কোথায়?”—এই সাধারণ কিন্তু গভীর বোধ থেকেই ২০২৪ সালের ১৯ জুলাই রাজপথে নেমেছিলেন ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইলের সন্তান মো. আরিফ মিয়া। ঢাকার রায়েরবাগ এলাকায় ভ্যানে করে সবজি বিক্রি করে নয় সদস্যের বিশাল পরিবারের ঘানি টানতেন তিনি। রাজনীতির মারপ্যাঁচ না বুঝলেও, সন্তানদের ভবিষ্যতের জন্য একটি বৈষম্যহীন সমাজের স্বপ্ন তিনি দেখেছিলেন। ১৯ জুলাই দুপুর ২:৩০ মিনিটে রায়েরবাগ এলাকায় ছাত্র-জনতার মিছিলে পুলিশ ও আওয়ামী সন্ত্রাসীদের যৌথ হামলায় রণক্ষেত্রে পরিণত হয় রাজপথ। চোখের সামনে সহযোদ্ধাদের লুটিয়ে পড়তে দেখেও পিছু হটেননি আরিফ। ঠিক সেই মুহূর্তে একটি বুলেট তার ডান পায়ের হাঁটু বিদীর্ণ করে দেয়। মুগদা মেডিকেল হাসপাতালে অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে গুলি বের করা হলেও, আরিফের সচল জীবন থমকে যায় সেখানেই। অভাবের সংসারে চিকিৎসা করাতে গিয়ে প্রায় ৫০ হাজার টাকার ঋণের বোঝা চেপেছে তার কাঁধে। বর্তমানে তিনি দীর্ঘক্ষণ দাঁড়িয়ে থাকতে পারেন না, পিঠ ও কোমরের ব্যথায় ভারী কিছু বহন করা তার জন্য অসম্ভব। তার উপার্জনের একমাত্র মাধ্যম নিজস্ব ভ্যানটি নষ্ট হয়ে পড়ে আছে অর্থাভাবে। এখন অন্যের ভ্যান ভাড়া করে কোনোমতে টেনেটুনে দিন পার করছেন, যেখানে মাসিক আয় ১০ হাজার টাকারও নিচে নেমে এসেছে। ১০ ও ৬ বছর বয়সী দুই সন্তানের মাদ্রাসার খরচ আর পরিবারের অন্নসংস্থান করতে গিয়ে আরিফ এখন দিশেহারা।

সম্পূর্ণ বিবরণ দেখুন →
শহীদ
#75
মো: তানজিদ

মো: তানজিদ

📍 জেলা: শরীয়তপুর

“ মায়ের কষ্ট সইতে না পেরে ছোট বয়সেই গার্মেন্টসে ঢুকেছিলাম, একটা গুলি আমার সেই হাতটাকেই অকেজো করে দিল ” মানিকগঞ্জের হরিরামপুরের সন্তান, মাত্র ১৭ বছর বয়সী কিশোর মো. তানজিদ-এর এই আকুতি আজ জুলাই বিপ্লবের এক করুণ অধ্যায়। ২০০৭ সালে জন্ম নেওয়া তানজিদ ছোটবেলা থেকেই এক ভাঙা সংসারের যাতনা সয়ে বড় হয়েছেন। বাবা অন্যত্র বিয়ে করে চলে যাওয়ার পর মা স্মৃতি বেগম দুই সন্তানকে নিয়ে ঢাকার মাতুয়াইলে আশ্রয় নেন। মা ও ছেলে মিলে গার্মেন্টসে কাজ করে অভাবের সংসার টেনে নিচ্ছিলেন। ২০২৪ সালের ২৫ জুলাই; জুলাই আন্দোলনের সেই উত্তাল দিনগুলোতে তানজিদ ছিল এক সাধারণ পথচারী। সকাল ১০:৪৫ মিনিটে শনির আখড়া এলাকায় হেডফোন কিনতে বেরিয়ে ফুটওভার ব্রিজ পার হওয়ার সময় পুলিশ ও বিজিবির ছোড়া গুলি তার বাম হাতে বিদ্ধ হয়। রক্তাক্ত অবস্থায় সিঁড়িতে বসে থাকা এই কিশোরকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলেও, সেখানে তাকে পঙ্গুত্বের চেয়েও ভয়াবহ অভিজ্ঞতার মুখোমুখি হতে হয়। পঙ্গু হাসপাতালে ভর্তির জন্য ঘুষ দাবি, এমনকি চিকিৎসা শেষে রোগীকে স্বজনদের কাছে ফিরিয়ে দেওয়ার জন্যও বারবার ঘুষ আদায়ের মতো অমানবিক পরিস্থিতির শিকার হতে হয় তানজিদের পরিবারকে। অর্থাভাবে উন্নত চিকিৎসা করাতে না পেরে বর্তমানে তানজিদ প্রায় কর্মহীন। যে হাতে ভর দিয়ে সে মায়ের সংসারের হাল ধরেছিল, সেই হাতে এখন আর ভারী কোনো কাজ করা সম্ভব নয়। ৯,০০০ টাকা বেতনের সেই চাকরিটি আজ অনিশ্চিত, আর মায়ের একার আয়ে সংসার চালানো এখন অসম্ভব হয়ে দাঁড়িয়েছে।

সম্পূর্ণ বিবরণ দেখুন →
শহীদ
#76
লাভলু

লাভলু

📍 জেলা: খুলনা

“আমি শুধু পানি দিতে এসেছিলাম!”—এক বুক হাহাকার আর দেশপ্রেম নিয়ে ২০২৪ সালের ২০ জুলাই রাজপথে দাঁড়িয়ে এই আর্তনাদ করেছিলেন খুলনার রূপসার সন্তান মোঃ লাভলু। অভাবের তাড়নায় ছোটবেলায় ঢাকা আসা লাভলু রায়েরবাগ এলাকায় ভ্যান চালিয়ে স্ত্রী ও দুই সন্তানের স্বপ্ন বুনে যাচ্ছিলেন। রাজনীতি না বুঝলেও, ছাত্রদের ন্যায্য দাবির প্রতি সহমর্মিতা থেকে সেদিন বিকেলে তিনি নিজের সামর্থ্য অনুযায়ী পানি ও বিস্কুট নিয়ে পৌঁছে গিয়েছিলেন উত্তাল রায়েরবাগে। বিকেল ৫টা ৩০ মিনিটে যাত্রাবাড়ী থানার পুলিশের নির্বিচার গুলিবর্ষণে লাভলুর বাম পা বিদীর্ণ হয়ে যায়। রাজপথে লুটিয়ে পড়া লাভলুকে ঢাকা মেডিকেলে নেওয়া হলেও, চরম অব্যবস্থাপনা আর ভিড়ের কারণে উপযুক্ত চিকিৎসা মেলেনি। এককালের কর্মঠ এই মানুষটি আজ পঙ্গুত্বের অভিশাপে শয্যাশায়ী। অর্থাভাবে প্রয়োজনীয় ওষুধটুকুও কেনা সম্ভব হচ্ছে না। পরিবারের একমাত্র চালিকাশক্তি আজ অন্যের ওপর নির্ভরশীল। ফলে ১৩ বছরের কিশোর ছেলে নাজমুলকে আজ কলম ছেড়ে জুতার কারখানায় শ্রম দিতে হচ্ছে। লাভলুর আহত হওয়ার কোনো ভিডিও বা ছবি নেই—কেবল এই একটি কারণে আজ তিনি সরকারি তালিকার বাইরে, কোনো সহায়তা বা স্বীকৃতি পাননি। যে দেশের ছাত্রদের তিনি পানি খাইয়ে তৃষ্ণা মেটাতেন, আজ সেই দেশের কাছেই তিনি এক উপেক্ষিত যোদ্ধা।

সম্পূর্ণ বিবরণ দেখুন →
শহীদ
#77
আজিম ফকির

আজিম ফকির

📍 জেলা: বাগেরহাট

“শৈশবে বাবা-মাকে হারিয়েছি, যৌবনে স্ত্রী ছেড়ে গেছে, আর এখন রাষ্ট্র কেড়ে নিল আমার সচল শরীর”—বাগেরহাটের মোরেলগঞ্জের সন্তান মো. আজিম ফকিরের জীবনকাহিনি যেন এক বিষাদসিন্ধু। ১৯৮০ সালে জন্ম নেওয়া আজিম ফকির অভাবের তাড়নায় ঢাকায় এসে ভ্যানে ফল বিক্রি ও দিনমজুরের কাজ করে কোনোমতে জীবন অতিবাহিত করছিলেন। ৪ বছর আগে স্ত্রী চলে যাওয়ার পর তিন সন্তান নানা বাড়িতে থাকলেও, সন্তানদের মানুষ করার স্বপ্নে একাকী লড়ে যাচ্ছিলেন এই নিরন্তর শ্রমিক। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট; স্বৈরাচারের পলায়নের খবরে যখন সারা দেশ আনন্দ মিছিলে উদ্বেলিত, তখন কাজলা পেট্রোল পাম্প এলাকায় সেই উৎসবে শামিল হয়েছিলেন আজিম ফকির। বিকেল ৩:৩০ মিনিটে যাত্রাবাড়ী থানার পুলিশের অতর্কিত গুলিবর্ষণে তার শরীরের নিচের অংশ বিদীর্ণ হয়ে যায়। রক্তাক্ত অবস্থায় মাটিতে লুটিয়ে পড়া এই বয়োবৃদ্ধ শ্রমজীবী মানুষকে উপস্থিত জনতা উদ্ধার করে ক্লিনিকে নিয়ে যায়। গুলিবিদ্ধ হওয়ার পর থেকে আজিম ফকিরের জীবন বিষাদময় হয়ে উঠেছে। শরীরে গুলির ক্ষত ও তীব্র ব্যথার কারণে তিনি এখন আর ভারী কাজ করতে পারেন না। ১২ হাজার টাকার অনিয়মিত আয়ও এখন বন্ধের পথে। অর্থাভাবে উন্নত চিকিৎসা করাতে না পেরে বর্তমানে তিনি প্রায় পঙ্গু অবস্থায় কুতুবখালী এলাকায় একাকী দিন কাটাচ্ছেন। যে বাবার উপার্জনে দাখিল পরীক্ষার্থী রাকিব কিংবা ছোট সুমাইয়ার পড়াশোনা চলার কথা ছিল, সেই বাবা আজ চিকিৎসার অভাবে ধুঁকছেন। এই নিঃস্ব মানুষটির পাশে দাঁড়ানোর মতো আজ কেউ নেই।

সম্পূর্ণ বিবরণ দেখুন →
শহীদ
#78
মো: নজরুল

মো: নজরুল

📍 জেলা: পটুয়াখালী

২০২৪ সালের ২০ জুলাই যাত্রাবাড়ীর দনিয়া কলেজের সামনে পুলিশের গুলিতে বিদ্ধ হন দিনমজুর মো: নজরুল। রাজনীতিবিমুখ এই সাধারণ মানুষটি কেবল তিন সন্তান ও বৃদ্ধ বাবা-মায়ের মুখে আহার জোগাতে রিকশা নিয়ে বের হয়েছিলেন। অতর্কিত গুলিবর্ষণে মারাত্মক আহত হয়ে রাস্তায় লুটিয়ে পড়লেও প্রতিকূল পরিস্থিতিতে বড় হাসপাতালগুলো তাকে ফিরিয়ে দেয়। ফলে সুচিকিৎসার অভাবে বর্তমানে তিনি গুরুতর শারীরিক ও স্নায়বিক জটিলতায় ভুগছেন। পটুয়াখালীর গলাচিপার এই সংগ্রামী মানুষটি এখন কর্মহীন। দীর্ঘদিনের হাড়ভাঙা খাটুনিতে গড়া শরীর আজ যন্ত্রণায় পর্যুদস্ত। চিকিৎসার ব্যয় মেটাতে গিয়ে প্রায় ৭০ হাজার টাকা ঋণের বোঝা কাঁধে চেপেছে। রিকশা চালানোর শক্তি হারিয়ে তিনি এখন নিঃস্ব। তবুও দমে যাননি নজরুল; আত্মসম্মান নিয়ে বাঁচতে তিনি একটি ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার স্বপ্ন দেখেন। নজরুলের এই ত্যাগ আমাদের চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দেয় যে, রাষ্ট্র ও সমাজের আজ সময়ের দাবি—তার মতো নীরব যোদ্ধাদের পাশে দাঁড়িয়ে উপযুক্ত পুনর্বাসন ও ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা।

সম্পূর্ণ বিবরণ দেখুন →
শহীদ
#79
মো: রোমানুল ইসলাম

মো: রোমানুল ইসলাম

📍 জেলা: বাগেরহাট

বাগেরহাটের শরণখোলার এক লড়াকু তরুণ মো: রোমানুল ইসলাম। ১৯৯৯ সালে জন্ম নেওয়া এই যুবক যখন বিদেশের মাটিতে ক্যারিয়ার গড়ার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন, তখনই দেশের প্রয়োজনে রাজপথে নামার ডাক আসে। ২০২৪ সালের ২১ জুলাই সন্ধ্যায় ঢাকার কুড়িল বিশ্বরোড ফ্লাইওভারের নিচে পুলিশের গুলিতে চিরতরে স্তব্ধ হয়ে যায় রোমানুলের রঙিন পৃথিবী। অসংখ্য ছররা গুলিতে তার ডান চোখের রেটিনা ও কর্নিয়া ছিন্নবিচ্ছিন্ন হয়ে যায়; নিজ হাতে ঝুলে পড়া রেটিনা চেপে ধরে তাকে ছুটতে হয়েছিল হাসপাতালের পথে। জাতীয় চক্ষু বিজ্ঞান ইনস্টিটিউটে দুই দফা জটিল অস্ত্রোপচার হলেও রোমানুলের ডান চোখের দৃষ্টি আর ফিরে আসেনি। বর্তমানে দুটি বুলেট তার চোখের স্নায়ুর গভীরে আটকে আছে, যা অপসারণ করা অসম্ভব। বাম চোখেও তিনি ঝাপসা দেখেন। বাবা হারানো এই তরুণের কাঁধে ছিল বিধবা মা ও ছোট ভাইয়ের দায়িত্ব। বেঙ্গল টিস্যুতে চাকরি এবং মধুর ব্যবসা করে যে সচ্ছলতার স্বপ্ন তিনি বুনেছিলেন, আজ তা অন্ধকারের অতলে। চিকিৎসার পেছনে প্রায় এক লক্ষ টাকা খরচ করে আজ তিনি নিঃস্ব ও কর্মহীন। রোমানুল গর্ব করে বলেন, “অন্যায়ের সামনে মাথা নোয়াইনি, এটাই বড় তৃপ্তি।” তবে এই নীরব যোদ্ধার দীর্ঘমেয়াদী চিকিৎসা, মাসিক ওষুধের খরচ এবং তার পরিবারের জন্য একটি নিরাপদ মাথা গোঁজার ঠাঁই নিশ্চিত করা এখন সময়ের দাবি। তার এই আত্মত্যাগ যেন কেবল ব্যক্তিগত ট্র্যাজেডি হয়ে না থাকে, বরং রাষ্ট্র ও সমাজের পক্ষ থেকে যথাযথ পুনর্বাসনের মাধ্যমে তিনি যেন আবারও সম্মানের সাথে বেঁচে থাকার পথ খুঁজে পান।

সম্পূর্ণ বিবরণ দেখুন →